• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মাত্র দেড় হাজার টাকার হাঁসের খামারে আজ কোটিপতি 

  কামরুজ্জামান সেলিম, চুয়াডাঙ্গা

০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৯
হাঁসের খামার
হাঁসের খামার (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলচারা গ্রাম। এই গ্রামে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন জাকির অ্যান্ড ব্রাদার্স অ্যাগ্রো ফার্ম হ্যাচারি। 

জাকির হোসেনের স্বপ্নের গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। মাত্র দেড় হাজার টাকায় ১১৫টি হাঁস নিয়েই খামারটির যাত্রা শুরু করেন তিনি। আর ১৭ বছর পর আজ সেই খামারটি জেলার সবচেয়ে বড় হাঁসের খামারে রূপ নিয়েছে। যেখানে রয়েছে প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি হাঁস। পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন ভেড়ার খামার। সেই খামারেও রয়েছে ৮০টির মতো ভেড়া। এর সঙ্গে রয়েছে মাছের চাষ। সফল খামারি হিসেবে জাকির হোসেন পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার।

জানা যায়, খামার থেকে প্রতিদিনি ৮-৯ হাজারের বেশি ডিম সংগ্রহ করেন জাকির। যা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ডিমের চাহিদা মেটানো হয়। প্রতিটি ডিম সাড়ে সাত টাকা দরে প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার এবং মাসে ১৮ লাখ টাকা আয় হয়। 

এছাড়া হাঁসের মাংস বিক্রি করে মাসে আয় হয় আরও লাখ টাকা। যা থেকে মাসে হাঁসের খাবার, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক ৮ লাখ টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ প্রতি মাসে জাকির হোসেনের লাভ থাকে প্রায় ১০ লাখ টাকা। যা শুনতে স্বপ্নের মতো মনে হলেও বাস্তব।

শুধু ডিম উৎপাদন নয়, বর্তমানে খামারটিতে ১৯টি হাঁসের বাচ্চা ফোটানো ইনকিউবেটর মেশিন রয়েছে। এসব ইনকিউবেটর থেকে প্রতি মাসে ২৯ হাজারের মতো বাচ্চা ফোটানো যায়। খামারে ডিম ও মাংসের জন্য দুই ধরনের হাঁস পালন করা হয়। সেখানে বর্তমানে ১২ হাজার হাঁসের জন্য কয়েক বিঘা জমির ওপর ১২টি সেড করা হয়েছে। খামারটি দেখাশোনার জন্য ২৪ জন কর্মী রয়েছে। 

খামারের ম্যানেজার ইয়াছিন শেখ জানান, খামারটিতে সাত বছর আগে চাকরি নেন। সে সময় খামারটি এতো বড় ছিল না। ধীরে ধীরে খামার বড় করা হয়েছে। চার মাস বয়স থেকেই হাঁস ডিম দেওয়া শুরু করে। একটি হাঁস বছরে ২০০-২৫০টি ডিম দিয়ে থাকে। প্রতিটি ডিম সাত থেকে সাড়ে সাত টাকা দরে বিক্রি করা হয়। খামারটিতে বর্তমানে হাঁসের পাশাপাশি টার্কি মুরগি, কোয়েল পাখি, ছাগল, ভেড়া ও মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও রয়েছে।

খামারের কর্মী মাছুরা খাতুন জানান, খামারের প্রতিটি সেড থেকে ডিম তোলেন তিনি। বেতনের টাকায় সন্তানদের লেখাপড়াসহ সংসারও চলে। প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে হাঁসের খামার দেখতে আসেন অনেকে। জাকির হোসেন খামার করতে অন্যদের পরামর্শ দেন। এছাড়া তার হাঁস পালনে সফলতা দেখে এলাকার অনেক তরুণ স্বল্প পরিসরে খামার গড়ে তুলেছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে খামারের মালিক জাকির হোসেন জানান, শুরুটা খুব সহজ ছিল না। ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের ফল আজকের এই খামার। তবে স্বল্প পুঁজি নিয়েও হাঁসের খামার করা যেতে পারে। বিশেষ করে পুকুর, ডোবা অথবা খালের পাশে খামার গড়ে তোলা উচিত। কিন্তু অনেকে হাঁসের রোগ-বালাই নিয়ে অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে হাঁসের রোগ নির্মূল করা সম্ভব বলে জানান তিনি। এছাড়া হাঁস পালনে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথাও ভাবছেন বলে জানান জাকির হোসেন।

ওডি/এসএএফ 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড