• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

যে নারীর জন্য আজও কাঁদে সবার মন

  ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম

৩১ আগস্ট ২০১৯, ০৮:১৮
প্রিন্সেস ডায়ানা
প্রিন্সেস ডায়ানা; (ছবি- সংগৃহীত)

নীল চোখ, ছোট চুল এবং মনোমুগ্ধকর হাসি এই বর্ণনা যেই মানুষের ছিল তিনি মাত্র ৩৬ বছর বেঁচে ছিলেন। তার জনপ্রিয়তা এত বেশি ছিল যে, আজ ২০ বছর অতিবাহিত হলেও তার জীবনের কথাগুলো জানার জন্য মানুষ উৎসুক হয়ে থাকে। তার মৃত্যু আজও এক রহস্য। যে বিশেষ ব্যক্তির কথা বলছি, তিনি হচ্ছেন ব্রিটেনের রাজ পরিবারের সদস্য ‘প্রিন্সেস ডায়ানা’।

১৯৬১ সালের ১ জুলাই ব্রিটেনের স্যান্দ্রিংহামে ডায়ানার জন্ম হয়। তিনি মা-বাবার সবচেয়ে ছোট সন্তান ছিলেন। ডায়ানা যখন ছোট ছিলেন তখনই তার পিতামাতার মাঝে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এই বিচ্ছেদের পর ডায়ানা প্রায়ই নর্থাম্পটনশায়ার ও স্কটল্যান্ডে ভ্রমণ করতেন। তার চেহারা ছিল অনিন্দ্য সুন্দর। নীল চোখ নারী-পুরুষ সবাইকে সমভাবে আকৃষ্ট করত। চোখ দুটো ছিল মায়ামমতায় ভরা। 

পড়াশোনায় ডায়ানা ততটা ভালো ছিলেন না। তিনি কয়েকবার পরীক্ষায় অকৃতকার্যও হয়েছিলেন। তবে তার নাচ ও গানের প্রতি আলাদা ঝোঁক ছিল। ধনী পরিবারে জন্ম হলেও ডায়ানা পরিবারের উপর নির্ভর না করে নিজে নিজে উপার্জনের কাজ করতেন। তিনি কখনো ধাত্রী হিসেবে আবার কখনো রান্নাবান্নারও কাজ করতেন। তার মতো পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এমন কাজ করা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের জন্য সত্যিই কল্পনাতীত। ডায়ানা অতি সাধারণ একজন মেয়ে ছিলেন, যে অন্যান্য মেয়েদের সাথে মিশতেন ও কাজকর্ম করতেন।

ডায়ানা

১৯৮১ সালে ২০ বছর বয়সে ব্রিটেনের যুবরাজ চার্লসের সাথে অনেক ঘটা করে ডায়ানার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিশ্বের অনেক খ্যাতিমান বরেণ্য ব্যক্তি তার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। এই বিয়ের অনুষ্ঠান টিভিতেও প্রদর্শিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানটি প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন দর্শক দেখেছিল।

বিয়েটা যতটাই জমজমাট হোক আর বিয়ের পর ‘লেডি ডায়ানা’ থেকে ‘প্রিন্সেস ডায়ানা’ হলেও স্ত্রী ডায়ানার প্রতি চার্লসের ব্যবহার ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। ১৯৮২ ও ১৯৮৪ সালে দুই সন্তানের জন্ম হলে ডায়ানার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। এজন্য সংসার জীবন ধরে রাখার চেষ্টা করে যান। কিন্তু সম্পর্কের অবনতি ঘটতে ঘটতে ১৯৯২ সালে তারা বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। 

সাধারণত রাজমহলের বাইরে হাসিখুশি দেখালেও ১৯৯৫ সালে টেলিভিশনে তার বৈবাহিক জীবন সম্পর্কে বেশকিছু মন্তব্য করেন। তার পারিবারিক জীবন সম্পর্কে জানতে পেরে অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেন। এছাড়াও রাজপরিবারের প্রতি সাধারণত মানুষের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। অবশেষে ১৯৯৬ সালের ২৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

ডায়ানা

প্রিন্সেস ডায়ানা অনেক রূপে মানুষের কাছে পরিচিত হয়েছিলেন। একজন সমাজ সেবিকা, ফ্যাশন আইকন অথবা জনতার রাজকুমারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি নার্সারী, স্কুল ও হাসপাতালের লোকদের সাথে মিশতেন। তিনি খুব সহজেই সকলের সাথে মিশতেন। এজন্য সাধারণ মানুষ তাকে খুবই পছন্দ করত।

সামাজিক কর্মকাণ্ডে ডায়ানা নিজেকে উজার করে দিয়েছিলেন। তিনি এইডসের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচারণা করতেন। যুদ্ধ-বিগ্রহকে ডায়ানা খুবই ঘৃণা করতেন। স্থল মাইনের বিরুদ্ধে কথা বলতে তিনি বিশ্বের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। যুদ্ধ, সম্পদ নষ্ট ও মানুষের কষ্টে তার মন কেঁদে উঠত। তিনি গৃহহারা, আশ্রয়হীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাইতো মানুষ তাকে আজও স্মরণ করছে। 

১৯৯৭ সালের ৩০ আগস্ট ডায়ানা ও তার প্রেমিক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ডোডি আল ফায়েদ গাড়িতে করে প্যারিসের টানেল দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিয়েতে আবদ্ধ হওয়া। ডায়ানা হয়তো সেদিন স্বপ্ন দেখছিলেন নতুন কোনো আনন্দময় সুখী সংসার জীবনের। কিন্তু টানেলের ভেতর এক হৃদয়বিদারক গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানার স্বপ্নের অপমৃত্যু হয়।

গাড়ি দুর্ঘটনার পর ৩১ আগস্ট হাসপাতালে মারা যান ডায়ানা। বিবিসিতে তার মৃত্যুর খবর প্রচারিত হলে বিশ্বের সকল মানুষই দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। আজও ডায়ানার জন্য মানুষের মন কাঁদে। হয়তো ডায়ানার অন্তরের না বলা কথা ও কান্না উপহার হিসেবে স্রষ্টা সাধারণ মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। 

তথ্যসূত্র : বায়োগ্রাফি ডট কম, বিশ্বজয়ের কথা/মোঃ মনির হোসেন, থটকো.কম। 

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড