• বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

যেখানে চিরনিদ্রায় যাবেন মমতাজউদদীন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ জুন ২০১৯, ২২:৪০
মমতাজউদদীন আহমেদ
একুশে পদকপ্রাপ্ত মমতাজউদদীন আহমেদ (ফাইল ফটো)

প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমেদকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলার হাটে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত মমতাজউদদীন আহমেদের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রবিবার (২ জুন) বিকাল পৌনে চারটায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মমতাজউদদীন মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

মমতাজউদদীনের মরদেহ হাসপাতাল থেকে গুলশানের আজাদ মসজিদে নিয়ে গোসল করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর মিরপুরে তার বাসভবনে নেওয়া হবে। রূপনগরের স্থানীয় মসজিদে এশার নামাজের পর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (২ জুন) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে হবে দ্বিতীয় জানাজা। এরপরই নেওয়া হবে ভোলার হাটে।

মমতাজউদদীন আহমদের চিকিৎসক ছেলে সেজান মাহমুদ তিতাস এসব তথ্য জানান।

এর আগে শনিবার (১ জুন) শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে মমতাজউদদীনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। শনিবার হাসপাতালে মমতাজউদদীন আহমদকে দেখে এসে অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী বলেন, স্যারের (মমতাজউদদীন) চিকিৎসক ছেলে তিতাস আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছেন। তিতাস জানান, মমতাজউদদীন আহমেদের শারীরিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়, তিনি বিপদমুক্ত নন। তার শরীর অক্সিজেন নিতে পারছে না। শরীর থেকে কার্বন ডাই–অক্সাইড বেরিয়ে যাচ্ছে। পানি জমেছে মস্তিষ্কেও। এমন অবস্থায় ৪৮ ঘণ্টার বেশি রোগীকে টেকানো যায় না। তবে অলৌকিক কিছু ঘটলে ভিন্ন কথা।

মমতাজউদদীন আহমেদ বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে আইসিউতে রাখার পরামর্শ দেন। এর আগে তিনি একাধিকবার লাইফ সাপোর্ট থেকে ফিরে আসেন। তবে এবার তার ফেরা হয়নি।

মমতাজউদদীন নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদক লাভ করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নাট্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন।

এ ছাড়া অধ্যাপক মমতাজউদদীন বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে ৩২ বছর শিক্ষকতা করেছেন।  ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। তার লেখা বই রয়েছে ৫০ এর বেশি।

মমতাজউদদীনের লেখা নাটকের উল্লেখযোগ্য হলো- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, বিবাহ, বর্ণচোরা, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা, এই সেই কণ্ঠস্বর, রাজা অনুস্বরের পালা, হরিণ চিতা চিল, সাতঘাটের কানাকড়ি, ফলাফল নিম্নচাপ, কী চাহ শঙ্খচিল, এ রোদ এ বৃষ্টি, হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার, আমাদের মন্টুমিয়া, একটি কালো সুটকেস, প্রতিদ্বন্দ্বী, দ্বৈরথ, দ্বন্দ্ব, দ্বিধা, দহন, ইদানীং শুভ বিবাহ, যামিনীর শেষ সংলাপ।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড