• বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মুহুরী ও সিলোনীয়া নদী থেকে ফ্রি স্টাইলে বালু উত্তোলন

  এস এম ইউসুফ আলী, ফেনী

০৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০৪
উত্তোলনকৃত বালু স্তুপ
নদী থেকে উত্তোলনকৃত বালুর স্তূপ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফেনীর ফুলগাজীর মুহুরী ও সিলোনীয়া নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছে একটি চক্র। উপজেলার কোথাও সরকার নির্ধারিত কোনো বালু মহাল নেই। তারপরও চক্রটি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকায় বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে বালুর কারবার করছে। এতে একদিকে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নদী ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেলা ১২টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া এয়ার আহমদ ডিলার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে একটি পিকআপ এবং একটি পাওয়ার টিলারের ট্রলিতে বালু ভর্তি করে বিক্রি করা হচ্ছিল। বিক্রি করা ওই বালু ছাগলনাইয়ার করৈয়া এলাকায় যাচ্ছে।

বালু বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদারের ভাই টিপু জানান, প্রতিদিন অর্ধশত পিকআপ ও পাওয়ার ট্রলিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। প্রতি ঘনফুট ১০ টাকা হারে পিকআপ ভর্তি বিক্রি করা হয় ২ হাজার টাকায়।

স্থানীয়রা জানায়, মুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু তৎসংলগ্ন জমিতে স্তূপ করা হয়।

অন্যদিকে উল্টো চিত্র একই ইউনিয়নের দেড়পাড়া গ্রামে। সেখানে নদীর পাশে গাছ-গাছালি ঘেরা একটি জমিতে রাখা হয়েছে বালুর স্তূপ। সেখানে প্রবেশপথে একটি বাঁশ ফেলে রাখা হয়েছে। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে, এখানে বালুর কারবার হয়।

উত্তর শ্রীপুর নাপিতকোনা এলাকায় নৌকা দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। সেখানে কিছু বালু রাখা হয়েছে। অর্ডার পেলেই বালু তোলেন বলে জানিয়েছেন বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত চাঁন মিয়া। তিনি জানান, এখানে প্রতি ফুট বালু ১৩ টাকায় বিক্রি করা হয়।

এছাড়া মুন্সিরহাট ইউনিয়নের কমুয়া ও বদরপুরেও নৌকা দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হক ভূঞা রাশেদ ও সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার এসব বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর ইসলাম বলেন, বালু বিক্রি হচ্ছে আমি জানি, সবাই জানে। প্রশাসন মাঝে-মধ্যে ব্যবস্থা নিলে তারা পিছু হটে। এরপর আবার পুরোদমে বালুর কারবার শুরু হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. সাবিনা ইয়াছমিন জানান, উপজেলার কোথাও কোনো বালু মহাল নেই। তবুও বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত মঙ্গলবারও তিনি অভিযানে বের হয়েছেন। তবে কাউকে পাননি।

আরও পড়ুন: বরিশালে সাড়ে ৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানোর উদ্যোগ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেছি। বর্তমানে বালু উত্তোলন কিংবা বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। খবর পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও জেলা বালু মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড