• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সড়ক দুর্ঘটনায় অচল ট্রাকচালক বাবা, এক মাসেও থামেনি মায়ের কান্না

  মো. মুশফিকুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:০৪
আবরার ফাহাদ ও শামীম বিল্লাহ
আবরার ফাহাদ ও শামীম বিল্লাহ (ছবি : সংগৃহীত)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার এক মাস পূর্ণ হয়েছে আজ (৬ নভেম্বর)। গত মাসের ৬ তারিখ আবরার হত্যার ঘটনা ঘটে। ন্যক্কারজনক এ ঘটনার মামলার ১৪ নম্বর আসামি হয়ে কারাগারে শামীম বিল্লাহ।

শামীমকে ঘিরে স্বপ্ন বুনেছিল তার মধ্যবিত্ত পরিবার। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলেটি একদিন নিজেকে ও পুরো পরিবারকে আলোকিত করবে। সে আশার গুড়ে এখন বালি। ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে কান্নার শক্তিটুকুও যেন হারিয়েছেন শামিমের মা।

আবরার হত্যা মামলায় শামীম জড়িত, এ খবর শোনার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার মা সালিমা বেগম। এখনো মাঝে মধ্যেই কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। নাওয়া-খাওয়া ভুলে গেছে তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও।

শামিমের ২১ বছরের জীবনে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার দাদা-দাদি। ছোটবেলা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নেওয়া থেকে শুরু করে বুয়েটে চান্স পাওয়া পর্যন্ত তার পড়ালেখাসহ যাবতীয় দেখা-শোনা করতেন তার দাদা-দাদি। কাঁদতে কাঁদতে তাদেরও চোখের জল শুকিয়ে এসেছে।

শামিমের দাদি মমতাজ বেগম বলেন, আমার শামীম এমন কাজ করতে পারে আমি বিশ্বাস করি না। ও কোনোভাবেই এ কাজ করতে পারে না। গ্রেফতার হওয়ার আগে এবং পরে যখনই ওর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তখনই সে বলেছে, ‘আমি কিছু করিনি। আবরার ফাহাদকে মারার পরে বড় ভাইয়েরা তার জন্য ওষুধ আনতে বলেছিল। ওকে ধরে উঠাতে বলেছিল। আমি যখন ওঠাতে চাইনি তখন সিনিয়ররা বলেছিল তুই পূর্বপাকিস্তানের লোকতো, তাই তোর মায়া বেশি না?’ এসব বলে হুমকি দেওয়ার পর শামিম আবরারকে নিচে নামায়।

শামিম বিল্লাহর দাদি আরও বলেন, আমার শামীম সিনিয়রদের কথা শুনতে গিয়ে ফেঁসে গেছে। ও কিছু করেনি। আমার বিশ্বাস সঠিকভাবে তদন্ত হলে শামীম নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

শামিমের দাদা আতিয়ার রহমান সরদার বলেন, আমাদের সারা জীবনের আয় সব শামীমের পেছনে বিনিয়োগ করেছি। ওর পড়ালেখার জন্য দুয়েক বিঘা জমিও বিক্রি করেছি। এখনো কিছু জমি বন্দক রাখা আছে। শামীমকে ছাড়া আমরা কেউ ভালো নেই।

শামীমের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামে। তার একমাত্র বোন শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। শামীম রাজধানীতে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ জোগাতেন।

শামীমের বোন শারমিন সুলতানাও ভাইকে ছাড়া বড় অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার সব থেকে কাছের বন্ধু তার ভাই। আজ সে খুনের মামলায় কারাগারে এটা সেও মানতে পারছে না।

শামীম সম্পর্কে তার প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, এসএসসি পর্যন্ত শামীম এলাকায় থেকে পড়ালেখা করেছে। আমার জানা মতে সে কখনো কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কখনো কোনো অনৈতিক কাজে সে জড়ায়নি।

আরেক প্রতিবেশী রাজু আহমেদ বলেন, শামীম আমাদের চোখের সামনেই বড় হয়েছে। ও অনেক মেধাবী। আমাদের এলাকার গর্ব। এখনো ছোটরা তাকে অনুসরণ করে। বড়রা উদাহরণ হিসেবে শামিমের নাম নেয়। ও যে এমন কাজ করতে পারে আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সবুর কাগুচি বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি শামীম সদালাপী। তার চলাফেরা আচার-আচারণও মার্জিত। আর আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরাও আশা করি। কিন্তু এতে যেন কোনো নিরীহ-নির্দোষ ছেলে ফেঁসে না যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের এই অনুরোধ।

শামিমের বাবা আমিনুর রহমান বাবলু একজন ট্রাকচালক। সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তিনি এখন অচলপ্রায়। পরিবারের আশা-ভরসার একমাত্র নাম শামীম বিল্লাহ।

শামীম বুয়েটে নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পান। ২০১৭ সালে ঢাকার সেন্ট জোসেফস থেকেও গোল্ডেন এ প্লাস পান। এর আগে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ এবং পঞ্চম শ্রেণির সমাপনীতে উপজেলায় প্রথম হন।

 

ওডি/এমআর

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড