• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত, একই স্থানে কবর-শ্মশান ঘাট

  মনির জামান, নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি, বগুড়া

০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৪২
কবর-শ্মশান ঘাট
বগুড়ার নন্দীগ্রামে একই স্থানে কবর-শ্মশান ঘাট (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা জুড়ে রয়েছে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ। এই উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে মোট জনসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। তারা মিলেমিশে একই সমাজে বসবাস করেছ। কিন্তু মৃত্যুর পর তাদের জন্য থাকে আলাদা আলাদা কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট। তবে নন্দীগ্রামে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ভুলে একই স্থানে রয়েছে মুসলমানদের কবরস্থান ও হিন্দুদের শ্মশান ঘাট। 

নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার (বগুড়া-নাটোর) মহাসড়ক সংলগ্ন পূর্ব কুচাঁইকুড়িতে এ কবর স্থান ও শ্মশান ঘাট অবস্থিত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ওই স্থানে মুসলমান ও হিন্দুদের মরদেহ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ীই দাফন ও সৎকার করা হয়। এতে করে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। প্রায়  দু’শ বছর ধরে সম্প্রীতির নিদর্শন বহন করছে পূর্ব কুচাঁইকুড়িতে পাশাপাশি গড়ে ওঠা মুসলমানদের কবরস্থান ও হিন্দুদের শ্মশান ঘাট। 

কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটে তারা সম্প্রীতির বন্ধন থেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে। কবর স্থানের কারো দাফন ও শ্মশানে কারো সৎকার করার সময় একে অপরকে সহযোগিতা করে। তবে কখন এই কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট স্থাপিত হয়েছে এ বিষয়টি কারো জানা নেই। পূর্ব পুরুষদের সময় থেকেই এখানে মুসলমানদের দাফন ও হিন্দুদের সৎকার করা হয়। দুই একর জায়গার ওপর এই কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট অবস্থিত।   

দশটি গ্রামে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার হিন্দুদের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। ধর্ম নিয়ে তাদের মধ্য কোনো মতবিরোধ নেই বলে দাবি করেন এলাকাবাসীরা। 

নন্দীগ্রাম পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন বলেন, যুগ যুগ ধরে এখানে মুসলমান দাফন ও হিন্দুদের সৎকার করা হচ্ছে। এ নিয়ে কখনও কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। সবাই তাদের নিজ নিজ ধর্মের নিময়ম নীতি মেনে দাফন ও সৎকার করে আসছে। এখানে কোন মতো পার্থক্য নেই।  

পুর্ব কুচাইকুড়ি মন্দিরের পুরোহিত রঞ্জিত কুমার জানান, কবর ও শ্মশান পাশাপাশি অবস্থিত। পূর্ব পুরুষরা সম্প্রীতির নিদর্শন স্বরূপ পাশাপাশি এই কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট করে গেছেন। দুই ধর্মের মানুষ এখানে তাদের নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী দাফন ও সৎকার করে। এখানে ধর্ম পালনে কারো কোনো সমস্যা হয় না। 

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জানান, নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার পূর্ব কুচাইকুড়িতে পাশাপাশি কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট অবস্থিত। পূর্ব পুরুষরা এ সমাধিস্থল স্থাপন করে গেছে। তখন থেকে একই স্থানে দাফন ও সৎকার হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নন্দীগ্রাম পৌরসভার অর্থায়নে কুচাইকুড়ি কবর ও শ্মাশানে যাওয়ার জন্য ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরসিসি রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। এবং শ্মশানের জন্য চুল্লি ও কবর স্থানের পুকুর ঘাটের কাজ চলছে। আগামীতে কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটে বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণ করার পরিকল্পনা আছে বলেও তিনি জানন। 

ওডি/এসজেএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড