• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নিলামের অপেক্ষায় ৩০ বছর, ক্ষয়ে যাচ্ছে ৭টি জিপ গাড়ি

  হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম

০৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:১২
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্রায় ৩০ বছর ধরে নিলামের অপেক্ষায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে জিপ গাড়িগুলো (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্রায় ৩০ বছর ধরে নিলামের অপেক্ষায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে সাতটি জিপ গাড়ি। মেরামত অযোগ্য এসব জিপ গাড়িগুলোর এই দীর্ঘ সময়েও নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ইতোমধ্যে নিলাম না হওয়ায় ঝোপ-জঙ্গলে পূর্ণ হয়ে এর সব যন্ত্রাংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ইঁদুর বাসা বেঁধেছে গাড়ির ভেতর। সময়মতো নিলাম হলে সরকারের কোষাগারে জমা হতো কয়েক লাখ টাকা। অথচ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় গচ্ছা গেছে সরকারি অর্থ। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, অকেজো গাড়িগুলো খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে রোদ-বৃষ্টি ঝড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। গাড়ির ভেতর ও বাইরের সব লোহা-লক্করে মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে। মাটি আর জঙ্গলে পূর্ণ হয়েছে গাড়িগুলো। এখন আর কোনো যন্ত্রাংশই কাজে লাগানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অফিসের কর্মচারীরা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯-৯০ সালের দিকে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সাতটি জিপ গাড়ি মেরামত অযোগ্য হয়ে পড়ে। এসব গাড়ির মধ্যে ল্যান্ড রোভার, ইসুজু ও ভিটারাসহ দামি দামি কোম্পানির গাড়িও ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেরও চিঠি চালাচালি ছাড়া নিলামের ক্ষেত্রে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। বৈদেশিক সংস্থার ৩টি গাড়ি থাকায় প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগছে বলে অজুহাত দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোনো ফাইলও ছিল না। নিলামের উদ্যোগ নেওয়ার পর চলতি বছরের গোড়ার দিকে কুড়িগ্রাম বিআরটিএ অফিস চারটি জিপ গাড়ি অকেজো ঘোষণা করে প্রতিবেদন দেয়। এসব গাড়ি ‘প্রান্তিক ও খামার পদ্ধতিতে শস্য নিবিড়করণ প্রকল্পসহ’ বিভিন্ন প্রকল্প থেকে পাওয়া। যা কর্মকর্তারা ব্যবহার করতেন। বাকি তিনটি গাড়ি বৈদেশিক সংস্থার হওয়ায় স্থানীয় বিআরটিএ অকেজো বা মেরামত অযোগ্য ঘোষণার প্রতিবেদন দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তবে কমিটির মাধ্যমে অকেজো ঘোষণা করা যেতে পারে বলে মতামত দেন। গত ২৯ এপ্রিল কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালককে এসব বিষয় জানিয়ে কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান। কিন্তু এরপর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কমিটি গঠন না হওয়ায় নিলাম প্রক্রিয়া শুরুই করা যায়নি। কারণ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিআরটিএ মূল্য নির্ধারণ করবে। তারপর শুরু হবে নিলাম প্রক্রিয়া। 

দীর্ঘদিনেও গাড়িগুলো নিলাম না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বলেন, ‘আমি যোগদানের পর আমার স্টাফরা ভয় দেখান যে, কোনো স্যার মাথা ঘামায়নি। আপনি ওদিকে যাইয়েন না। তা সত্ত্বেও ঢাকায় কথা বলে মোটরযান পরিদর্শককে এনে প্রতিবেদন নেই। এরপর একটি কমিটি গঠনের অনুরোধ জানিয়ে চার মাস আগে ঢাকায় পত্র দেই। কিন্তু প্রতি উত্তর আসেনি। তাছাড়া ঝামেলা এড়াতে আমরা ঢাকা থেকে নিলাম আহ্বান করার অনুরোধ জানিয়েছি।’ 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড