• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কালের সাক্ষী ফেনীর চাঁদ গাজী ভূঁইয়া জামে মসজিদ  

  এস এম ইউসুফ আলী

  ফেনী

১৮ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৫৭
ফেনী
চাঁদ গাজী ভূঁইয়ার মসজিদ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফেনীর প্রাচীন স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ঐতিহাসিক চাঁদ গাজী ভূঁইয়ার মসজিদ। এটি চাঁদ খাঁ মসজিদ নামেও পরিচিত। হিজরি ১১১২ সালে চাঁদ গাজী ভূঁইয়া নামক এক ব্যক্তি ২৮ শতক জমির ওপর এ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মসজিদটির এক সারিতে তিনটি গম্বুজ রয়েছে, যার মধ্যে মাঝখানের গম্বুজটির আকার বড়। মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গম্বুজের ওপরে পাতা এবং কলসের নয়নাভিরাম নকশা করা হয়েছে।

এছাড়া একই ধরনের স্থাপত্যশৈলীর ১২টি মিনার রয়েছে। দরজার ওপরে টেরাকোটার নকশা রয়েছে। মসজিদের সামনের অংশে শ্বেতপাথরের নামফলকে এর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

মসজিদটি দৈর্ঘ্য ৪৮ ফুট ও প্রস্থে ২৪ ফুট এবং উচ্চতায় ৩৫ ফুট। দেয়ালগুলো বেশ চওড়া। মুসল্লিদের অজুর সুবিধার্থে ১৮ শতক জমিতে একটি পুকুর খনন করা হয়েছিল।

মসজিদের সামনে একটি মিনার রয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য মোগল স্থাপত্য নিদর্শনে তৈরি কারুকার্যখচিত দরজাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাঠের দরজা তৈরি করা হয়েছে। প্রাচীন মসজিদটির ভেতরে প্রবেশ করলে বিভিন্ন কারুকার্য চোখে পড়ে।

মসজিদের সামনের অংশে শ্বেতপাথরের নামফলকে আরবিতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ও কালেমা তাইয়্যেবা এবং ফারসি ভাষায় কবিতার ছন্দে মসজিদটির নির্মাণকারী ও হিজরি সালের বর্ণনা রয়েছে। মসজিদের ভেতরে শতাধিক এবং সামনে আরও কয়েকশ মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন। এ মসজিদে প্রতি বছর ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

কালের সাক্ষী মসজিদটি সংস্কারের অভাবে স্থাপত্য নিদর্শন বিলুপ্ত হওয়ার পথে। মসজিদের কোথাও কোথাও পালেস্তারা খসে পড়ছে। দেওয়ালে শেওলা উঠেছে। দেখা দিয়েছে ফাটল। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ভেতরে ঢোকে বলে জানান স্থানীয়রা।

চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদটি ১৯৮৭ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের গেজেটভুক্ত হয়। ১৯৯২ সালে প্রাচীন স্থাপত্য হিসেবে ঢাকা কেন্দ্রীয় জাদুঘর থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটির কিছু কিছু অংশের সংস্কার করা হয়। অর্থ সংকটে পুরোটা সংস্কার করা তখন সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন : ‘ইত্যাদি’ দেখে বাড়ি ফেরা হলো না মোটরসাইকেল আরোহীর

সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে মসজিদের কিছু সংস্কার কাজ হয়েছিল বলে মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে। তবে বর্তমানে মসজিদটি তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। দেওয়াল, গম্বুজ ও ছাদ শেওলা ধরে কালো হয়ে গেছে। নেই নিরাপত্তা দেওয়াল। মসজিদ কমপ্লেক্সের মধ্যে চাঁদগাজী ভূঁইয়া দারুল কুরআন নামে একটি নূরানি মাদরাসাসহ কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষালয়ও গড়ে উঠেছে।

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড