• রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপার 

  নওগাঁ প্রতিনিধি

০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৪
ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার
ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপার ( ছবি : দৈনিক অধিকার )

নওগাঁ-ধামইরহাট-জয়পুরহাট আঞ্চলিক সড়কে স্পিড ব্রেকার ও ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন ধরণের দুর্ঘটনার স্বীকারও হতে হয়েছে। 

এলাকার সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্কুলের সামনের সড়কে স্পিড ব্রেকার ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নওগাঁ-ধামইরহাট-জয়পুরহাট আঞ্চলিক সড়কের ১২ কিলোমিটার রাস্তার পার্শ্বে প্রায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ধামইরহাট সরকারি এমএম কলেজ, ধামইরহাট মহিলা কলেজ, ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধামইরহাট সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, চকময়রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিড়লডাঙ্গা নূরাণী মাদরাসা, হরিতকীডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, হরিতকীডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোকিল-রুপনারায়ণপুর সম্মিলিত আলিম মাদরাসা, কোকিল প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহানপুর এসসি উচ্চ বিদ্যালয়, জাহানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মঙ্গলবাড়ী সিরাজিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। 

উপজেলার এই আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। দূরপাল্লা এবং অভ্যন্তরীণ যানবাহনগুলো দ্রুত গতিতে চলাচল করে। ফলে প্রতিনিয়ত রাস্তায় দূর্ঘটনা ঘটছে।

কোকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মহসিনা ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মাহিব হাসান জানায়, অনেক ভয় নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছি। আর রাস্তায় সার্বক্ষণিক যানবাহন দ্রুত গতিতে চলাচল করছে। এখানে গতিরোধক ব্যবস্থা থাকলে স্বাচ্ছন্দে রাস্তা পার হতে পারতাম। 

ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম ও এরশাদুল আলম জানান, স্কুলের দক্ষিণ পার্শ্বে বড় রাস্তা। সন্তানদেরকে রাস্তা পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। তাই ভয়ের শঙ্কা নিয়ে থাকতে হয় সবসময়।

কোকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আকতার জানান, আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন উত্তর পার্শ্বে বিদ্যালয় অবস্থিত। ফলে সড়কের দক্ষিণ এলাকার শিক্ষার্থীরা এ সড়ক পার হয়ে স্কুলে আসতে চায় না। 

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে স্পিড ব্রেকার না থাকায় ওই এলাকায় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে চলছে। ইতোমধ্যে এক শিক্ষার্থী বাসচাপায় মারা গেছে। অপর এক শিক্ষার্থী ইজিবাইকের ধাক্কায় পা হারিয়েছে।

চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই-রব্বানী জানান, উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আঞ্চলিক সড়কের পাশে। তাই শিক্ষার্থীদেরকে খুব সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পার হতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনায় শিকার হতে হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিড ব্রেকার অথবা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেয় তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদে সড়ক পার হতে পারত।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হামিদুল হক জানান, যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের প্রয়োজন হয়। তবে জেলা প্রশাসক বরাবর ওই প্রতিষ্ঠানকে আবেদন করতে হবে। আবেদন গ্রহীত হলে ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হবে।

ওডি/এসএএফ 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড