• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ছাতকে দুদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, আহত দুই শতাধিক

  সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০৬ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:৩৬
সুনামগঞ্জ
জেলার ম্যাপ

সুনামগঞ্জের ছাতকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুদল গ্রামবাসীর মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী-পথচারীসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। 

বুধবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার গোবিন্দগঞ্জের সাদা ব্রিজ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের সাদা ব্রিজ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনার পর বুধবার রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াকুব আলী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। 

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় সংঘর্ষে জড়িতরা সাদা ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে ব্যাপক ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল ব্যবহার করা হয়।  এছাড়া উভয় পক্ষ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময়ও করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম কবির ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোবিন্দগঞ্জ পুলের মুখ ও আশপাশ এলাকায় রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। ফলে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে রেলওয়ের লালপুল এলাকায় দিঘলী গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে ফয়সল আহমদ মদ্যপ অবস্থায় শিবনগর গ্রামের প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় শিবনগর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া ও স্থানীয় দোকানি ফরিদ মিয়া তাদের গ্রামের লোকজনকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করে। ওই সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। 

ওই ঘটনার জেরে বুধবার বিকালে সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে যাওয়ার পথে সাদা ব্রিজ এলাকায় গাড়ির গতিরোধ করে গাড়ি থেকে নামিয়ে সাজু মিয়াকে বেধড়ক মারধর করে ফয়সল ও তার সহযোগীরা। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন।

এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় শিবনগর ও দিঘলী গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দফায়-দফায় সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হলে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আশপাশের সকল দোকান-পাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পথচারীরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে থানা-ও দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী, শাহনুর, ইকবাল, সুজন, শিপন, সাজু মিয়া, আওলাদ, সুমন, জাহির উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, মঞ্জুর আলম, আহমদ আলীসহ ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোস্তফা, জায়েদ, নাসির , আলমগীর, ফরিদ, লায়েক জহির তোফায়েল, খুরশীদ, হারুনসহ অন্যান্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

রাতে গুরুতর আহত শিবনগর গ্রামের খুরশিদ আলীর ছেলে ইয়াকুব আলী (৩০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশের গুলি ও টিয়ারশেল ছোঁড়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড