• রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধামরাইয়ে বিরোধ রেখেই দল গোছাচ্ছে আওয়ামী লীগ

  ধামরাই প্রতিনিধি

০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১০
ঢাকা
বাম থেকে সাবেক এমপি এমএ মালেক ও বর্তমান এমপি বেনজির আহমদ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঢাকার ধামরাইয়ে দলীয় দ্বন্দ্ব নিরসনে বর্তমান এমপি ও সাবেক এমপিকে এক সঙ্গে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে সেই নির্দেশনা না মেনে ধামরাই উপজেলার সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিকে এড়িয়ে দলে বিরোধ রেখেই ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সম্মেলন করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি বেনজির আহমদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি এমএ মালেককে এড়িয়ে করা কমিটিতে দলে নবাগত ও সাবেক বিএনপি কর্মীদেরকে নেতৃত্বে আনছেন বর্তমান এমপি বেনজির আহমদ। এতে দলের বিরোধ নিষ্পত্তির জায়গায় বিরোধিতা বাড়ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ধামরাই আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আব্দুল লতিফ বলেন, ধামরাইয়ে দুই এমপির বিরোধিতা বহুদিনের। সাবেক এমপির সময়ে দল গোছানোর ফল হিসেবে ১৬ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীদের জয়লাভ ও পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল। ফলে এখন সংগঠন গোছাতে তাকে সঙ্গে রাখলে দল এগিয়ে যেত।

তিনি বলেন, দলের দুই নেতা একসঙ্গে চললে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতো। প্রবীণ নেতা হিসেবে বর্তমান এমপির সেই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না করে তিনি উপজেলার সভাপতিকে রেখেই যেভাবে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনেও ভূমিকা রাখছেন তা বিরোধিতাই বাড়াচ্ছে, কমাচ্ছে না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে, গত দুই মাসে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রায় সকল ওয়ার্ড কমিটিসহ পৌরসভায় বিভিন্ন এলাকার কমিটি ও বিভিন্ন ইউনিয়নে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সম্মেলনে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে এমপি বেনজির আহমদ ও তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু উপস্থিত থাকলেও অনেক সভার খবরই জানতেন না উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি এমএ মালেক। এছাড়া গঠন হওয়া কমিটিতে মালেকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জায়গা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

গঠিত হওয়া বিভিন্ন কমিটিতে সাবেক বিএনপি নেতা, মামলার আসামিরা জায়গা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধামরাই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হয়েছেন কামাল হোসেন। তিনি বিএনপির প্যানেল থেকে ওই ওয়ার্ডের নির্বাচিত কমিশনার ছিলেন। গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তিকে। অভিযোগ আছে চার বছর আগেও বিএনপি কর্মী ছিলেন তিনি। বিএনপির আন্দোলনের সময় ছাত্রদলের মিছিল থেকে আটক হয়েছিলেন কাদেরের ভাই ইমরান। একই ইউনিয়নে ছয় নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হয়েছেন মো. শামু ভান্ডারি ওরফে শামু। তার নামে রয়েছে খুনের মামলা। এরা সবাই স্থানীয় এমপি বেনজির আহমদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন বলেন, রাজনীতির মঞ্চে বিরোধ নেই। তবে সম্মেলনকে ঘিরে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা চলে, সেটা রয়েছে। সেভাবেই ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন শেষ করা হয়েছে।

ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলনে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু উপজেলা সভাপতিকে দেখা যাচ্ছে না।  এ বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক এমপির দেওয়া একটি মামলায় পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও একজন কাউন্সিলর হেনস্তার শিকার হন। পরে ভুক্তভোগীরা বিব্রত হয়ে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে সভা করে তার প্রতি অনাস্থা জানায়। এ কারণেই সাবেক এমপি নিজেকে সম্মেলন থেকে বিরত রাখছেন।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু বলেন, আমরা ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৬৩টি ওয়ার্ডে সুস্থ ও সুন্দর ভাবে সম্মেলন করতে সফল হয়েছি এবং ইউনিয়ন সম্মেলনেও প্রায় ১৩টি ইউনিয়নের সম্মেলন সমাপ্ত করেছি।

সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি এম এ মালেকের অনুপস্থিতির  কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চেয়ারম্যান ছোরহাব হেসেন, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু, পৌর মেয়র গোলাম কবির মোল্লা, পৌর কাউন্সিলর আরিফসহ দলীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে সাবেক এমপি এবং তার স্ত্রী। আগামী ৬ ডিসেম্বর ধামরাই উপজেলার সম্মেলনে যেন আমরা উপস্থিত না থাকতে পারি  সেই ষড়যন্ত্র করেছিল।

তিনি আরও বলেন, তাদের দল থেকে অব্যাহতি দিয়েই সকলের সম্মতিতে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক এমপি এবং তার স্ত্রীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি।

ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেছ হোসেন বলেন, তারা আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে আমরাও পাল্টা মামলা করব না। তারা যদি ভালো হয়ে দলে আবার ফিরে আসে তা হলে আমরা তাদের স্বাগত জানিয়ে গ্রহণ করব।

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, সেটা আমিও প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু তার মামা হচ্ছে জামাতের। মামা তো তার পরিবারের কেউ না। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি তার মামা যেন তার কাছ থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা না পায়।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মালেক বলেন, উপজেলায় সম্মেলনের জন্যে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তারা যখন দেখল তৃনমূলে আমার কর্মী সমর্থক বেশি তখন আমাকে বাদ দিয়েই তারা কমিটি গঠন করা শুরু করল। উপজেলায় এসে ওয়ার্ড কমিটি, ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলনে জেলা কমিটির সভাপতি উপস্থিত থাকেন আমাকে বাদ দিয়ে এবং অগঠনতান্ত্রিক উপায়ে কমিটি করে দেন। এভাবেই সব কমিটি করা হয়েছে। সভাপতিকে বাদ দিয়ে করা কমিটি অবৈধ। এসব কমিটি কোনো ভাবেই অ্যাপ্রুভাল পেতে পারে না।

তিনি বলেন, দলের বিরোধ নিরসনে আমরা বসেছি। আমি এমপি থাকাকালে মাঠের রাজনীতি করেছি সবাই একসঙ্গে। একারণেই একসঙ্গে ১৬টি ইউনিয়নে আমরা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলাম। এছাড়া পৌরসভায়ও আমরা বিজয়ী হতে পেরেছিলাম। দলকে সামনে এগিয়ে নিতে নিজেদের ঐক্যের বিকল্প নেই। তবে ঐক্যের নাম দিয়ে দলে বিএনপি, স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার বিরোধী আমি।

সম্মেলনে নিজের অনুপস্থিতির বিষয়ে এমএ মালেক বলেন, আমাকে এড়িয়ে কমিটি করা হচ্ছে। আমাকে সম্মেলনের কথা জানানো হয় না। সেখানে দলের গঠনতন্ত্রকে এড়িয়ে কমিটি করা হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করেছি বলেই আমাকে সাইড করে দেওয়া হয়েছে। পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ করে ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়েই কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও  ২ ডিসেম্বর উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নের সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কোনো কথা না বলে চলে যান ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধামরাই উপজেলার এমপি বেনজির আহমদ।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, জেলাগুলোকে বলা হয়েছে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য। এ থেকে যদি কেউ বাদ পড়ে তাহলে সেই সম্মেলন গ্রহণ করা হবে না।

ওডি/এমবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড