• সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

২০ ভাগ কাজ করে ৭০ শতাংশ বিল উত্তোলন

  সুমন খান, লালমনিরহাট

১৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:২৪
দৃষ্টিনন্দন পুকুর ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প
দৃষ্টিনন্দন পুকুর ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প (ছবি : দৈনিক অধিকার)

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দৃষ্টিনন্দন পুকুর ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ ২০ শতাংশ শেষ করেই ৭০ শতাংশ বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি অর্থ লুটপাটের কাজে সযোগিতা করেছেন উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রকাশ কান্তি রায়। 

এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রায় ২৬ লাখ টাকার প্রকল্পের ২০ ভাগ নির্মাণ কাজ করার বিপরীতে ১৮ লাখ টাকার বিল-ভাউচার দাখিল করে ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই সুবিধার টাকা বৈধ করতে তিনি এখন চিঠি চালাচালি করে প্রকল্পটি যেন এখানেই শেষ হয়ে যায়, সেই ফন্দি করছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে নলকূপ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে নানা অনিয়মের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন হাতীবান্ধা উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রকাশ কান্তি রায়। এছাড়া নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় ইতোমধ্যে ওই সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর চাকরি সংক্রান্ত একটি ফাইল আটক গেছে।

জানা গেছে, ওই উপজেলার ডাকবাংলোর পাশে জেলা পরিষদের একটি পুকুর খনন করে সেটি দৃষ্টিনন্দন করে ওই এলাকায় বসতবাড়িতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯০ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় শহিদ ব্রাদার্স নামে ঢাকা মতিঝিল এলাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেন শরিফুল হক শাকিল নামে লালমনিরহাটের এক ঠিকাদার। 

প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। ১৮০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও গত ১ বছরেও কাজের ২০ ভাগ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। অথচ ২০ ভাগ নির্মাণ কাজের বিপরীতে প্রায় ২৬ লাখ টাকার মধ্যে ১৮ লাখ টাকার বিল-ভাউচার দাখিল করে তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার। এ দিকে নিম্নমানের কাজ ও অপরিকল্পিতভাবে বোমা মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে গেছে পুকুরের পাড়। 

দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু কাজ হবে ততটুকু কাজের বিল দেবেন জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রকাশ কান্তি রায় সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ২০ শতাংশ কাজের জন্য প্রায় ৭০ শতাংশ বিল দিয়ে দিয়েছেন ওই ঠিকাদারকে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার শরিফুল হক শাকিল বলেন, বিভিন্ন কারণে কাজটি যথা সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। দুই-এক দিনের মধ্যে আবারও কাজ শুরু করা হবে। 

তবে এ বিষয়ে সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রকাশ কান্তি রায় জানান ভিন্ন কথা। তার দাবি, এ প্রকল্পের সফলতা দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া এই প্রকল্পের জন্য টাকা বরাদ্দ নেই। তাই মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যতটুকু হয়েছে সেখানেই শেষ। 

২০ ভাগ নির্মাণ কাজ হয়েছে কিন্তু ১৮ লাখ টাকার বিল দিলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকাশ কান্তি রায় বলেন, ঠিকাদার টাকা পেয়ে যে কাজ করবে না, তা ধারণাই ছিল না আমার।

আরও পড়ুন: ভৈরবে কিশোরী গণধর্ষণ, মামলা নিতে গড়িমসি

এ ব্যাপারে হাতীবান্ধার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, দীর্ঘ দিনেও ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করেছি।

লালমনিরহাট জেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুদ্দিন বলেন, সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রকাশ কান্তি রায় যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয়। আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। কাজ শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত বিল দেওয়ায় ওই সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর চাকরি সংক্রান্ত একটি ফাইল আটকে দেওয়া হয়েছে।  

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড