• শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ক্ষোভ থেকেই নাটোরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হত্যা 

  নাটোর প্রতিনিধি

১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:২১
নাটোর
বামে নিহত কামরুল ইসলাম ওরফে জাহিদ এবং ডানে হত্যাকারী মিনহাজ হোসেন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ক্যারম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং মনের ভেতর পুষে রাখা ক্ষোভ থেকেই হত্যা করা হয় রাজশাহী সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম ওরফে জাহিদকে। হত্যাকাণ্ডের চার দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করে শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এ তথ্য জানান।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সরকারি এনএস কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র মিনহাজ হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করার পর এই হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে। ইতোমধ্যে মিনহাজ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা।

মিনহাজ হোসেন সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। সে নানা বাড়ি নবীন কৃষ্ণপুর গ্রামে থেকে পড়াশোনা করে আসছিল।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, সদর উপজেলার হালসা বাজারে একদিন ভ্যানে ওঠা নিয়ে মিনহাজ হোসেনকে দুটি থাপ্পড় মারে কামরুল ইসলাম ওরফে জাহিদ। এরপর থেকেই মনের ভেতর পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বাড়তে থাকে মিনহাজের। গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কামরুল ইসলাম ওরফে জাহিদের প্রেমিকা সোনিয়ার সাথে দেখা করানোর কথা বলে নবীন কৃষ্ণপুর গ্রামের ইদুর মোড় থেকে কামরুলকে ডেকে ফাঁকা মাঠে নিয়ে যায় মিনহাজ। সেখানে মিনহাজ তার পকেট থাকা দা বের করে কামরুলের ঘাড়ে কোপ মারে। এতে কামরুল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মাটিতে পড়ে যায়, এরপর উপর্যুপরি কুপিয়ে কামরুল ইসলামকে হত্যা করে। কামরুলের বাম চোখ তুলে নিয়ে পুকুরে ফেলে মনের ক্ষোভ মেটায় মিনহাজ। এছাড়া লাশ বাঁশঝাড়ে ডালপালা দিয়ে ঢেকে লুকিয়ে রাখে। আর কামরুলের মোবাইল নিয়ে গিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ফেরত দিয়ে আসে মালিকের কাছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরেও মিনহাজ ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে কাল্পনিক গল্প বানিয়ে বিভিন্নজনকে পুলিশের সন্দেহভাজন করে তোলে। আমরা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। অহেতুকভাবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে জড়িয়ে না যায়। এজন্য প্রতিটি ঘটনা আমরা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করি। যাতে করে প্রকৃত অপরাধী আইনের আওতায় আসে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেটি তদন্ত করছে সদর থানার উপপরিদর্শক সামছুজ্জোহা।

আরও পড়ুন :তাহিরপুরে মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় শিশু খুন, আটক ২

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান মিয়া, ডিএসবির ডিআইও-১ ইব্রাহিম হোসেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈকত হাসান, সদর থানার ওসি তদন্ত ফরিদুল ইসলাম।

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড