• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রতিবন্ধীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

  ঝালকাঠি প্রতিনিধি

০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:০৪
ঝালকাঠি
সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘প্রতিবন্ধীরা পরিবার ও সমাজের বোঝা’ এমন ধারণার ব্যতিক্রম ঘটাতে প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।

‘তাদের প্রতি করুণা নয়, তারাও আমাদেরই’ এ উদ্দেশ্য নিয়ে পাঠদানসহ মানসিক বিকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে। শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুরা এখানে সুযোগ পাচ্ছে পড়ালেখা ও মানসিক বিকাশের। পড়াশুনার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য এই বিদ্যালয়ে শেখানো হচ্ছে নাচ, গান এবং খেলাধুলাও।

বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠার পর নয় বছর অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয়টি সরকারি রেজিস্ট্রেশন বা এমপিও ভুক্ত হয়নি। এমনকি দিনের পর দিন বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা। আছে অবকাঠামোগত সমস্যাও। তারপরও নিজেদের প্রচেষ্টায় সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম।

প্রতিবন্ধীদের অবহেলা বা করুণা নয়, সঠিক পরিচর্যাই তাদের দিতে পারে একটি স্বাভাবিক জীবন। আর এই লক্ষ্য নিয়েই ঝালকাঠিতে নানাবিধ সমস্যার মাঝেও এগিয়ে চলেছে সোসাইটি ফর দ্যা ইনটেলেকচুয়ালি ডিজেবল বাংলাদেশ-সুইডের উদ্যোগে পরিচালিত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ বিদ্যালয়টি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে বিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। তাই শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই কাজ করছেন বিনা বেতনে। আর অর্থাভাবে বিদ্যালয়ের চার তলা ভবনের নির্মাণ কাজও থমকে গেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, ব্যক্তিগত অনুদানে আমরা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ২০১১ সাল থেকে তারা বিনা বেতনে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান। এ সময় স্কুল চালানোর জন্য তারা সরকারি অনুদান দাবি করেন। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক।

সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুন্নেছা বেগম জানান, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন তথা এমপিও ভুক্তির জন্য আবেদন করা আছে। আশা করি শীঘ্রই বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবেদন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বেতন-ভাতা দেওয়ার বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার মুখার্জি জানান, ঝালকাঠি জেলায় বিভিন্ন বয়সী প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ রয়েছেন ১০ হাজার ৯শ ৯৯জন। তাদের মধ্যে ভাতা পাচ্ছেন পাঁচ হাজার ৬২১জন। যে সব পরিবার দুঃস্থ, অসহায় সে সব পরিবারের প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদানের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঝালকাঠি জেলায় মোট ভাতা ভোগীর সংখ্যা রয়েছেন ২৩ হাজার ৯৬৫ জন। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা পাচ্ছেন ঝালকাঠি জেলায় ১০ হাজার ৫০৭ জন। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে রেজিস্ট্রেশন ও এমপিওভুক্ত করণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলেও জানান উপপরিচালক।

'উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৩১ জুলাই ১২ শতাংশ জমিতে এই বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও দ্বিতল ভবন পর্যন্ত গিয়ে থমকে যায় নির্মাণ কাজ। চারতলা ভবনের পুরো নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট ১৮৫ জন বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিবন্ধী শিশু পড়ালেখার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপির সুযোগ পাচ্ছে।

ওডি/এমবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড