• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

২০১৮ সালে যাদের হারিয়েছে বাংলাদেশ


৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:২৯
ব্যক্তিত্ব
২০১৮ সালে হারিয়েছি যাদের

আজ রাত পার হলে কাল উঠবে নতুন বছরের সূর্য। শেষ হতে যাওয়া এ বছরের হিসেব-নিকেশ করলে নতুন পাওয়ার সংখ্যা যেমন জানা যায় তেমনি জানা যায় এ বছর আমরা হারিয়েছি বিভিন্ন অঙ্গনের বেশ কিছু মানুষকে। হারানোর তালিকায় ছিলেন সাহিত্য অঙ্গনের মানুষ, কেউ ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ছিলেন বীরাঙ্গনাও। 

এই মানুষগুলো বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাহস দিয়েছেন, পরাজয়কে মেনে নিয়ে বেঁচে থাকা শিখিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে থেকেছেন শিক্ষক হিসেবে, বন্ধু হিসেবে। কেউবা ছিলেন ভক্তদের জন্য অসম প্রিয় মানুষ। তারা চলে গিয়েছেন, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে গিয়েছেন আদর্শ।  

২০১৮ সালে যে বিশেষ ব্যক্তিত্বদের আমরা হারিয়েছি : 

তারামন বিবি

তারামন বেগম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৫৭ সালে কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে নিজ গ্রাম কুড়িগ্রাম জেলার শংকর মাধবপুরে ছিলেন। তখন ১১ নং সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের। মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। যিনি তারামনের গ্রামের পাশের একটি ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন। তখন তারামনের বয়স ছিলো মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ বছর। কিন্তু পরবর্তিতে তারামনের সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার তাকে অস্ত্র চালনা শেখান।

তারামন

পরবর্তীতে সহকর্মীদের কাছ থেকে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের সাথে অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। ১৯৭৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী তার বীরত্বভূষণ নম্বর ৩৯৪। গেজেটে নাম মোছাম্মৎ তারামন বেগম।

তারামন বিবি কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ১লা ডিসেম্বর ২০১৮ সালে তিনি নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া তালতলা কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়।

আইয়ুব বাচ্চু

আইয়ুব বাচ্চু একাধারে গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার, ও চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী ছিলেন। এল আর বি ব্যান্ড দলের লিড গিটারবাদক এবং ভোকাল বাচ্চু ছিলেন বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীত জগতের জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। এর পূর্বে তিনি দশ বছর সোলস ব্যান্ডের সাথে লিড গিটারবাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। 

বাচ্চু

সঙ্গীতজগতে তার যাত্রা শুরু ফিলিংস ব্যান্ড দলের মাধ্যমে (১৯৭৮)। তিনি তার শ্রোতা-ভক্তদের কাছে "এবি" নামেও পরিচিত। তার ডাক নাম রবিন। মূলত রক ঘরানার কন্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং লোকগীতি ঘরানায়ও তিনি কাজ করেছেন।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। সঙ্গীতে তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই স্কুলজীবনে নিজ চেষ্টায় গায়ক হয়ে ওঠেন। সত্তরের দশকে গিটার বাজাতে শুরু করেন এবং অচিরেই গিটারে দক্ষ হয়ে ওঠেন। চট্টগ্রামে কলেজ জীবনে সহপাঠী বন্ধুদের নিয়ে তিনি একটি ব্যান্ডদল গড়ে তোলেন। এর নাম ছিল ‘গোল্ডেন বয়েজ’। পরে নাম বদলে করা হয় ‘আগলি বয়েজ’।

আইয়ুব বাচ্চুর ফুসফুসে পানি জমার কারণে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন (২৭ নভেম্বর, ২০১২)। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি সুস্থ হন।

চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর সকালে অসুস্থবোধ করায় আইয়ুব বাচ্চুকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

আমজাদ হোসেন 

আমজাদ হোসেন ছিলেন একজন বাংলাদেশী অভিনেতা, লেখক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক। ব্যতিক্রমধর্মী এই চলচ্চিত্র নির্মাতা তাঁর কর্মজীবনে ১২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ৬টি বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং এক আয়োজনে পাঁচটি বিভাগে ('গোলাপী এখন ট্রেনে' চলচ্চিত্রের জন্য) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। 

আমজাদ

তিনি ১৯৬১ সালে তোমার আমার চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন করেন। পরে তিনি চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন এবং চলচ্চিত্র পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র আগুন নিয়ে খেলা (১৯৬৭)। পরে তিনি নয়নমনি (১৯৭৬), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), ভাত দে (১৯৮৪) দিয়ে প্রশংসিত হন। 

'গোলাপী এখন ট্রেনে' ও 'ভাত দে' চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালকের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার লাভ করেন।

আমজাদ হোসেন ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। লেখালেখির মাধ্যমেই তাঁর সৃজনশীল জীবন শুরু। ছড়া দিয়ে সাহিত্যের অঙ্গনে তাঁর প্রবেশ। তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয় বিখ্যাত দেশ (পত্রিকা) পত্রিকায়। ছোটদের জন্যেও তিনি লিখেছেন বহু গল্প, ছড়া এবং উপন্যাস। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস ও গল্প লিখেছেন।

চলতি বছর নভেম্বর মাসে তিনি ইশকেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরবর্তীকালে সরকারী অনুদানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ২৭শে নভেম্বর ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ১৪ই ডিসেম্বর ৭৬ বছর বয়সে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ২০শে ডিসেম্বর তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছায় এবং দাফন শেষে জামালপুরের পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

রানী সরকার

রানী সরকার বা মোসাম্মৎ আমিরুন নেসা খানম ছিলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। বাংলা চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে।

রানি

রানী সরকার বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার সোনাতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

রানী সরকার অভিনয় জীবন শুরু করেন ১৯৫৮ সালে বঙ্গের বর্গী মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। এই বছরই তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় এ জে কারদার পরিচালিত দূর হ্যায় সুখ কা গাঁও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর ১৯৬২ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার এহতেশামুর রহমান পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র চান্দাতে অভিনয় করেন তিনি। সেই ছায়াছবির পর থেকে তার পিতৃপ্রদত্ত নাম মেরীর বদলে নতুন নাম হয় রানী সরকার। চান্দা চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর উর্দু ছায়াছবি তালাশ ও বাংলা ছায়াছবি নতুন সুর এ কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছায়াছবি দুটিও বেশ জনপ্রিয় হয়। এরপর তিনি প্রায় ২৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

রানী সরকার দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত ছাড়াও পিত্তথলিতে পাথর, বাতজ্বর, জটিল কোলেলিথিয়েসিস রোগে ভুগে চলতি বছরের ৭ জুলাই ঢাকার ধানমন্ডি ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে ইউনিটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাকে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তাজিন আহমেদ

তাজিন আহমেদ পেশায় ছিলেন একজন অভিনেত্রী এবং উপস্থাপক। তাঁর অভিনীত প্রথম নাটক ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। নাটকের পাশাপাশি তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে থিয়েটারে অভিনয় করেছেন।

তাজিন

তাজিন আহমেদের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই নোয়াখালী জেলায়। তাঁর বেড়ে ওঠা পাবনা জেলায়। ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে ১৯৯২ সালে তিনি এইচএসসিতে উর্ত্তীর্ণ হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেন তাজিন আহমেদ।

চলতি বছরের ২২ মে তাজিন আহমেদ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় সেদিন বেলা ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরের দিন জানাযা শেষে তাঁকে ঢাকার বনানী কবরস্থানে বাবা কামাল উদ্দিন আহমেদের কবরে পাশে সমাহিত করা হয়।

রমা চৌধুরী

রমা চৌধুরী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নির্যাতিত একজন বীরাঙ্গনা। ১৯৭১ সালের ১৩ মে ভোরে তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নিজ বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হন। সম্ভ্রম হারানোর পর পাকিস্তানি দোসরদের হাত থেকে পালিয়ে পুকুরে নেমে আত্মরক্ষা করেছিলেন। হানাদাররা গানপাউডার লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় তাঁর ঘরবাড়িসহ যাবতীয় সহায়-সম্পদ। তিনি তার উপর নির্যাতনের ঘটনা 'একাত্তরের জননী' নামক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

রমা

রমা চৌধুরী ১৯৪১ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার পোপাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর (এমএ)। তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। রমা চৌধুরী ১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মজীবন শুরু করেন। পরে দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বাসায় পড়ে গিয়ে কোমর ভেঙে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাড়ের ব্যথাসহ নানা রোগে ভোগার পর ২০১৮ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সোমবার ভোররাত ৪টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

কাঁকন বিবি

কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি পাকিস্তানী বাহিনীর বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর হয়ে গুপ্তচরের কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বীরপ্রতীক খেতাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কোন গ্যাজেট প্রকাশিত হয়নি। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লীপুর ইউনিয়নের ঝিরাগাঁও গ্রামে।

কাকন

কাঁকন বিবির আসল নাম কাঁকাত হেনিনচিতা। নামটি খাসিয়া। তিনি খাসিয়া সম্প্রদায়ের এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। 

ব্রেন স্ট্রোক করে ২০১৭ সালের ২১ জুলাই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কাঁকন বিবি। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। চলতি বছরের ২০ মার্চ গুরুতর অসুস্থাবস্থায় তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর । ২১ মার্চ বুধবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে এখানেই মৃত্যুবরণ করেন বীর এই মুক্তিযোদ্ধা।

সিরাজ হায়দার 

বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও জনপ্রিয় অভিনেতা সিরাজ হায়দার না ফেরার দেশে চলে গেছেন চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ভোর ৬টার দিকে। রাজধানীর কল্যাণপুরে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। 

অভিনয়ের সঙ্গে পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে জড়িয়ে আছে সিরাজ হায়দারের নাম। ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় দিবসে টিপু সুলতান নাটকে করিম শাহ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয় শুরু করেন ওই সময়ে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া সিরাজ। 

সিরাজ

দীর্ঘ সময়ে তিনি অভিনয় করেছেন যাত্রা, মঞ্চ, রেডিও, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে। মুক্তিযুদ্ধের পর চলচ্চিত্র পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের সহকারী হিসেবে ‘জল্লাদের দরবার’ চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন।

প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্রের নাম ‘সুখের সংসার’। নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত এ চলচ্চিত্রে সিরাজ হায়দার খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। মঞ্চ নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন মাত্র উনিশ বছর বয়সে। 

১৯৭৬ সালে তিনি রঙ্গনা নাট্যগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন এবং অনেকগুলো নাটকের নির্দেশনা দেন। সিরাজ হায়দার দু’টি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন। এদের একটি ‘আদম ব্যাপারী’ যা মুক্তি পায়নি, অন্যটির নাম ‘সুখ’।

গোলাম সারওয়ার

গোলাম সারওয়ার একজন স্বনামধন্য বাংলাদেশী সাংবাদিক ও কলাম লেখক। তাঁর সাংবাদিকতার জীবন শুরু হয় ১৯৬৩ সালে দৈনিক পয়গম দিয়ে। এরপর তিনি যুক্ত ছিলেন দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক সমকাল এর মত শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

গোলাম

২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার দেশের সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ২০১৬ সালে কালচারাল জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (সিজেএফবি) আজীবন সম্মাননা এবং ২০১৭ সালে আতাউস সামাদ স্মারক ট্রাস্ট আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন।

গোলাম সারওয়ারের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বরিশাল জেলার বানারীপাড়ায়। তাঁর পরিবার ছিল এলাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম। ছোটবেলা থেকেই তাঁর লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলতি বছরের ১৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কামরুল হাসান ভূঁইয়া

কামরুল হাসান ভূঁইয়া ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর। তিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

কামরুল

কামরুল হাসান ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলায় ১৯৫২ সালের ২৪ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।পড়াশোনা করেছেন যশোর জিলা স্কুল ও ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে। ১৯৮৩ সালে চীনা ভাষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন বেইজিং ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

ডায়বেটিস ও কিডনী সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে কামরুল হাসান ভূঁইয়া ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট দুপুর ২টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যু বরণ করেন। 

মুস্তাফা নূরউল ইসলাম

মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশী লেখক, গবেষক, ভাষাসৈনিক ও বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক। তিনি সুন্দরম সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একডেমির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সাহিত্য ও শিল্পকলায় অবদানের জন্য তিনি ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার  অর্জন করেন। ২০১১ সালে তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। 

মুস্তাফা

মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ১৯২৭ সালের ১ মে বগুড়ার মহাস্থানগড় সংলগ্ন চিঙ্গাশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন মুস্তাফা নূরউল ইসলাম। 

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ভাস্কর। তাঁর শিল্পকর্ম বেশ জনপ্রিয়। মূলত ঘর সাজানো এবং নিজেকে সাজানোর জন্য দামী জিনিসের পরিবর্তে সহজলভ্য জিনিস দিয়ে কিভাবে সাজানো যায় তার সন্ধান করা থেকেই তাঁর শিল্পচর্চার শুরু। নিম্ন আয়ের মানুষেরা কিভাবে অল্প খরচে সুন্দরভাবে ঘর সাজাতে পারে সে বিষয়গুলো তিনি দেখিয়েছেন। ঝরা পাতা, মরা ডাল, গাছের গুড়ি দিয়েই মূলত তিনি গৃহের নানা শিল্প কর্মে তৈরি করতেন। 

ফেরদৌসি

জনসম্মুখে নিজেকে 'বীরাঙ্গনা' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া তিনি প্রথম নারী। স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দেয়। ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক পান।

ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণীর জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, খুলনায় নানার বাড়িতে। 

চলতি বছর ৬ মার্চ ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী। 

শাম্মী আখতার

শাম্মী আখতার বাংলাদেশ একজন নারী সংগীত শিল্পী। ২০১০ সালে তিনি ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রে গানের জন্য শ্রেষ্ঠ নারী সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

শাম্মি

শাম্মী আখতার ১৯৫৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যশোরের তালতলা গ্রামে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন কিন্তু তিনি বেড়ে উঠেছেন খুলনায়। বাবার বদলির কারণে দেশের কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে সংগীতের তালিম নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।

তিনি প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে স্তন ক্যান্সারের ভুগছিলেন। ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির হলে চামেলিবাগের বাসা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৭ জানুয়ারি তাঁকে ঢাকার শাহজাহানপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

কাজী আজিজ আহমেদ

‘চোখ যে মনের কথা বলে’-খ্যাত গীতিকার কাজী আজিজ আহমেদ মারা যান চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি। 

১৯৩৯ সালে জন্ম নিয়েছিলেন চিত্রনাট্যকার, কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা এবং চিত্র পরিচালক কাজী আজিজ আহমেদ। শক্তিমান এই ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন নানা শারীরিক জটিলতায়।

কাজী

‘চোখ যে মনের কথা বলে’, ‘এ আঁধার কখনো যাবে না মুছে’ – ইত্যাদি গানের জন্য বিখ্যাত হলেও তিনি ‘খান আতা’র ‘অনেক দিনের চেনা’ এর সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করে পরবর্তীতে কাহিনীকার, সংলাপকার, চিত্রনাট্যকার এবং চিত্রপরিচালনা করেছেন। উলঝান, যে আগুনে পুড়ি, ক খ গ ঘ ঙ, এরাও মানুষ, ওরা ১১ জন, সংগ্রাম, গুনাই বিবি, অনন্ত প্রেম, বাজিমাত ইত্যাদি সিনেমার কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তিনি।

জুটন চৌধুরী

বিনোদন সাংবাদিক জুটন চৌধুরী মারা যান ১৭ ফেব্রুয়ারি। নিজ বাস ভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

জুটন

দীর্ঘদিন যাবত কোলন ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন জুটন চৌধুরী।

আলী আকবর রুপু

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে দেশ বরেণ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলী আকবর রুপু ২২ ফেব্রুয়ারি চলে যান না ফেরার দেশে।

রুপু

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন আলী আকবর রুপু। 

আব্দুস সাত্তার

চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা আব্দুস সাত্তার ১৯ আগস্ট না ফেরার দেশে চলে যান।

আব্দুস

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। গুণী এ অভিনেতা অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে ও বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

সাইদুল আনাম টুটুল 

চলতি বছরের ১৮ ডিসেম্বর সাইদুল আনাম টুটুল চলে গেলেন না ফেরার দেশে। রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ল্যাব এইডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

টুটুল

২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে ‘কালবেলা’ ছবিটি পরিচালনা করছিলেন সাইদুল আনাম টুটুল। আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ‘নারীর ৭১ ও যুদ্ধপরবর্তী কথ্য কাহিনী’ বই থেকে ‘কালবেলা’ ছবির গল্প নেওয়া হয়েছে। ছবিটি প্রযোজনা করছে সাইদুল আনাম টুটুলের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘আকার’। এর আগে সরকারি অনুদানে নির্মিত সাইদুল আনাম টুটুলের প্রথম ছবি ‘আধিয়ার’ মুক্তি পায় ২০০৩ সালে। ১৯৭৯ সালে ‘সূর্যদীঘল বাড়ী’ চলচ্চিত্রে কাজ করে শ্রেষ্ঠ চিত্র সম্পাদক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

আনোয়ার হোসেন (আলোকচিত্রী)

আনোয়ার হোসেন ছিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের একজন আলোকচিত্রী, চলচ্চিত্র ভিডিওগ্রাফার। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রহণে অবদানের জন্য তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর পুরোন ঢাকার আগানবাব দেউড়িতে। 

আনোয়ার

কর্মজীবনে তিনি অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ছোটবেলায়ই পরপর দুবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন ছবি এঁকে।

চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড