• সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শিক্ষক নেই, তারপরেও চলছে বিদ্যালয়!

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি

১৭ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩৫
১২৩ নম্বর শিবপুর রনখোলা অ্যাডভোকেট হাজী সুলতান হোসেন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
১২৩ নম্বর শিবপুর রনখোলা অ্যাডভোকেট হাজী সুলতান হোসেন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ছবি : সংগৃহীত)

মিস্ত্রীর ঘরের যে চাল থাকে না তা আবার নতুন করে প্রমাণিত হলো। শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু এমপির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত ১২৩ নম্বর শিবপুর রনখোলা অ্যাডভোকেট হাজী সুলতান হোসেন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিরও হয়েছে সেই অবস্থা। এমপির সুদৃষ্টি না থাকার কারণে বিদ্যালয়টি এখন খুঁড়িয়ে চলছে।

১২৩ নম্বর শিবপুর রনখোলা অ্যাডভোকেট হাজী সুলতান হোসেন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সাথে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হলেও অদ্যাবধি কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ধার করা শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। এমপির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির অবস্থা এত খারাপ কেন হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির নামে প্রচুর জমি রয়েছে। কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেই জমি এখন অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নেই কোনো খেলার মাঠ। দায়সারাভাবে একটি টয়লেট থাকলেও পানি খাওয়ার জন্য নেই কোনো টিউবয়েল।

বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও স্থায়ী পদ হিসেবে কোনো শিক্ষক নেই। সেখানে শফিকুল ইসলাম নামে একজনকে ডেপুটিশনে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বানিয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় থেকে ডেপুটিশনে সহকারী শিক্ষক হিসেবে খাদিজা খানমকে আনা হয়েছে। আর শিল্পী আক্তার এবং রোমানা আক্তার নামে দুইজন ন্যাশনাল সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন। তারাই মূলত বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন।

বিদ্যালয়টির দুরাবস্থার কথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। শিক্ষকের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে ১২৩ নম্বর শিবপুর রনখোলা অ্যাডভোকেট হাজী সুলতান হোসেন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়টি আমাদের এমপি সাহেবের পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও এ পর্যন্ত কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক না থাকার কারণে অনেক ছাত্র-ছাত্রী অন্যত্র চলে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি দৈনিক অধিকারকে বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই শুনে আমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। বর্তমানে বিদ্যালয়টি ডেপুটিশনে সহকারী শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আগামী নিয়োগের পর নতুন শিক্ষক দেওয়া হবে।

ওডি/এসএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড