• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

লালমোহনে ত্রাণ পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা, আহতরা পাননি চিকিৎসাসেবা

  ভোলা প্রতিনিধি

১০ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫০
বিধ্বস্ত বসত ভিটায় দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা
বিধ্বস্ত বসতভিটায় দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় ঘর ও গাছ চাপা পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। রবিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কোনো ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি।

আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত তারেক নামের একজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। 
 
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসনের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিলেও তাদের তাৎক্ষণিক কোনো ত্রাণ সামগ্রী দেয়নি। এতে করে ওই এলাকার লোকজন চালচুলোহীন অনাহারে অর্ধাহারে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছেন।

ঘূর্ণিঝড়ে বুলবুলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মো. আলী হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে তার বসতঘরটি উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এতে তার স্ত্রী সাজেদা আক্তার ও ছেলে শরীফ আহত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কোনো মেডিকেল টিম পাওয়া যায়নি। এমনকি আহত অবস্থায় লালমোহন হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হলেও সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে সকালে তারা বাড়ি চলে গেছেন।

ঘূর্ণিঝড়ে আহত মো. আরিফ জানান, ঝড়ে তাদের বসতঘরটি উড়িয়ে নিয়ে যায়। এতে তার বাবা-মা ভাইসহ পরিবারের ছয়জন আহত হয়েছেন। কিন্তু তারা এখনো কোনো সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ পাননি। 

লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চর পেয়ারীমোহন গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু জাহের বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড়ে ওই এলাকার ৮-১০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়। এতে একই পরিবারের ছয়জনসহ মোট আটজন আহত হয়েছেন। কিন্তু ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কোনো ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করছি। যাদের ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে তাদের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান রুমি বলেন, আমরা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রশাসনের পক্ষ তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী ও নির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড