• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

১৫ শিল্পীর চিত্র সমাহার ‘অনুষঙ্গ’

  বিনোদন ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৪
চিত্রকর্ম
শিল্পীদের কিছু চিত্রকর্ম

বর্তমানে চিত্রকলা আনন্দ প্রদানের স্বীকৃতি থেকে দূরে সরে এসেছে। মানুষকে আনন্দ দেওয়া শিল্পীর স্বদিচ্ছা বলে অতীতে মনে করা হতো। তবে বর্তমানে এই ধারণার  পরিবর্তন ঘটেছে। এখন শিল্পীরা কাজ করেন অন্তর্লীন ভাবের উন্মোচন ও সময়ের সন্ধিক্ষনে। আমরা যা কনটেম্পরারী আর্ট বা সমকালীন চিত্র বলে জানি। বাংলার শিল্পীরাও এ থেকে দূরে নয়। 

লেকি আর্ট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বাংলার ১৫ জন নবীন শিল্পীকে নিয়ে “এড্হেয়ারেন্স/অনুষঙ্গ” শিরোনামে দলীয় প্রদশর্নীর আয়োজন করা হয়। ফাউন্ডেশনে সদস্য হওয়ায় আমারও সৌভাগ্য হয় এ দলে কাধ মিলাতে। শিল্পীরা ব্যক্তিগত ভাবনা বা ভাবনাপুঞ্জকে কল্পলোকের ভাষায় ছবি আকেঁন, যা দর্শকের ভালো লাগা- মন্দ লাগার দ্বারা গোড়ায় কড়া নাড়ে। 

শিল্পের চৈতন্যের বিকাশমানতার এই দলে আছে শিল্পের শিক্ষক, মুক্তশিল্পী ও সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করা শিল্পী। তারা সকলেই  যেমন শিল্পের সাধক, তেমনি নিজ কর্মে সমাদৃত ও প্রশংসিত। সকলের কাজ নিয়ে সমালোচনা করা আমার সাধ্য নয়; আমার কর্ম শিল্প নিমার্ণ ও এ বিষয়ের আলোচনা মাত্র।

এই প্রদশর্নীতে প্রায় ৩০টি চিত্রকর্ম থাকছে; যা কালি ও কলম, এ্যাক্রেলিক, ছাপচিত্র মাধ্যম, ট্রাপেষ্ট্রি ও মিশ্র মাধ্যমে করা। আমি ও শিল্পী প্রদিপ সাহা নেচার/প্রকৃতি শিরোনামে কাজ করেছি। তবে উপস্থাপনে আমি বিমূর্ততার আশ্রয় নিয়েছি ও শিল্পী প্রদিপের কাজ দেখে বাহারী বর্ণের করা শরতের প্রকৃতির ছবি বলে মনে হবে।

শিল্পী মাহাবুব আলম কাজ করেছেন গ্রামের পটভূমি নিয়ে। চিত্রের সন্মুখভাগে বিশাল বৃক্ষরাশি ও দূরে মাঠ এবং গ্রাম। কালিতে করা ল্যান্ডস্কেপ সিরিজের কাজটি সময় ও মুহূর্তকে আটকে রাখার চেষ্টা, যা ইমপ্রেসনিজন-এর কথা মনে করিয়ে দেয়।

শিল্পী ইকবাল বাহার চৌধুরী এ্যাক্রেলিক রঙে বিমূর্ত কাব্য রচনা করেন। শিল্পী এস এম এহসান ছাপচিত্র মাধ্যমের ক্ষুরধর শিল্পী ও শিক্ষক। তার কাজে আমরা সময়ের অভিব্যক্তি, ব্যক্তি অভিব্যক্তি কিংবা অন্তর্নিহিত কোন অভিব্যক্তির প্রকাশ পাই বিমূর্ত ও মূর্ততার ছাপে।  

তাদেরই বন্ধু শিল্পী কুন্তুল বাড়ৈ। তিনি সর্বদা সমসাময়িক চিত্রকলা নিয়ে কাজ করেন। তবে এই প্রদশর্নীতে ময়ূর ও বাংলার পুতুল নিয়ে কাজ করেছেন। চিত্রের ছোট পরিসরে ও গতিময়তা ও নান্দনিক বর্ণের ব্যবহার বিষয় বস্তুকে ছাড়িয়ে অন্য মাত্রা দেয়।

শিল্পী পারভেস হাসান রিগানের চিত্রকর্মের শিরোনাম ‘দ্য ম্যান ফর ট্রি ষ্টল ও স্ট্রাডি’ দু’টি কাজের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও বর্ণ ব্যবহারে শিল্পীর স্বকৃয়তার পরিচয় বহন করে। শিল্পী শারমিন আক্তার লিনার কাজে নারীর বৈশিষ্ট্য ও কোমলতার প্রকাশ দেখি, তাঁর চিত্রে সবুজ বর্ণে বহুরুপিতায় যেন আবেগ আরো গুরুত্ব বহন করছে।

ট্রাপেষ্ট্রির মাধ্যমে বাংলায় সমাদৃত ও পরিচিত লাভ করেন শিল্পী রশীদ চৌধুরী। তিনি এই মাধ্যমটি সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাংলার জনগণের কাছে এক নামে পরিচিত হন। বয়ন সুতা দিয়ে বুননের মাধ্যমে তৈরী হয় অতি চমৎকার এই শিল্পকর্ম। বর্তমানে শিল্পী নাবিলা নাবি এই মাধ্যমে কাজ করে দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। এই যৌথ প্রদর্শনীতে ’মাছ ও গোলাপ’ শিরোনামের দুইটি ট্রাপেষ্ট্রি থাকছে।

বাংলার ঐতিহ্যের বিষয় ও প্রকৃতিকে শিল্পের অনুপ্রেরনায় কাজ করেন শিল্পী নবরাজ রায়। অর্ধবিমূর্ত ল্যান্ডস্কেপ রচনার সঙ্গে টেপা পুতুল ও হাতির পুতুলের যে যোগসন্ধি ঘটিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনিয়। তার চিত্রকর্মের দিগে তাকালে মনে হবে আমি বাংলারই প্রকৃতি দেখছি। শিল্পী প্রিতম পিতু বাংলার লোক আর্ট বা লোকজ চিত্রকলার মোটিভ গুলো নিয়ে নিজের মত করে ব্যবহার করেছেন। তার চিত্রকর্মগুলো লোকজ চিত্রের আধুনিক ধারণায় নান্দনিক উপস্থাপন।

শিল্পী রাজিন মোস্তফা দ্বিপ্র শিরোনামহীন নামে দুটি চিত্রকর্ম করেন। উজ্জল বর্ণ ও কাঠের জানালা ব্যবহার করে দর্শকের কাছেই যেন শিল্পের ভাবনায় জানালার স্বাধীনতার কথা প্রকাশ করতে চাইছে। জাকিয়া আফরোজ ”ইনার উইভ্” শিরোনামে কাজ করেন। চিত্রে বর্ণের প্রসারতার আবেদন ও রেখার গতিময়তা কল্পলোকে নয় যেন বাস্তব কোন দৃশ্যে পরিভ্রমণ করা।

সাজিয়া রহমান সন্ধ্যা কাজ করেন বাংলার বর্ণ ও শব্দগুলো নিয়ে। শব্দ বাক্য হয়ে এক মুর্হূতে ভাব পরিবর্তন করে আবার নতুন কথা বলে। বৃষ্টির ছন্দময়তায় কবিরা কবিতা লেখেন, শিল্পীরা ছবি আকেঁন। এমনই উভয় কর্মের মেলবন্ধন করে অর্ধ-বিমূর্ত রচনা শিল্পী সন্ধ্যার চিত্র ”রেইন পয়েট্রি” । শিল্পী নাসরিন জাহান অনিকা ভালবাসেন ছাপচিত্র। এই মাধ্যমেই যেন তৃপ্তি পান, আনন্দ পান। প্রিয় পোষা বিড়ালকে নিয়ে করেছে অনেক চিত্রকর্ম। এচিং মাধ্যমে করা অনিকা শিরোনামের চমৎকার ছাপচিত্রের কাজ থাকছে এই প্রদশর্নীতে।  

লেকি আর্ট ফাউন্ডেশনের এই আয়োজনে দর্শক শিল্পের ভিন্ন স্বাদ পাবেন। শিল্প রসিক ও শিল্প সমালোচকগণ হবেন তৃপ্ত। ছোট প্রদর্শনী কিন্তু আয়োজন ও শিল্পমান বজায় রাখতে কোন ছাড় দেওয়া হয়নি।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩০ ঘটিকায় আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার গ্যালারি জুম এ “অনুষঙ্গ” র্শীষক দলীয় চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জনাব সৈয়দ হাসান মাহামুদ (শিল্পী ও প্রধানশিক্ষক, জাপি স্কুল অব আর্ট) এবং জনাব রুমি মোমান(পরিচালক, শিল্পাঙ্গন গ্যালারী)।

প্রদশর্নীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

প্রদশর্নীটি ১৭ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত চলবে।

সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
 শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদশর্নীটি খোলা থাকবে।

রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ।

লেখক- বাপ্পি লিংকন রয়

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড