• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ কলেজছাত্রীর

  নওগাঁ প্রতিনিধি

০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৩১
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান (ছবি : দৈনিক অধিকার)

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেক উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের মামলা ঠেকাতে চৌকিদার দিয়ে পাহারা বসিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন ওই কলেজছাত্রী। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বিয়ের কথা বলে দৈহিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চেয়ারম্যান চাপ সৃষ্টি করেন। এতে মেয়েটি রাজি না হলে ছোট মেয়ের বিয়ের পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করবে বলে বাচ্চাটি নষ্ট করতে বাধ্য করেন। 

সম্প্রতি তাকে বিয়ে করার কথা বললে ভুক্তভোগীর কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন চেয়ারম্যান সাদেক। অভিযোগ ঠেকাতে গত সোমবার থেকে চৌকিদার পাহারায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবারকে। এতে সহযোগিতা করছেন দিবর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরকার ও দিবর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন-অর রশীদ। 

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা দৈব্য বালা অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আতাত করে ঘটনাটি ধামা-চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। আমরা নিজেরাই আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছি। মানুষের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। বর্তমানে মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। 

অভিযুক্ত নজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাদেক উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন বলে জানান।। 

দিবর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মাস্টার বলেন, মেয়েটির সঙ্গে নজিপুর ইউপির চেয়ারম্যান সাদেকের অবৈধ সম্পর্ক ছিল সত্য। মেয়েটি তার কাছে টাকা নিয়েছে বলে শুনেছি। তাই মেয়েটি যেন কোথাও পালাতে না পারে সে জন্য আমি গ্রাম পুলিশদের দেখতে বলেছি।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, গ্রাম পুলিশকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা উভয় পক্ষকে ডেকে একটি সমাধান করার জন্য ডেকেছি। ধর্ষণের মামলা রজু না করে উল্টো ভিকটিমের বিরুদ্ধে সালিশের সমাধান করার এখতিয়ার পুলিশে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসপি স্যারের নির্দেশেই ডাকা হয়েছে।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়ার সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশকে বলেছি। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত সাত-আট মাস আগে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক নারী ইউপি সদস্যকে জড়িয়ে আপত্তিকর ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। তার ইউপি কার্যালয়ে এই আপত্তিকর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। পরে লোক লজ্জায় ওই নারী ইউপি সদস্য বাধ্য হয়ে পরিবারসহ গ্রাম ছেড়ে নজিপুর পৌর শহরে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে আসছেন। 

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড