• মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পুলিশি পোশাক পরে ২৫ ভরি স্বর্ণ লুট!

  বরিশাল প্রতিনিধি

০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:১১
পুলিশ সুপার
ডাকাতির ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পুলিশের পোশাক পরে বরিশালের মুলাদী উপজেলায় বোমা ফাটিয়ে তিনটি স্বর্ণের দোকানসহ মোট চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাজারে প্রবেশের পথে চেক পয়েন্ট বসিয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি ডাকাতদল পুলিশের পোশাকে নৈশ প্রহরীদের জিম্মি করে এই স্বর্ণালঙ্কার লুট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ দিকে, খবর পেয়ে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে পিছু হটে পুলিশ।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) গভীর রাতে মুলাদী উপজেলার মুলাদী বাজারে দুর্ধর্ষ এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রতিরোধ গড়ে না তোলায় নির্বিঘ্নে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে দ্রুত সটকে পড়ে ডাকাতেরা।

এ ঘটনায় বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ২টার দিকে ডাকাতদল নদীপথে মুলাদী বাজারে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের পাঁচজনের গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল। পরে ডাকাত সদস্যরা নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে বাজারের কয়েকজনকে রহমাত স্টোর্স-এ নিয়ে গিয়ে আটক রাখে। এ সময় সাগর নামে একজন ব্যবসায়ী প্রতিবাদ করায় তাকে মারধরও করে ডাকাতেরা।

মুলাদী বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল পরবর্তীকালে ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু ডাকাতেরা তাদের লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। এ সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজনের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আর পুলিশ প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। তাদের অভিযোগ, পুলিশের এমন গাফিলতির কারণেই ডাকাতেরা স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল নিয়ে অতি সহজে চলে যেতে সক্ষম হয়েছে।

এ দিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা ধারণা করছেন, বাজারের পূর্ব দিকের সড়কের আধা কিলোমিটারের মাথায় নদী রয়েছে। ডাকাতেরা নদীপথে স্পিড বোটে এসে ডাকাতি করে আবারও একইভাবে চলে গেছে।

দুর্ধর্ষ এ ডাকাতির ঘটনায় মুলাদী বাজারের ‘রিতা জুয়েলার্স’, ‘বনশ্রী জুয়েলার্স’, ‘জননী জুয়েলার্স’ এবং ‘মেসার্স রহমাত স্টোর্স’-এর কমপক্ষে ২৫ ভরি স্বর্ণসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে ডাকাতেরা। এর মধ্যে রিতা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী সুরেস কর্মকার বলেন, দুর্ধর্ষ এই ডাকাতির ঘটনায় তার দোকানের সাত থেকে আট ভরি স্বর্ণ লুটে নেওয়া হয়েছে। 

এ দিকে, ডাকাতিকালে কমপক্ষে পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে দুইটি ককটেল বোমাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক দৈনিক অধিকারকে জানান, সোমবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল ডাকাত মুলাদী বাজারে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাজারের নৈশ প্রহরীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিনটি স্বর্ণের দোকান ও একটি মুদি দোকানে লুটপাট চালায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে ডাকাত দল তাদের লক্ষ্য করে ককটেল বোমা ফাটিয়ে নদীপথে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, ডাকাতির সময় তারা পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে একটির বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া দুইটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ডাকাতেরা নদী পথেই মুলাদী বাজারে এসেছিল।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুলাদী থানার ওসি ফয়েজ উদ্দিন দৈনিক অধিকারকে জানান, ১৫ থেকে ২০ জন ডাকাত এই দুর্ধর্ষ লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। তাদের মধ্যে নৌপথে ছয় থেকে সাতজন পালিয়ে যায়। বাকিরা হয়তো উপজেলার কোথাও আত্মগোপনে রয়েছে। এ সময় ডাকাতদের আটকের চেষ্টা চলছে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড