• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি (শেষ পর্ব)

  ক্যারিয়ার ডেস্ক

০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১২
সাইফুল হুদা নাজাত

প্রিলি-রিটেনের রেজাল্টের পর বারবার পিডিএফ ওপেন করে নিজের রোলটা চেক করতাম। আর ৩৭তম চূড়ান্ত ফলের পর তো পরমানন্দে চোখ হতে ঘুমই চলে গিয়েছিল কিছু দিনের জন্যে। সে কী এক অসামান্য আনন্দ তার কিছুটা আজ হয়তো কেউ কেউ টের পাচ্ছেন যারা প্রথমবারের মতো প্রিলি পাস করলেন। তাদের জন্যই আমার এ লেখা। 

যারা প্রথমবার রিটেন দিচ্ছেন বা প্রিলি পাস করবেন কিনা নিশ্চিত ছিলেন না, তাদের সম্ভবত তেমন কিছুই পড়াশোনা করা হয়নি। ধরে নিই, কিছুই পড়াশোনা হয়নি। তাহলে সহজে পরামর্শ দেওয়া ও নেওয়া যাবে।

ধরুন, আপনি সর্বোচ্চ চার মাস সময় পাবেন রিটেন প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। এর বেশি সময় পেলে সেটা হবে বোনাস। যেখানে স্ট্র্যাটেজিক মেথডে না এগুলে এই বিশাল সিলেবাসের সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার রয়েছে সমূহ সম্ভাবনা।

সে কারণেই আপনার প্রিপারেশন নেওয়ার ধরন হতে হবে qualitive, not quantative. বেশি পড়বেন ঠিক আছে তবে বুঝে-শুনে। সবসময় যা পড়বেন, তা খাতায় কিভাবে প্রেজেন্ট করবেন সেটা ভেবে পড়া উচিত। 

এখানে আমি বিষয়ভিত্তিক কিছু বইয়ের সাজেশন্স দিব। পাশাপাশি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করব।

★ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ★

বই / গাইড : 

(১) অ্যাসিউরেন্স / প্রফেসর'স গাইড

(২) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংগঠন ও পররাষ্ট্রনীতি - শাহ মোঃ আব্দুল হাই

টার্গেট মার্কস : 

ক. কনসেপ্চুয়াল ইস্যু : ২৫-৩০

খ. ইম্পেরিক্যাল ইস্যু : ২৭-৩৩

গ. প্রবলেম সলভিং : ১০-১২

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে ভালো মার্কস ধরা যায় ৬৫-৭০। প্রশ্ন সহজ বা কঠিনের উপর নম্বর কম-বেশি হতে পারে।

করণীয় : 

(১) টেকনিক্যালি পড়লে এ বিষয়ে খুব বেশি পড়তে হয় না। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো স্টাডি করলেই বুঝবেন, সংক্ষিপ্ত সাজেশন্স করে পড়লেও ৭০-৮০% কোয়েশ্চেন কমন পরে যায়।

(২) প্রথমবার যারা রিটেন দিচ্ছেন তাদের কাছে কনসেপ্চুয়াল ইস্যুগুলো একটু জটিল মনে হবে। এক্ষেত্রে টেকনিক হলো, এগুলো মুখস্ত না করে বুঝে 'key words' মাথায় রাখবার চেষ্টা করবেন। কিছু টপিকের সংজ্ঞা চাওয়া হয়, সেগুলোতে ২/৩টি কোটেশন দিবেন। যে প্রশ্নগুলোতে 'পার্থক্য' চাওয়া হয়, সেগুলো ছক আকারে উপস্থাপন করতে পারেন। এক্ষেত্রে গাইড বইয়ের পাশাপাশি শাহ মোঃ আব্দুল হাই স্যারের বইটি পাশে রাখবেন। আমি এই বইটি হতে ইম্পর্টেন্ট পেইজগুলো কেটে আলাদা একটা ছোট নোটবুক বানিয়ে নিয়ে ছিলাম।

(৩) ইম্পিরিক্যাল ইস্যুতে মোট ০৭টি চ্যাপ্টার আছে। সব চ্যাপ্টার না পড়লেও চলে। ৪/৫ টি চ্যাপ্টার হতেই ৩টি প্রশ্ন কমন পড়ে। The United Nations, Foreign relations of Major Powers, Global Initiatives and Institutions, Major Issues & Conflicts in the world এবং Politics in South Asia- এই পাঁচটি চ্যাপ্টারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে পারেন।

(৪) প্রবলেম সলভিং নিয়ে এতো চিন্তার কিছু নেই। তবে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী এখানে যে ভুলটা করে, তা হলো ঐ প্রবলেম বা সংকটের কাহিনী বর্ণনা করে ফেলেন। কিন্তু আপনার মূল কাজ হলো সমাধান দেওয়া। এ প্রশ্নে খুব আনকমন কিছু আসলেও ক্ষতি নেই। মনে রাখবেন, আপনার কাজ হলো সমাধান দেওয়া বা সুপারিশ করা। এখানে নিজের ক্রিয়েটিভিটি কাজে লাগাবেন। গাইডের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রবলেম সলভিং স্টাডি করুন। সেখানে কিছু কমন সুপারিশ পাবেন যেগুলো কম-বেশি সব প্রশ্নেই ব্যবহার করা যায়। সেগুলোকে আলাদাভাবে নোট করে রাখতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার কূটনৈতিক জ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ!

(৫) ইম্পিরিক্যাল ইস্যুতে ম্যাপ ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। কোন ইস্যুতে তথ্যসমৃদ্ধ টাইমলাইন ছকাকারে উপস্থাপন করতে পারেন। প্যারা প্যারা করে উত্তর না করে চার্ট, টাইমলাইন, বুলেন্ট পয়েন্ট ব্যবহার করে উপস্থাপনার বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করবেন। এ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে, কোন বিষয় গুগলে সার্চ দিন এবং 'Images' অপশনে যান। সেখানে যে ধরনের চিত্রনির্ভর উপস্থাপনা থাকে তা স্টাডি করে নিজের উপস্থাপনায় ব্যবহার করতে পারেন।

(৬) অনেকে বলেন, খাতা ভরে লিখে আসলেই নম্বর! এটা হয়তো পরীক্ষক ভেদে কিছুটা সত্য। কিন্তু বর্তমানে ডবল এক্সামাইন করা হয়। তাই আমি বলব- সঠিক লিখুন, তথ্যসমৃদ্ধ লিখুন এবং প্রয়োজনে কম লিখুন। সবসময় এটা ভাববেন, আপনার পরীক্ষার খাতা যদি আপনি নিজে দেখতেন তাহলে নিজেকে নিজে কত মার্কস দিতেন। আর কেমন উত্তর পেলে আরও বেশি নম্বর দিতেন!

শুভ কামনায় 

সাইফুল হুদা নাজাত

৩৭ তম বিসিএস (প্রশাসন)  
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড