• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অবহেলায় বেহাল দশা বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামের

  হাসান আরেফিন, ঝালকাঠি

১০ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০৮
গরু চরছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপটেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামে
গরু-বাছুর চরছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপটেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

এক সময় খেলাধুলায় ঝালকাঠি জেলার দেশজোড়া খ্যাতি ছিল। এ জেলার খেলোয়াড়রা এক সময় ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, কাবাডি ও ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় মাঠ কাঁপিয়ে বেড়িয়েছে। এখানকার খেলোয়াড়রা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও খেলেছে নিয়মিত। সত্তর আর আশির দশকে বছরজুড়েই মুখরিত থাকত ফুটবলে। ঢাকার নামিদামি ফুটবলাররা আসতেন এখানে। 

এক সময় জনপ্রিয়তা পেয়েছিল কুমার সত্য ঘোষাল শিল্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট। কলকাতার নামি খেলোয়াড়দের এই টুর্নামেন্টে নিয়ে আসতেন সে সময়ের জমিদাররা। কলকাতার খেলোয়াড়েরা এক সময় ঝালকাঠিতে খেলতে আসতেন নিয়মিত। ঝালকাঠিরও অনেকে কলকতায় খেলতে যেতেন। কিন্তু খেলাধুলার সেই ঐতিহ্য এখন আর নেই। 

খেলার মাঠের সংকট ও ক্রীড়াঙ্গনের স্থবিরতার কারণে ঝালকাঠি জেলা থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, কাবাডি ও ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় জাতীয় মানের কোনো খেলোয়াড় উঠে আসছে না। অনূর্ধ্ব-১৭ বঙ্গবন্ধু কাপ, বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট ও স্কুল-কলেজ কেন্দ্রিক টুর্নামেন্ট যা হয় তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ না থাকায় জেলার ক্রীড়াঙ্গনের এমন পরিণতি। তাছাড়া এসব টুর্নামেন্ট জেলা ক্রীড়া সংস্থার তেমন কোনো ভূমিকাও থাকে না। 

জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে গঠিত ঝালকাঠি জেলা ক্রীড়া সংস্থার দুটি স্টেডিয়াম আছে। তার মধ্যে নতুন স্টেডিয়ামটি শহরতলীর বিকনা মৌজায় সাড়ে ৯ একর জমিতে নির্মিত। ছয় কোটি টাকায় গড়া স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০০৭ সালে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর স্টেডিয়ামটির নামকরণ করে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপটেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়াম। এখানে খেলোয়াড়দের থাকার কক্ষসহ ড্রেসিং রুম রয়েছে। স্টেডিয়ামটি শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় খেলোয়াড় ছাড়া আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না গ্যালারিতে।

বর্তমানে বিকনা বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপটেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খেলাধুলা চলমান না থাকায় জেলার বড় স্টেডিয়ামটি পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে। সরেজমিনে বিকনা বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর স্টেডিয়মে গিয়ে দেখা যায় মাঠে এলাকাবাসী গরু চরছে। ঘাসে ছেয়ে গেছে মাঠ। মাঠ জুড়ে সুনসান নীরবতা, খেলাধুলা নেই। খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এতে খেলার উপযোগিতা নেই। জেলা ক্রীড়া সংস্থার একজন কর্মচারী পরিবারসহ গ্যালারির নিচ তলায় বসবাস করেন। 

ক্রীড়া ভক্তদের অভিযোগ স্টেডিয়ামটি শহরের অদূরে অবস্থান এবং শহরের মিনি স্টেডিয়ামটি জরাজীর্ণ থাকায় খেলাধুলা ঝিমিয়ে পড়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা দায়িত্বশীল ভূমিকা না রাখায় প্রতিবছর ফুটবলের লিগ অনুষ্ঠিত হয় না। এমনকি ক্রিকেট লিগও হয় অনিয়মিত। 

অন্যদিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার দাবি পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব, পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়া, শহরতলীর বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামটিতে দর্শকশূন্য থাকায় প্রতিবছর ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঝালকাঠি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের এক  ফুটবলার জানায়, ঝালকাঠিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্ট না হওয়ায় ভালো মানের খেলোয়ার তৈরি হচ্ছে না। তাই বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর স্টেডিয়ামটিও অবহেলায় পড়ে আছে। 

ঝালকাঠিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে সর্বশেষ ফুটবল লিগ হয়েছে আটটি দল নিয়ে ২০০৮ সালে। ফিফা আর বাফুফের নির্দেশে সংস্থাটি থেকে আলাদা হয়ে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হওয়ার পর লিগ হয়নি একটিও। ক্রীড়া সংস্থার কোনো খেলায় স্পন্সর নেই বললেই চলে। দেশজুড়ে স্থানীয় হ্যান্ডবল লিগে কিউট কসমটেকস স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে। সেই লিগটাও এখন অনিয়মিত। 

এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খান ধলু বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা ও স্পন্সরের কারণে নিয়মিত ফুটবল লিগ আয়োজন করা যায় না। একটি ফুটবল লিগ আয়োজনে কমপক্ষে ২ লাখ টাকা খরচ হয়। তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলার নিয়মিত আয়োজনের চেষ্টা করে। 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক ও স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে জেলায় প্রায় ১শ জন কিশোর ফুটবলার তৈরি হয়েছে। তবে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপটেন জাহাঙ্গীর স্টেডিয়মটি শহরের দূরে অবস্থিত হওয়ায় যাতায়ত খরচ অনেক বেশি। তাই সেখানে দর্শক যেতে চান না। 

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, খেলাধুলার মান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি বছর যাতে ফুটবলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট হয় সে দিকে দৃষ্টি রাখা হবে। ফিরোজা আমু ফুটবল টুনামেন্টের বাকি খেলা শিগগিরই শেষ করা হবে।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড