• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেল বগুড়ার ১৭৮ পরিবার

  বগুড়া প্রতিনিধি

০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:১৩
সরকারের দেওয়া দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ
সরকারের দেওয়া দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন জহুরা বেওয়া। অন্ধ বোনকে নিয়ে কোনোমতে দিন পার হতো। অনুদানের গরু লালন পালন করেই জীবন চলতো তার। তবে নিজের কোনো জায়গাও নেই আবার ঘরও ছিল না। ষাটোর্ধ্ব জহুরা বেওয়া এবার নিজের ঘরে উঠেছেন। 

বাবার দেওয়া চার শতক জায়গার ওপর নির্মাণ হয়েছে সরকারের দেওয়া বাসগৃহ। অন্ধ বোনকে সঙ্গে নিয়ে তার এখন নতুন বাড়ি হয়েছে। শুধু জহুরা নয়, তার মতো গোটা জেলায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ পেয়েছে ১৭৮ পরিবার।

বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় আধুনিক বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় বগুড়ায় ১৭৮টি পরিবারকে গৃহ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি বাসগৃহের প্রাক্কলিত মূল্য ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, গৃহপরিচায়িকা, গৃহকর্মী, রিকশা-ভ্যানচালক, কৃষক ও বাউলসহ বিভিন্ন অস্বচ্ছল পেয়েছে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ।
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৬টি বাসগৃহ নির্মাণ হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই বাসগৃহ নির্মাণ শেষে ১৩ অক্টোবর তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি গৃহে দুটি কক্ষ, দুটি বারান্দা, একটি রান্নাঘর, একটি করিডরসহ রয়েছে পায়খানার ব্যবস্থা। এছাড়াও পর্যায়ক্রমে থাকছে টিউবয়েল ও সৌর বিদ্যুতের সুবিধাও। 

বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ভান্ডারপাইকার জহুরা বেওয়া বলেন, ‘শেখ হাসিনা হামাকে বাড়ি ব্যানা দিছে, আগে বাপের বাড়িতে আছনো একন নিজের বাড়িত থাকি। শেখ হাসিনা মেলা দিন ব্যাঁচা থাকুক।’

শেখেরকোলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক কামরুল হাসান ডালিম জানান, জহুরা বেওয়া তার ছেলে ও ছেলের বউসহ এক অন্ধ বোনকে নিয়ে নতুন বাড়িতে উঠেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে থাকতো বাবার দেওয়া জায়গায় ঝুপড়ি ঘর করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বাড়ি পেয়ে তারা এখন আনন্দে দিনযাপন করছে। 

রাজাপুর ইউপির খামারকান্দির রুবেল হোসেন। দুই ছেলে মেয়ে তার। তার বাবা চাঁনমিয়া ছয় ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকেন খামারকান্দিতে শ্বশুর বাড়িতে। ভ্যান, রিকশা চালিয়ে চার শতক জায়গা কিনেছেন অনেক কষ্টে। সেই জমিতে এবার উঠেছে পাকা বাড়ি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, সদর উপজেলায় ১৬টি বাসগৃহ নির্মাণ শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে সুন্দরভাবে কাজ শেষ হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই। সোনাতলা উপজেলায় ২১টি, সারিয়াকান্দিতে ১৯, শিবগঞ্জে ১৬, আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়াতে ১২টি করে, কাহালু ও শাজাহানপুরে ১১টি করে, নন্দীগ্রাম ও শেরপুর ও গাবতলীতে ১৪টি করে, ধুনটে ১৮ এবং বগুড়া সদরে ১৬টি গৃহ নির্মাণ করা হয়। ১৩ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন। 

ওডি/ এফইউ


 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড