• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শ্রমিক নেতা থেকে জহুর এখন শতকোটি টাকার মালিক!

চট্টগ্রাম নগরীতেই বিলাসবহুল ৬ বাড়ি

  অধিকার ডেস্ক

০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:১৩
আলোচিত পরিবহন নেতা জহুর আহমদ
আলোচিত পরিবহন নেতা জহুর আহমদ (দৈনিক অধিকার)

চট্টগ্রাম ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক ও কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের পদটিই যেন জহুরের জীবনের আলাদীনের চেরাগ। এই পদটিই যেন তার সম্পদ আহরণের জাদুর কাঠি।

অতি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা চট্টগ্রামের আলোচিত পরিবহন নেতা জহুর আহমদ অনেকটা রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছে সরকারি দলের পদ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া। 

জানা গেছে, দীর্ঘ ৩০ বছর তিনি এ সংগঠনটিতে নেতাগিরি করে চাঁদার টাকায় চট্টগ্রাম নগরীতে গড়ে তুলেছেন বিশাল সাম্রাজ্য।

তার এমন অনিয়মের পাহাড়ে খোদ সংগঠনের নেতারাও ক্ষুব্ধ। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি তো সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেননি। তাহলে এত সম্পদের মালিক হলেন কীভাবে?

তারা এসব সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানান। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে সত্যিকার অর্থে সফল করতে হলে দুর্নীতির এসব আগাছা ছেঁটে ফেলার কথাও জানান তারা।

তারা বলেন, শুধু ‘নেতাগিরি’ করেই চাঁদার টাকায় চট্টগ্রাম শহরেই গড়ে তুলেছেন ৬টি বিলাসবহুল বাড়ি। আরও নামে-বেনামে তার আছে বিপুল সম্পদ। কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরেও রয়েছে তার ২০ একরেরও বেশি জমি।

শুধু তাই নয়। স্বার্থের জন্য তার নিজের সংগঠনের নেতাদেরকেও ছাড় দেন না তিনি। ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান অ্যাসোসিয়েশনে কেউ তার বিরোধিতা করলে প্রয়োজনে তাকে জেল খাটাতেও ছাড়েন না তিনি। সুবিধাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত জহুর আহমদ বিএনপি আমলেও সমানে দাপট খাটাতেন।

সে সময়ে বিএনপি নেতার এক আত্মীয়কে ব্যবহার করেই তিনি বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনে নিজের রাজত্ব টিকিয়ে রাখেন।

সূত্র জানায়, পটিয়ার এক সাধারণ পরিবারের সন্তান জহুর আহমদ চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা শুরু করেন। এক পর্যায়ে ১টি ট্রাক দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন ও পরে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা-আবর্জনা টানার কাজ শুরু করেন তিনি। অথচ বর্তমানে তিনি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-লরিসহ অনেকগুলো গাড়ির মালিক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানে পণ্য পরিবহন ব্যবসা করে অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হলেও জহুর আহমদ দিনে দিনে আঙুল ফুলে কলাগাছ নয়, মহিরুহ ধারণ করেছেন। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে নেতাগিরি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনে সিন্ডিকেট বাণিজ্য করে।

৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কন্ট্রাকটর অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জহুর আহমদ সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেননি। আলাদিনের চেরাগও তার হাতে ছিল না।

মূলত ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান অ্যাসোসিয়েশনের নেতাগিরিকে পুঁজি করে পণ্য পরিবহনে সিন্ডিকেট বাণিজ্য ও জুলমবাজি করেই বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনেছেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহরের বন্দর থানাধীন গোসাইলডাঙ্গা এলাকাতেই রয়েছে জহুর আহমদের অন্তত ৬টি বাড়ি। এর মধ্যে গোসাইলডাঙ্গা ঠান্ডা মিয়া মসজিদের পাশে ২০ শতক জমির ওপর রয়েছে ৬ তলা বাড়ি। এ বাড়িতে তিনি নিজেই থাকেন।

একই এলাকায় বড়বাড়ির ভেতরে রয়েছে ১০ শতক জমির ওপর ৫ তলা বাড়ি। নিমতলা দিয়া পাড়ায় ছোট গলিতে ১০ শতক জমির ওপর রয়েছে ৫ তলা একটি বাড়ি। বড়পুল মইন্যার পাড়ায় রয়েছে ২০ শতক জমির ওপর তিন তলা বাড়ি। হালিশহর কুড়িপুকুর পাড়েও রয়েছে তার বাড়ি। এ ছাড়া রয়েছে তিনটি প্রাইভেট কার ও জিপ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক ও কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক সাবেক ও বর্তমান নেতা জানান, জহুরের বিরোধিতা করলেই তাকে মামলা দিয়ে জেল খাটানো হয়। মানিক লাল নামে সাবেক এক সাধারণ সম্পাদককে জহুর আহমদই মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৭ দিন জেল খাটান। ওই নেতা এখন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী।

অ্যাসোসিয়েশনে বর্তমানে তার সদস্যপদও নেই। অথচ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান না থাকলেও নিজের ভোটের জন্য অনেকের সদস্যপদ তিনি পকেট থেকে চাঁদা দিয়ে টিকিয়ে রেখেছেন।

জহুর আহমদ তার ছেলে মোরশেদ আলমকে দিয়ে বন্দরের সব ধরনের বড় বড় পণ্য চালান পরিবহন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। নেতার ছেলে হওয়ায় ওভার লোডেড পণ্য নিয়ে হাজার হাজার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বের হলেও ওই সব ট্রাক কেউ ধরে না। শুধু সাধারণ মালিকদের ট্রাকে ওভার লোড হলেই যত সমস্যা।

তারা বলেন, যে লোক একটি ট্রাক দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা সিটি কর্পোরেশনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতেন তার আজ এত বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ার ঘটনা যে কোনো বিচারে অবিশ্বাস্য।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য জহুর আহমদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ওডি/এমআই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড