• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি (পর্ব - ০১)

  ক্যারিয়ার ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৫৭
সাইফুল হুদা নাজাত

প্রিলি-রিটেনের রেজাল্টের পর বারবার পিডিএফ ওপেন করে নিজের রোলটা চেক করতাম। আর ৩৭ তম চূড়ান্ত ফলের পর তো পরমানন্দে চোখ হতে ঘুমই চলে গিয়েছিল কিছু দিনের জন্যে। সে কী এক অসামান্য আনন্দ তার কিছুটা আজ হয়তো কেউ কেউ টের পাচ্ছেন যারা প্রথম বারের মতো প্রিলি পাস করলেন। তাদের জন্যই আমার এ লেখা। 

যারা প্রথমবার রিটেন দিচ্ছেন বা প্রিলি পাস করবেন কিনা নিশ্চিত ছিলেন না, তাদের সম্ভবত তেমন কিছুই পড়াশোনা করা হয় নি। ধরে নিই, কিছুই পড়াশোনা হয় নি। তাহলে সহজে পরামর্শ দেওয়া ও নেওয়া যাবে।

ধরুন, আপনি সর্বোচ্চ চার মাস সময় পাবেন রিটেন প্রস্তুতি নেবার জন্য। এর বেশি সময় পেলে সেটা হবে বোনাস। যেখানে স্ট্র্যাটেজিক মেথডে না এগোলে এই বিশাল সিলেবাসের সমুদ্রে ডুবে যাবার রয়েছে সমূহ সম্ভাবনা।

সে কারণেই আপনার প্রিপারেশন নেওয়ার ধরণ হতে হবে qualitive, not quantative. বেশি পড়বেন ঠিক আছে তবে বুঝে-শুনে। সবসময় যা পড়বেন, তা খাতায় কিভাবে প্রেজেন্ট করবেন সেটা ভেবে পড়া উচিত। 

এখানে আমি বিষয়ভিত্তিক কিছু বইয়ের সাজেশন্স দিবো। পাশাপাশি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করব।

★ বাংলা ★

গাইড বইঃ

(১) অ্যাসিউরেন্স
(২) বাংলা সাহিত্য জিজ্ঞাসা 
(৩) নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ

(সংক্ষিপ্তভাবে পড়তে চাইলে শুধু 'অ্যাসিউরেন্স' ইজ মোর দ্যান ইনাফ।)

২০০ নম্বরের বাংলা পরীক্ষায় আপনার টার্গেট মার্কস হতে পারে এমনঃ

ব্যাকরণ- ২৭(৩০)
সাহিত্য- ২২(৩০)
ভাবসম্প্রসারণ- ১২(২০)
সারমর্ম- ১২(২০)
অনুবাদ- ১১(১৫)
সংলাপ- ১০(১৫)
পত্র- ১১(১৫)
গ্রন্থ সমালোচনা- ১০(১৫)
রচনা- ২৫(৪০)
সর্বমোট= ১৪০

* প্রথমেই নতুন গাইড বইটির প্রতি অনুরাগ দূর করতে হবে। সেটিকে বুকবাইন্ডিং-এর দোকানে নিয়ে যান। বাংলা প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র অংশদ্বয়কে কেটে আলাদা করে বাঁধাই করে নিয়ে আসুন। দেখবেন বইয়ের সাথে সাথে সিলেবাসটাও হালকা মনে হবে।

* বিগত বিসিএস রিটেন প্রশ্নগুলোতে চোখ বুলান। সেখানে আসা ব্যাকরণ অংশ ও সাহিত্য অংশটুকু পড়ে ফেলুন। ওখান থেকেই সাধারণত ৭০-৮০% কমন পড়ে থাকে।

* বানানের নিয়ম, প্রবাদ-বাগধারা, শুদ্ধি-অশুদ্ধি, বাক্য রূপান্তর- এই টপিকগুলোতে যেনো এক নম্বরও কাটা না যায় সেভাবে পড়তে হবে। এখানে প্রাকটিস ও রিভিশন দেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। নিয়মগুলো গাইডেই গুছিয়ে দেওয়া আছে। বাইরের কোন বই-টই পড়ার দরকার নেই।

প্রবাদের জন্য অ্যাসিউরেন্স গাইডের পাশাপাশি শ্রদ্ধেয় সমর পাল স্যারের 'প্রবাদের উৎস সন্ধান' বইটি দেখতে পারেন। ঐ বই থেকে বেশ ক'বার পরীক্ষায় এসেছে। বইয়ে প্রবাদগুলো গল্পাকারে দেওয়া আছে, তাই আলাদা করে খাতায় সে প্রবাদ গুলোর অর্থ লিখে নিন এবং তা দিয়ে বাক্য রচনা করে রাখুন। আর প্রবাদ পড়ার সময় অর্থ বুঝে মনে রাখার চেষ্টা করবেন, যেগুলো জটিল লাগবে শুধু সেগুলোই মুখস্থ করবেন।

* সাহিত্য অংশে ইদানীং একটু ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন আসে। তাই সৌমিত্র শেখরের 'বাংলা সাহিত্য জিজ্ঞাসা' বই হতে বিখ্যাত রচনাগুলোর কাহিনী-সংক্ষেপ, চরিত্র চিত্রন, সমাজচিত্র ইত্যাদি বিষয় পড়ে নেওয়া যেতে পারে। এখানে পরীক্ষায় ২/৩ টি প্রশ্ন নতুন আসতে দেখা যায়, আর বাকিগুলো বিগত বছর হতেই কমন পড়ে। তাই কমন প্রশ্নগুলোর উত্তরে ভাষাগত মাধুর্য, উক্তি ব্যবহার ও টু-দি-পয়েন্ট উত্তরের দিকে নজর দিবেন। প্রয়োজনে নোট করবেন।

* ভাবসম্প্রসারণ ও সারাংশ-সারমর্ম লেখা এক ধরনের আর্ট। এগুলো মাঝে মাঝেই পড়তে হবে এবং নিজে বানিয়ে লেখার প্রাকটিস করতে হবে। এক্ষেত্রে গ্রুপ স্টাডি কাজে আসবে। সপ্তাহে ২ দিন করে অন্য পড়ার ফাঁকে ফাঁকে প্রাকটিস করতে পারেন। এগুলো হুট করে একদিন পড়ে ভালো করা যায় না।

ভাবসম্প্রসারণের কিছু কমন টপিক থাকে। সে টপিক অনুযায়ী কয়েকটি করে শ্লোগান, প্রবাদ, সাহিত্যিক বা মনীষীদের ছোট ছোট কোটেশন সংগ্রহ করুন। নম্বর বাড়াতে এগুলো খুবই উপকারী। তাছাড়া পরে দেখবেন সেগুলো অনেক জায়গায়ই ব্যবহার করতে পারছেন। এ টপিক গুলো এমন হবে- মানবতা, জ্ঞান-বিদ্যা, জীবন, প্রকৃতি, ভালোবাসা, সত্যবাদিতা/মিথ্যাবাদিতা, দেশপ্রেম, নারীর ক্ষমতায়ন, সুখ-দুঃখ, সভ্যতা, বন্ধুত্ব, স্বার্থপরতা ইত্যাদি। ভাব সম্প্রসারণে তথ্য-উপাত্তও ব্যবহার করা যাবে, এ তথ্য-উপাত্তগুলো বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী পড়ার সময় শিখবেন।

* অনুবাদও চর্চার বিষয়। বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষা মিলিয়ে অনুবাদে ৬৫ নম্বর। তাই এর গুরুত্বও অনেক। সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ২ ঘণ্টা করে অনুবাদের জন্য সময় রাখা উচিত। যারা এ টপিকে দুর্বল তারা অ্যাসিউরেন্স গাইডের অনুবাদ গুলো থেকে দু'বার করে চর্চা করার চেষ্টা করতে পারেন। ভোকাবলারির পাশাপাশি কিছু কমন, বারবার আসা phrase বা লাইন আন্ডারলাইন করে রাখবেন এবং মাঝে মাঝে রিভাইস দিবেন। বই থেকে চর্চা করার সুবিধা হলো এখানে বাংলা ও ইংরেজি দু'টোই করে দেওয়া থাকে, তাই আপনি মিলিয়ে দখতে ও শিখতে পারবেন। বিগত রিটেন পরীক্ষায় আসা অনুবাদগুলোও চর্চা করবেন। পরবর্তীতে (সম্ভব হলে) পত্রিকার অনুবাদও করতে পারেন। অনুবাদ বিষয়ে Saifur's এর একটি ছোট বই আছে। এ বইটি আপনাকে স্ট্রাকচারালি বাক্য গঠনে সহায়তা করবে।

* গ্রন্থ-সমালোচনা বিষয়টি অনেকের জন্যই নতুন। এটি শুধু গ্রন্থের কাহিনীকে বোঝায় না। বরং রচনার শিল্পমূল্য বিচার করাকে বোঝায়। বাজারের কিছু বইয়ে দেখেছি শুধু কাহিনী তুলে দিয়েছে। তবে অ্যাসিউরেন্স গাইডে একদম ঠিক আছে। যদি ভালো নম্বর তুলতে চান, তাহলে সংক্ষেপ করে গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। বইয়ে অনেক বড় করে লেখা, যার এক-তৃতীয়াংশ হয়তো পরীক্ষায় লেখার সুযোগ পাবেন। আমি মোট ১০/১২ গ্রন্থ সমালোচনার সংক্ষেপ(পয়েন্ট বানিয়ে) মুখস্থের মতো করে রেখেছিলাম। এবং প্রতিটিতে ৪/৫টি করে কোটেশন শিখে রাখতাম।

* আমরা বেশির ভাগই কাল্পনিক সংলাপে গুরুত্ব দিতাম না। তবে ভালো করতে চাইলে, গাইডের সংলাপগুলো সতর্কভাবে পড়ে ফেলুন। সব না পড়লেও হবে, অন্তত ২০-২৫টি। তারপর সময় পেলে নিজে প্রাকটিস করুন। ভাষাগত মাধুর্য, তথ্য উপস্থাপনা ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে মনোযোগ দিন। সাদামাটা ভাবে লিখলে নম্বরও সাদামাটা আসবে। প্রয়োজনে কয়েকটি ইমপর্টেন্ট দেখে সংলাপ নোট করুন এবং উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য আনার দিকে নজর দিন। তথ্য-উপাত্ত সংযুক্ত করতে পারলে ভালো।

* পত্রলিখনে 'অথবা' থাকে। চেষ্টা করবেন দরখাস্ত বা প্রতিবেদন উত্তর করতে। কারণ ব্যাক্তিগত পত্রে নম্বর কম আসে। আর এখানে ফরমেটটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ফরমেটে সঠিক পত্র লিখার পাশাপাশি পেশাগত লেখনী আনার চেষ্টা করবেন। সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের ভাষাগত তফাৎ রয়েছে। আপনার লেখার ভেতরেও এ সচেতনতার উপস্থিতি থাকা ভালো।

* রচনা এখনই পড়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী পড়া শেষ হবার পর পড়লেও চলবে। সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী রচনায় তথ্য-উপাত্ত, কোটেশন, চিত্র, ম্যাপ, গ্রাফ, পাই-চার্ট ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারলে ভালো নম্বর পাবেন। এক্ষেত্রে 'BCS Written Campaigner' গ্রুপে শেয়ারকৃত রচনার নোটগুলো দেখুন। আর মনে রাখবেন, অধিক সংখ্যক রচনা পড়তে হয় না। সাধারণত ৫-৭টি রচনা পড়লেই পরীক্ষায় একাধিক রচনা কমন পড়ে থাকে।

* চাইলে পাশাপাশি ডাইজেস্ট গাইড সংগ্রহ করতে পারেন। বাজারে ভালো মানের অন্য কোন বই থাকলে, সেটাও ফলো করতে পারেন। তবে একটার বেশি গাইড ফলো করা প্রায় অসম্ভব। কেননা একটা গাইডেরই বড়জোর ৩০-৪০% পড়া সম্ভব হয়।

* সব কিছুই নোট করে পড়ার দরকার নেই। কেননা বাংলার জন্য প্রস্তুতি নিতে আপনি হয়তো সর্বোচ্চ ১০-১২ দিন সময় পাবেন।

* শুরু থেকেই বাংলা লেখার সময় বানানের শুদ্ধতার দিকে নজর দিন। বাংলা পরীক্ষায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি যাদের হাতের লেখায় জড়তা ও অস্পষ্টতা আছে, তা দূর করবার চেষ্টা করবেন।

* বাংলা পরীক্ষায় কিভাবে ভালো করবেন তা নিয়ে বাংলার ছাত্রদের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। তাতে আপনার লেখনী আরো সমৃদ্ধ হবে।

বাংলা বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার এ পরামর্শগুলো একান্ত আমার, যার ৭০-৮০% কাজে লাগাতে পারলে আপনি ভালো নম্বর(১২৫+) পাবেন বলে আশা রাখি।

সবশেষে, প্রতিযোগিতায় নেমে হাল ছেড়ে দেওয়ার কোন রীতি নেই। তাই আপনার সর্বোচ্চটা দিন। হেলে-খেলে রিটেন পরীক্ষায় হয়তো অনেকে পাশ করে। তবে ক্যাডার পাওয়া, বিশেষ করে জেনারেল ক্যাডার পাওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমের বিকল্প নেই। সুশান্ত পাল স্যারের সাথে সুর মিলিয়ে শেষ করব- হয়তো আগামী ০৩ মাসের প্রস্তুতিই হতে পারে আপনার আগামী ৩০ বছরের safeguard!

শুভ কামনায়

সাইফুল হুদা নাজাত

৩৭ তম বিসিএস (প্রশাসন)
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড