• শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

নতুন বইয়ের বার্তা

কাজী নাদির হোসেনের দু’টি ভিন্নধর্মী উপন্যাস

  নিজস্ব প্রতিনিধি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৬

প্রচ্ছদ
প্রচ্ছদ : উপন্যাস ‘কথোপকথন: অনলাইন’ ও ‘কথোপকথন: অফলাইন’

অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ এ প্রকাশ হয়েছে কাজী কাদের হোসেনের দু’টি ভিন্নধর্মী উপন্যাস ‘কথোপকথন: অনলাইন’ ও ‘কথোপকথন: অফলাইন’। ইতোমধ্যে বই দু’টি পাঠক মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। 

‘কথোপকথন: অনলাইন’ সম্পর্কে কিছু কথা, বছর কয়েক আগে, সময়টা ঠিক মনে নেই, দু’জন, মানে লেখক ও তার স্ত্রীর জীবনে ঘটে যাওয়া এটা সেটা নিয়ে মিরপুর লেকের পাশে বসে গল্প-গুজব করছিলেন। গল্পটার শুরু ছিল এলেবেলে কথা দিয়ে, কিন্তু শেষটা বেশ মধুর ছিল। দু’জনের জানাশোনা সে তো আর কম সময়ের ছিল না! তাই সেই কথোপকথন চলেছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রাত্রির প্রথম প্রহরে শুরু হয়ে শেষটা হয়েছিল মাঝ রাত্রিরও পর।’ 

‘কথায় কথায় তখনই লেখক তার দুই সন্তানের জননীকে বলেছিলেন, ‘আচ্ছা, দু’জন প্রেমিক-প্রেমিকার কথোপকথন, যার কেবল শুরু আছে, শেষ নাই, সেটা দিয়ে কি একটা পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হতে পারে না?’ তার স্ত্রী বলেছিলেন, ‘কেন নয়।’ লেখক ভেবেছিলেন, তাই তো, কেন নয়? তারপর, সময় পাওয়া মাত্রই লেখক লিখতে শুরু করেন কথোপকথন। আর লিখতে লিখতেই তার মনে আসে, এ যুগে তো কথোপকথন কেবল সামনাসামনিই নয়, অনলাইনেও সমানতালে চলে। যেমন ভাবা, তেমন কাজ।’

কেবলমাত্র দু’টি চরিত্রের উপর ভিত্তি করে লেখা উপন্যাসটিতে মিলবে নতুনত্বের খোঁজ। নিশ্চয়ই পড়তেও ভাল লাগবে। যদিও ভিন্ন ধারার এই উপন্যাসটি অডিও আকারে করা গেলে যে আরও ভাল হতো তাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে দু’জনে মিলে একত্রে আবৃত্তির সুরে-সুরে পড়তে শুরু করলে নিশ্চিত ভিন্ন এক ভাল লাগায় আচ্ছন্ন হবে পাঠক। সেই বিশ্বাস লেখকের আছে। 

‘কথোপকথন: অফলাইন’ নিয়ে কিছু কথা, ‘দু’জন যেন চোখে চোখ রেখে অনন্তকাল ধরে বসে আছে মুখোমুখি, কিংবা পাশাপাশি গায়ে গা ছুঁইয়ে। অথবা এর কোনটাই নয়। দু’জন নিরবধি হাতে হাত রেখে চলছে; বাহুতে কোমর জড়িয়ে খানিক দাঁড়িয়ে কখনো করছে খুনসুটি। সেই সাথে চলছে দু’জনার বিরামহীন কথোপকথন।’ 

‘জীবনের সব থেকে মধুর সময়টাতে কাছে এসেছিল, ভালবাসার বন্ধনে জড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরিণতি পায়নি সেই সম্পর্ক। দু’জনের পথ দুই দিকে বেঁকে গিয়েছিল। আবার কখনো এক হবে, এমনটাও ভাবতে পারেনি। কিন্তু মানুষের জীবনে শেষ কথা বলে আসলেই কি কিছু আছে? নিয়তির খেলা বোঝা কি এতই সহজ? নিশ্চয়ই নয়! দীর্ঘ দেড় যুগ পর তাই দেখা হল আবারও। বন্ধুর সময় পাড়ি দিয়ে আজও তারা একাই আছে। ভালবাসার ডালি নিয়ে নতুন কেউ এসে জড়িয়ে পড়েনি তাদের জীবনে। আবারও দু’জনের কাছে আসাতে, ভালবাসায় জেগে থাকাতে, কিংবা নতুন করে ঘনিষ্ঠ হতে তাই সমস্যা হল না কোন। এতগুলো বছরের ব্যবধান ঘুচে গেল মুহূর্তের ভিতর। কত কত না বলা কথা, বুকে জমে থাকা এক রাজ্য অভিমান, দুঃখ, যন্ত্রণা আর ভালবাসার পঙক্তিমালায় মুখরিত হয়ে উঠল তাদের সময়। চলতে লাগল মালা গাঁথা, কথার পর কথা।’

বাংলা সাহিত্যে কেবলমাত্র দু’টি চরিত্রের উপর ভিত্তি করে কোন উপন্যাস হয়েছে কিনা জানা নাই। স্রেফ এক মানব আর এক মানবীকে উপজীব্য করে লেখা এই উপন্যাসটি যে তাই ভিন্ন ধারার, তাতে কোন সন্দেহ নাই। লেখকের বিশ্বাস, পড়তে শুরু করলে নিশ্চয়ই ভাল লাগবে পাঠকের। আর সেটা যদি হয় দু’জনে মিলে একত্রে আবৃত্তির সুরে সুরে পড়া, তাহলে তো কথাই নেই।

কাজী নাদির হোসেন, নতুন বাংলাদেশে ৭০ দশকের ক্রান্তিকালে বাগেরহাটের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মা কাজী তাহমিনা হোসেন খুশি এবং বাবা কাজী আকরাম হোসেন একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। লেখকের বেড়ে ওঠা গোপালগঞ্জ শহরে, আর গড়ে ওঠা ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় সমগ্র জেলায় ছিলেন প্রথম। আর মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় পেয়েছিলেন নবম স্থান। অত্যন্ত সফল শিক্ষা জীবনের ধারাবাহিকতায় এক সময় পা রাখেন বুয়েট-এ, ভর্তি হন তড়িৎ প্রকৌশল শাখায়। কিন্তু সেই পথে আর হাঁটা হয়নি, প্রত্যুষেই পাল্টে ফেলেন দিক, বেছে নেন চ্যালেঞ্জিং ভিন্ন এক জীবন।

টুকটাক লেখালেখির শুরু বাল্যকালেই, প্রিয় শিক্ষক ও গুরু ডক্টর অনাথবন্ধু মল্লিকের প্রেরণায়। এরপর কলেজ সাময়িকী, বিভিন্ন জার্নাল আর জাতীয় দৈনিকে হাতেখড়ি। এরই ভিতর ছোটখাটো কিছু পুরষ্কারও জুগিয়েছে প্রয়োজনীয় উৎসাহ। দেশ, মানুষ, মনুষ্যত্ব নিয়ে ভাবেন তিনি। মনস্তত্ত্ব আর জীবনদর্শন তার লেখার গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। দেশকে নিয়ে লেখা প্রথম উপন্যাস ‘বাংলাদেশ’ এর প্রথম খণ্ড, ‘১৯৭৩’ ও দ্বিতীয় খণ্ড, ‘অস্থির কৈশোরে বল্গাহীন’ প্রকাশ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন উপন্যাস ‘একাত্তরের তীর্থযাত্রা’। আর মানুষ নিয়ে লিখেছেন উপন্যাস ‘একজন জমির আলী’, ‘অবশেষে পোহালো রাত’ ও কাব্যগ্রন্থ ‘এ যুগের মেয়ে’। উপন্যাস ও কবিতার পাশাপাশি ছোট গল্পের জগতে পা রেখেছেন ‘ত্রিফলা’ আর ‘প্রেসিডেন্ট’ দিয়ে। রম্য রচনায় হাত দিয়ে সাহস করে লিখেছেন গল্পগ্রন্থ ‘লোকাল বাস’। ছেলেদের আবদারে ছোটদের জন্য লিখেছেন ‘ভুত অনেক মিষ্টি’, ‘পরীর ভাইয়া ভুত’, ‘ভূত এবার বন্ধু’ এবং ‘মিষ্টি ভূতের অনেক দয়া’। অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ এ এসেছে তার ভিন্নধর্মী দু’টি উপন্যাস ‘কথোপকথন: অনলাইন’ ও ‘কথোপকথন: অফলাইন’।
 
লেখক পাকিস্তানের করাচী বিশ্ববিদ্যালয় হতে সামরিক বিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ হতে সামরিক স্ট্যাডিজে প্রথম শ্রেণিতে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। শিক্ষিকা স্ত্রী মাহমুদা ইয়াসমিন রুমু এবং দুই পুত্র তাসজীদ হুসাইন পার্লী ও তাওসিফ হুসাইন গ্লোরীকে নিয়ে লেখকের ছোট্ট সংসার। আমরা তার সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড