• বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা পরিণত হয়েছে ডাস্টবিনে

  কক্সবাজার প্রতিনিধি

০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:২৩
কক্সবাজার
ডাস্টবিনে পরিণত হওয়া ফুয়ারা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কক্সবাজারের টেকনাফ শহরের প্রবেশদ্বারে স্থাপন করা হয়েছে বর্ণিল এক ফোয়ারা। প্রতিদিন বিকাল ৪টার পর ফোয়ারা চালানো হতো। বিভিন্ন রঙের আলোয় এ ফোয়ারায় চলতো পানির নাচন। তবে বর্ণিল এ ফোয়ারার পরিপূর্ণ সৌন্দর্য এখন আর নেই। দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারাটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে।

পৌর কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে নয়নাভিরাম ফোয়ারাটি সৌন্দর্য হারিয়েছে। ফোয়ারাটি ডাস্টবিনে পরিণত হওয়ায় রীতিমত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পথচারী ও পর্যটকরা এখন ফোয়ারার বদলে শুধু ডাস্টবিন, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখতে পাচ্ছেন।

সরেজমিনে পরিদর্শন এবং পৌরবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পৌরসভার সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের আওতায় নিজস্ব অর্থায়নে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০৯ সালে সড়ক রাউন্ডিংসহ ফোয়ারাটি নির্মাণ করা হয়। সেই বছরের ১৪ এপ্রিল তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র মো. ইসমাঈল ফোয়ারাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সূত্র মতে, ফোয়ারার স্থানটি চৌরাস্তা হওয়ায় প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটত বলেই পৌর কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা রোধ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ফোয়ারাটি নির্মাণ করে। এতে দুর্ঘটনা কমলেও ফোয়ারার সৌন্দর্য রক্ষিত হয়নি।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শোভা বর্ধনকারী ফোয়ারাটি সচল রাখতে বিদ্যুতায়নের জন্য ফোয়ারার নামে এবি ব্যাংকের নিচে বিদ্যুতের মিটার রয়েছে। পাশাপাশি ফোয়ারাটিতে সার্বক্ষণিক পানির সরবরাহ করতে ওই ব্যাংকের পাশে গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি নিষ্কাশনে পাতাল ড্রেনও রয়েছে। সে সময়ে পৌর কর্তৃপক্ষ মাস্টার রোলে একজন সুইপার দিয়ে ফোয়ারাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী সাধারণত প্রতিদিন বিকাল ৪টার পরে ফোয়ারাটি চালু করে। তবে ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং এমপি-মন্ত্রীর টেকনাফ আগমনে বাড়তি সৌন্দর্যের জন্য ফোয়ারাটি চালু রাখে।

নির্মাণের পর তিন বছরই নিয়মিতভাবে নিজস্ব বিদ্যুৎ ও পানির সমন্বয়ে ফোয়ারাটি টেকনাফ শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে ভূমিকা রাখে। পরে নজরদারির অভাবে ধীরে ধীরে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারাটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ফোয়ারাটি ময়লা-আবর্জনা পচে রীতিমত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্টেশনের প্রবেশদ্বারে নির্মিত ফোয়ারাটি ডাস্টবিনে পরিণত হওয়ায় একদিকে যেমন সৌন্দর্য হারিয়েছে, অন্যদিকে পর্যটক ও সর্ব সাধারণের স্বাভাবিক চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

টেকনাফের বাসিন্দা ওমর ফারুক সোহাগ বলেন, সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ২০০৯ সালে একটি গভীর নলকূপসহ ফোয়ারা চত্বরটি নির্মাণ করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাস্টার রোলে একজন সুইপার নিয়োগ থাকলেও অজানা কারণে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা ডাস্টবিনে পরিণত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে এই ফোয়ারাটি।

তিনি বলেন, গতবছর এই ফোয়ারা ভেঙে আধুনিকায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু এবছরও কোন উদ্যোগ নেয় নি পৌর কর্তৃপক্ষ। পর্যটন মৌসুম দেশি-বিদেশী পর্যটক আসা শুরু করেছে। লোকজন ফোয়ারার সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে ময়লার ডাস্টবিন দেখছেন।

টেকনাফ শহরের প্রবেশদ্বারে নির্মিত ফোয়ারাটি সংস্কারের মাধ্যমে আলোকসজ্জা করলে আরও বেশী দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়বে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

পৌরবাসী এবং সচেতন মহল জরুরি ভিত্তিতে চলতি পর্যটন মৌসুমের শুরুতে টেকনাফ শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে নয়নাভিরাম ফোয়ারাটি সংস্কার করার জোর দাবি জানিয়েছে।

মেয়র হাজি মো. ইসলাম জানান, ফোয়ারা তথা ঝর্ণাটিকে সংস্কারের মাধ্যমে আবারো আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন উপায়ে এটি সংরক্ষণে পৌর বাসীকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে।

ওডি/এমবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড