• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বালু উত্তোলনে ভাঙন ঝুঁকিতে যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প

  বগুড়া প্রতিনিধি

০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:০৬
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী ঘাট ও চুনিয়াপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বালু ব্যবসায়ীদের দাপটে ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন শত শত বালু পরিবহনকারী ট্রাকের ধুলাবালিতে বিভিন্ন এলাকার পরিবেশ দূষণসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষ। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। এর আগে প্রতিবছর নদী ভাঙনের কারণে হাজার হাজার একর আবাদি জমি ও শত শত পরিবারের বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হতো। এ কারণে যমুনার ভাঙন ঠেকাতে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহড়াবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভুতবাড়ী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করেছে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

ওই প্রকল্পের শহড়াবাড়ী ঘাটের দক্ষিণ পাশে যমুনায় ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে প্রায় ২ কোটি টাকার বালু উত্তোলন করেন ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য। এর ফলে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে দেবে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের পর দুই মাস আগে ধুনট উপজেলা কমিশনার (ভূমি) জিন্নাত রেহেনা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই বালু নিলামের ঘোষণা করেন। পরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিলামে অংশ নিয়ে কোটি টাকার বালু মাত্র ১০ লাখ টাকায় ক্রয় করেন হয়রত আলী ও মাহমুদুল। সেই বালু প্রতি ট্রাক বিক্রি করছেন ৮শ থেকে ৯শ টাকায়। এদিকে প্রতিদিন শত শত বালু ভর্তি ট্রাক তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে সরকারের শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বাঁধ।
 
চুনিয়াপাড়া গ্রামের জামাল হোসেন, চাঁন মিয়া ও আব্দুস সামাদ জানান, প্রতিদিন শত শত বালু ভর্তি ট্রাক চলাচল করায় যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া বালু পরিবহনকারী ট্রাকের ধুলাবালিতে এলাকাবাসী বিভিন্ন রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়া পাকা ও কাঁচা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জনসাধারণের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব বিষয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

এ দিকে বালু ব্যবসায়ী হযরত আলী ও সুমন মন্ডল কোনো ক্ষতি হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বালু ব্যবসায়ীদের কারণে সরকারি কোনো প্রকল্পের ক্ষতি হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওডি/ এফইউ 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড