• মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইউরোপ এবং আমেরিকায় চাকরি পেতে করণীয় ও বর্জনীয়

  রহমান মৃধা

২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:১৭
চাকরির
ছবি : প্রতীকী

শিক্ষার গুণ ও মান ভাল পরীক্ষার ফলাফলও ভালো। তবুও মনোপুত চাকরি বিদেশে হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না? কি কারণ থাকতে পারে এর পেছনে? বাংলাদেশে না হয় দুর্নীতি বা টাকাপয়সার লেনদেন জড়িত থাকতে পারে কিন্তু বিদেশে? ভাষা, ধর্ম, বর্ণজনিত সমস্যা? মানিয়ে চলা, রেফারেন্স বা অন্য কোনো সমস্যা? নাকি ইন্টারভিউয়ের দুর্বলতা?

নানা জনে নানা বিশ্লেষণ দেবে এবং এটাই স্বাভাবিক। আমি চেষ্টা করব একজন কর্মজীবী ও একজন নিয়োগকর্তা হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামত সবার সঙ্গে শেয়ার করতে। আশাকরি চাকরিপ্রার্থীরা কিছুটা উপকৃত হতে পারবে। প্রথমত নিজের ওপর একটি ভালো SWOT-analys করতে হবে এবং তা সুন্দর করে তুলে ধরতে হবে সিভিতে। SWOT মানে Strengths, Weaknesses, Opportunities, এবং Threats।

নিজের সক্ষমতার পাশাপাশি দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। যেমন ভাষাগত বা সামাজিক দুর্বলতা নিয়ে একটু ভাবনা আসতেই পারে। সেক্ষেত্রে এর ওপর খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া ঠিক হবেনা। কারণ মেনে নিতে হবে “Once a Foreigner Always a Foreigner.” তবে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে যেকোনো সমস্যা চিহ্নিতকরণের দক্ষতার ওপর। সমস্যা নিজের দেশেই হোক বা অন্য দেশেই হোক, তা সমাধান করতে হলে সেটিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ সমস্যা কি তা যদি সনাক্ত করা যায় তখন সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। কিন্তু সমস্যাই যদি চিহ্নিত করা না যায় তাহলে সমাধান কখনোই সম্ভব হবে না।

আমরা আমাদের কালচারে যেমন অভ্যস্ত তেমন সমন্বয় করার দক্ষতাও ভাল। দক্ষতা তো দক্ষতাই তাই নিজের দেশের কালচারের অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন আরেকটি দেশের কালচারে অ্যাডজাস্ট করা সহজ, তবে নতুন পরিবেশ-পরিস্থিতিকে বুঝতে একটু সময় লাগে। আর কর্মের ওপর দক্ষতা নির্ভর করবে প্রশিক্ষণের ধরনের ওপর। ভালো প্রশিক্ষণ থাকলে সহজে নতুন কিছু জানা এবং শেখা সহজ হবে। পজিটিভ মনোভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থাকতে হবে সারাক্ষণ।

দুর্বলতাকে ঢাকতে অযথা সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না। লুজার খোঁজে অজুহাত আর উইনার খোঁজে সমাধান, এ কথা মনে রাখতে হবে। চাকরির বাজার দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় সাক্ষাৎকার (ইন্টারভিউ) পর্যন্ত পৌঁছানো কঠিন ব্যাপার। তাই একবার পৌঁছে গেলে ব্যর্থ হবো না, এই মনোভাব শক্তপোক্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে ভাইভায় নিয়োগকর্তাদের সামনে বসে আচমকা কোনো বেফাঁস কথা বলা যাবে না। ইন্টারভিউয়ের সময় প্রতিটি কথা অবশ্যই ভেবেচিন্তে বলতে হবে। ভিন দেশে কেন চাকরিটি আমাকে দেবে, কি গুণাগুণ আমার আছে যা অন্য কারও নেই?

এমন প্রশ্ন করা হলে জবাবে কারও কৃপাপ্রার্থিতা নয় বরং যোগ্যতাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আমি গেস্টস্টুডেন্ট গরিব দেশ থেকে এসেছি, বাবা-মার সঙ্গতি নেই আমার ভরণ-পোষণ জোগানোর তাই একটি কাজের খুবই প্রয়োজন। এমন ধরণের ইংগিতে বোঝা যায় আমি করুণা নিতে চেষ্টা করছি। যদিও ঘটনা সত্য তবে অপ্রিয় সত্য কথা ইন্টারভিউয়ে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট বহন করবে। বরং যদি বলা হয় আমি তোমাদের দেশে এসেছি, প্রশিক্ষণের সঙ্গে তোমাদের ভাষা, কালচারসহ কর্মজীবনের সব বিষয় জানতে চাই, যা আমার শিক্ষাকে আরও মজবুত করবে। আমি যখন নিজ দেশে ফিরে যাব, তোমার দেশের টেকনোলজি সহজভাবে আমার দেশে ব্যবহার করতে পারব এবং অন্যকেও উৎসাহিত করব।

কর্মে জটিল সমস্যাকে আমি আমার চিন্তাচেতনায় ভিন্ন অ্যাঙ্গেলে দেখতে চেষ্টা করব, যা নিশ্চিত আমাদের যৌথ কাজে ক্রিয়েট সাম এক্সট্রা ভ্যালু। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে সে ক্ষেত্রে। গ্লাসে যদি অর্ধেক পানি থাকে বলা যেতে পারে গ্লাস অর্ধেক পরিপূর্ণ বা অর্ধেক খালি। পজেটিভ পরিবেশে তারিফ করে বলা শিখতে হবে গ্লাস অর্ধেক পরিপূর্ণ। এ ধরণের বুদ্ধিদীপ্ত জবাব নিয়োগকর্তাদের মুগ্ধ করে। পৃথিবীর বহু দেশ এবং দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি তাই যতোটুকু শিখেছি তাতে বলা যেতে পারে বাংলাদেশিরা কাজে ঢুকতে পারলে ম্যানেজ করে ভালো। যেখানে বাংলাদেশি কাজ করে সাধারণত সেখানে কাজ পেতে সুবিধা হয়ে থাকে ভালো রেপুটেশনের কারণে। কখনও বলা উচিত হবে না আমি বিদেশি তাই আমার যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও আমাকে কেউ চাকরি দিচ্ছে না। বা আমি আগে যেখানে চাকরি করতাম, সেই প্রতিষ্ঠানটা জঘন্য। এ ধরণের মন্তব্য চারিত্রিক সংকীর্ণতার বহিঃপ্রকাশ। নতুন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়ার আগে চাকরিদাতা আগের কর্মস্থলে যোগাযোগ করতে পারে সে বিষয়টি মনে রাখতে হবে। কাজেই নিজের সম্ভাবনাটা নষ্ট হতে পারে এমন কিছু করা ঠিক হবে না। বিদেশে প্রতিটি বাংলাদেশির গুরুদায়িত্ব রয়েছে তার কর্মে। কারণ যে কাজই করুক না কেন সে বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দেশকে তুলে ধরে। অতএব দেশের বাইরে কাজ করার গুরুত্ব যেমন রয়েছে তেমন রয়েছে অন্যকে সুযোগ করে দেয়া। জব ইন্টারভিউয়ে শুধু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তা নয়, তাদেরকেও প্রশ্ন করতে হবে। যেমন কোম্পানির বিষয় বা ক্যারিয়ার পসেবিলিটিজ ইত্যাদির ওপর। মনে রাখতে হবে জব ইন্টারভিউ একটি বেচাকেনার জায়গা। দুই পক্ষকেই ভালো লাগতে হবে। আমার যেমন তাদের দরকার, কোম্পানির তেমন আমাকে দরকার, এ দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। ভয় করলে চলবে না, ভয়কে জয় করার মনোভাব থাকতে হবে একইসঙ্গে মডেস্টি দেখাতে হবে। যেমন কোনো এক বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে যা অজানা, সুন্দর করে বলতে হবে বিষয়টি আমার জানা নেই।

সিক্রেট বা হিডেন এজেন্ডা না থাকা ভালো। হয়তো প্রশ্ন করতে পারে, এখানে সুযোগ পেলে চাকরির কোন দিকটা সবচেয়ে ভালো লাগবে। এমন প্রশ্নের জবাবে কখনোই বলা উচিত হবে না: বেতন, মধ্যাহ্নবিরতি, সহকর্মীদের সঙ্গ অথবা ছুটির দিনগুলো। কারণ, কর্তৃপক্ষ কিছুটা বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর আশা করে সে বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

সব সময় হেয়ার অ্যান্ড নাও কনসেপ্টে মনোযোগী হতে হবে, খেয়াল করে সব শুনতে হবে এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। একই সাথে একটি উন্মুক্ত ও সৃজনশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে, সর্বোপরি - make yourself believe, Job is yours.

ওডি/আরএডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড