• শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে চলছে ক্লাস

  এম এ মোতালিব ভুঁইয়া, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ

১০ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৩১
গোপীনগর নতুন নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
গোপীনগর নতুন নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে ফাটল (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ৫ নম্বর পান্ডারগাও ইউনিয়নের গোপীনগর নতুন নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাঁদে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে আতঙ্কের শেষ নেই। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা হয় গোপীনগর নতুন নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩৯৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে নির্মিত একতলা বিশিষ্ট ভবনটির ভেতরে ও বাইরের ছাঁদে ফাটল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফাটল দেখা দিলেও বর্তমানে তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। যার ফলে লোহার রড দেখা যাচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। 

পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী জানান, স্কুলের ছাঁদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ক্লাস করতে আমাদের সবসময় ভয়ে থাকতে হয়। 

অভিভাবকরা বলেন, ভবনের যে অবস্থা তাতে যে কোনো সময় একটা বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাধ্য হয়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করতে হচ্ছে। 

প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থার কারণে আমরা অনেক আতঙ্কে থাকি। কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরে ইতোমধ্যে তারা স্কুল পরিদর্শন করে মাপ-যোগ করে নিয়ে গেছে। আশা করি অতিদ্রুত একটা সু-সংবাদ পাব। 

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে ৩৯৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচটি কক্ষ প্রয়োজন, কিন্তু সেখানে মাত্র তিনটি কক্ষ রয়েছে। অফিস কক্ষ রয়েছে একটি। দুইটি টয়লেট থাকলেও নাই পানির ব্যবস্থা। এছাড়া পানি পানের জন্য যেতে হয় অন্যের বাড়িতে। সংশ্লিষ্ট বিভাগে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ জানান, ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো উন্নয়নের কোনো ছোয়া লাগেনি। বিদ্যালয়টিতে সীমানা প্রাচীর নেই, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্লাসরুম নেই, পানি পানের টিউবওয়েল নাই। কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করি।

দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অনুকুল চন্দ্র দাস বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। ভবনটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ছবিসহ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি অতি শীঘ্রই একটা ফল পাব। 

এলাকার শিক্ষানুরাগী সচেতন মহল কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে এই ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অতিদ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছে। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড