• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘রুপান্তর’ শিরোনামে শিল্পী ‘মো. রফিকুল ইসলাম রবি’র প্রদর্শনী

  বাপ্পি লিংকন রায়

১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:১৫
প্রদর্শনী
ছবি : লেখক

শিল্পী এই বিশ্বমণ্ডলীর শুধু দর্শক নয়। তিনি সর্বদা দৃষ্টি রাখেন সমাজে ও প্রকৃতিতে, বিশেষ অনুধাবনের ফলে তা প্রকাশ ঘটান শিল্পকর্মে। এখানে শিল্পী যা ভাবেন অথবা তাকে যে বিষয়টি তাড়না দেয় তাই আঁকেন। অর্থাৎ শিল্পকর্মের ক্ষেত্রে শিল্পী সরল রূপে অনুভবের প্রকাশ ঘটান। তাই শিল্পকর্ম হলো শিল্পমনের প্রকাশ, যা দর্শকের মনে সঞ্চারিত করার মধ্য দিয়ে এর সফলতা শুরু। 

রেনেসা শিল্প বিপ্লবের পর বিশ্ব সভ্যতার ব্যাপক পরিবর্তন হয়। মানুষ যন্ত্র ও এই জাতীয় জিনিসের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। সমাজে যেন একটি অসম প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। এতে করে অন্যের কতটা ক্ষতি হচ্ছে তা না দেখে ব্যক্তি স্বার্থটা অনেক ক্ষেত্রে মুখ্য হচ্ছে। এর ফল ভালোও হয়নি ততটা। হিংসা-লোভ লুপ্ত করেছে বিবেক; যুক্ত করেছে যুদ্ধ। মৃত মানুষের সারি ও বারুদের গন্ধ নিয়েই জন্ম নেয় শিশু এখানে। তাই শিল্প ও মানবতাবাদের কথা বলতে চান শিল্পী মো. রফিকুল ইসলাম রবি। নিজের শিল্পকর্ম সম্পর্কে বলেন, “সমাজ বাস্তবতা আমার ছবির মূল বিষয়বস্তু। আমার ছবির স্লোগান- যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই ”। 

শিল্পী রবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও শান্তিনিকেতনের কলাভবন হতে ছাপচিত্রের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রচণ্ড আবেগ ও ভালবাসা নিয়ে কাজ করেন প্রিয় মাধ্যম উডকাঠ, এচিং, অ্যাকুয়াটিন্ট, লিথোগ্রাফি, সাইনোটাইপ, গামপ্রিন্ট ইত্যাদিতে। তবে ইন্টাগ্লিও মাধ্যমটি তাকে বেশি প্রেরণা দেয়, আনন্দ দেয়, ও নতুন কাজের শক্তি যোগায়।  

শিল্পীর এবারের প্রদর্শনীয় নামকরণ করা হয় “রুপান্তর/ট্রান্সফরমেশন”। প্রদর্শনীতে রুপান্তর শিরোনামের বেশ কয়েকটি শিল্পকর্মও রয়েছে। যা যুদ্ধশিশু, শিকারী, জন্মগ্রহণ শিরোনামে প্রকাশ করেছে। এচিং অ্যাকুয়াটিন্ট মাধ্যমে করা চিত্রগুলো নিখুত ও দীপ্তময়। চিত্রের প্রতিটি রেখা, ফর্ম, ও লেয়ার মূল বক্তব্যের বাইরে নয়। 

রুপান্তর শিরোনামের চিত্রে একটি শিশুর অবয়ব/কায়া দেখি, যা দূষণ ও কালো বর্ণময়। শিশুর মাথাটি একগুচ্ছ যন্ত্রে ডেকে দেওয়া হয়েছে। তার গায়ে একটি অস্ত্র জুড়ে দেওয়া হয়, যুদ্ধ ও বিনাশের প্রতীকি অর্থেই যেন। আর এ থেকে যুক্তির লক্ষ্যে নিচে একটি উড়ন্ত পাখির বার্তা বহন করছে। 

চিত্রের বাম অংশ হতে অগ্রসরমান এক সারি মানুষ যন্ত্রাংশের ভিতরে প্রবেশ করছে। তবে তাদের যন্ত্র হতে নির্গমনে অসামর্য্য ধূসর জ্যামিতিক ভঙ্গি দেখা যায়। এমন সঙ্কটময় পরিবেশের মধ্যে আছে প্রায় সকল শহরের শিশু যার ইঙ্গিত পাই চিত্রে। মানুষ যেন সূর্যকেও নিয়ন্ত্রণ করে যন্ত্র চক্ষুর ন্যায় আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যুদ্ধশক্তি, শিকারী, জন্মগ্রহণ চিত্রদ্বয়েও আমরা এমনই অস্তিত্বহীন জীবনের প্রকাশ দেখতে পাই। 

“চাকা” শিল্পীর আরেকটি সিরিজের কাজ। এচিং অ্যাকুয়াটিন্ট ও মেজোটিন মাধ্যমে করা চমৎকার সব শিল্পকর্মগুলো। চাকা শক্তির প্রতীক। শেকলে বাঁধা চাকা সমাজের দূরাবস্থা, হীনমন্যতা, অসমতা, ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে যেন চাকারা মুক্তির গান গাইছে। তবে যুদ্ধ করে নয়। সম্প্রীতির মাধ্যমে জয় করতে চায় শিকলের বাঁধন। 

হনুমানকে নিয়েও করেছেন বেশ কিছু চিত্র। উডলিথো ও এচিং মাধ্যমে করা “মা ও শিশু” ও “হনু” কাজ দুটি অতি আধুনিক ও নান্দনিক শিল্পকর্ম। “টেরর, এনিমি, টেরটি শিল্পীয় আরেকটি সিরিজের কাজ। প্লেটোগ্রাফি মাধ্যমে সমাজের আসন প্রতিযোগিতা ও হানা-হানির চিত্র অর্ধ-ব্যঙ্গাত্মকভাবে এঁকেছে। এতসব গাম্ভীর্যপূর্ণ শিল্পকর্মের মাঝেও দর্শকের জন্য কিছু নিসর্গ চিত্র রেখেছে। 

এদের মধ্যে রয়েছে সাঁওতালদের জীবন, শ্রমজীবী, নদী ও নৌকার ছন্দময়তা এবং কিছু জড় জীবনের বৈচিত্রপূর্ণ ছবি। এই প্রদর্শনীগুলো সম্পর্কে অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, “জীবনের রূপান্তরধর্মী গতিশীলতার যে মৌল সত্যটির সঙ্গে তার পরিচয় ঘটেছে তাকেই এই চিত্রগুচ্ছের মাধ্যমে সে উপস্থাপন করতে আগ্রহী।” 

শিল্পী রবির ছাপাই ছবির প্রদর্শনীটি বাংলার শিল্পজগতে নতুন অধ্যায়। তার শিল্পকর্মগুলো যেমন দর্শককে অনুভূতির নতুন মাত্রা দেবে তেমনি প্রণোদনায় কমতি হবে না। তবে, প্রদর্শনীতে শিল্পীর চিত্র নির্বাচন ও ডিসপ্লেতে আরও একটু মনোনিবেশ করলে ভালো হতো; উদ্ভাবনী মনের শিল্পীর জন্য শুভকামনা রইল। 

আলিয়ঁস ফ্রসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে শিল্পী মো. রফিকুল ইসলাম রবির “রুপান্তর” শিরোনামের একক প্রদর্শনী চলবে ১৩ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত।  প্রদশর্নীতে শিল্পীর ৫০টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। 

প্রদশর্নীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

মেলা চলার সময়- সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ।

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড