• বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭  |   ১৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

খুলনায় আ. লীগের সম্মেলন, আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক পদ

  এম ডি অসীম, খুলনা

০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:২১
আওয়ামী লীগ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর ও জেলা কার্যালয় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

প্রায় পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতিতে খুলনা মহানগর ও জেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত। আর এবারই প্রথম একই দিনে এক সঙ্গে এবং একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে দলটির মহানগর ও জেলা ইউনিটের সম্মেলন। 

আগামী ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলনে প্রস্তুতি হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচনে ৩৬টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি করেছে। তবে মহানগরের পাঁচটি থানায় থাকছে আগের কমিটি। অপরদিকে ৯টি উপজেলার মধ্যে পাইকগাছা উপজেলা ছাড়া আর কোথাও নতুন কমিটি করতে পারেনি নেতাকর্মীরা। ফলে পুরাতন কমিটির সদস্যরাই সম্মেলনে কাউন্সিলর হিসেবে থাকছে।

খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করলেও দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া নেতাকর্মীদের আমলনামার হিসাব নিকাশ করছেন দলীয় হাইকমান্ড। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই ক্লিন ইমেজের নেতারা বসবেন খুলনা জেলা ও মহানগরের মসনদে।

এ দিকে, সম্মেলনকে ঘিরে যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই লক্ষ্যে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও সম্মেলনের সমন্বয় শেখ হেলাল উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যেই দলের অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিত নেতাদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় হাইকমান্ড নেতাদের অতীত কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ করছেন। তাই সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে চমক থাকারও ইঙ্গিত দিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের এই প্রাণপুরুষ।

তবে এবারে খুলনায় নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় হাইকমান্ড নেতাদের অতীত কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ করার ফলে বর্তমান নেতৃবৃন্দের অনেকেই আতঙ্কে রয়েছেন। যাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে তাদের পূর্বের আর্থিক অবস্থা এবং বর্তমান আর্থিক সম্পদের উৎস কী তা নিয়েও চলছে অনুসন্ধান। এমন খবরই পাওয়া গেছে দলের কেন্দ্রীয় একটি বিশ্বস্ত সূত্রে। শুধু তাই নয় বর্তমান সরকারের সফলতা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় বর্তমান নেতৃত্ব কেমন ভূমিকা রেখেছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে এবারের সম্মেলনে পছন্দের নেতাকে নির্বাচিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলনে সভাপতি পদে বর্তমানরাই থেকে যাচ্ছে- এমন অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেলেও, ক্লিন ইমেজ নিয়ে কে হচ্ছেন জেলা-মহানগরের সম্পাদক এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এ দিকে, সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে নগরীর যশোর রোডের মহানগর আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে গোপনে বৈঠক করে দল ভারী করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে সম্মেলনে পদ প্রত্যাশীরা ব্যাপক শোডাউন করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে নিজের ছবিসহ দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রতিচ্ছবি ঝুলিয়ে চালানো হচ্ছে প্রচারণা।

দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির। আর এর উদ্বোধন করবেন সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য। পাশাপাশি সম্মানিত অতিথি হিসেবে এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ এমপি।

অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, শ্রম ও কর্মস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নজান সুফিয়ান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় প্রমুখ। 

এ দিকে, আয়োজকেরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থাকায় কঠোর নিরাপত্তা থাকবে আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনে। পুলিশ-র‌্যাব ছাড়াও দলের তরুণ কর্মীদের দিয়ে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

জেলা আওয়ামী লীগ:

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর ১০ মাস পর ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর ৭০ সদস্যের জেলা কমিটি অনুমোদন পায়। ওই সময় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা অসুস্থ থাকায় সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ একক সিদ্ধান্তে দল পরিচালনা করতেন। এ দিকে, মোস্তফা রশিদী সুজা ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যু দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলে। এবার সম্মেলনের আগে জেলার একটিমাত্র উপজেলা পাইকগাছা ছাড়া আর কোনোটিতেই সম্মেলন করতে পারছে না জেলা কমিটি।

মহানগর আওয়ামী লীগ:

২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে তালুকদার আবদুল খালেক সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। মহানগর কমিটির এই শীর্ষ দুই নেতাই বর্তমানে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এ দিকে, কমিটির সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বর্তমানে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানকে গত সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দেওয়া এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা হওয়ার পর অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন তিনি।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড