• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

শুভ জন্মদিন আলী যাকের

  অধিকার ডেস্ক    ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৫২

আলী যাকের
আলী যাকের (ছবি: সংগৃহীত)

‘আজ রবিবার’ নাটকের বড় চাচার কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? সবাইকে শাসন করা ব্যক্তি যাকে ভয় পেত বাড়ির সবাই। তিনি ঘরে কী করছেন সে বিষয়ে সবার জানার আগ্রহের কমতি নেই। নাটকে বড় চাচা মানে ডাঃ এস আসগর পি এইচ ডি প্রাপ্ত একজন বিখ্যাত মানসিক রোগের চিকিৎসক। তিনি নিজেকে ছাড়া বাড়ির সবাইকেই মানসিক রোগী মনে করেন। দরজায় তিনি একটি ফুটো করে রেখেছেন বটে কিন্তু তার ভেতর দিয়ে যে তাকায় তাকেই পড়তে হয় বিপদে। 

এতক্ষণ যার কথা বললাম তিনি হুমায়ূন আহমেদের অনবদ্য সৃষ্টি ‘আজ রবিবার’ নাটকের অন্যতম প্রধান চরিত্র বড় চাচা আসগর। আর এ চরিত্রে অভিনয়কারী ব্যক্তিটি আলী যাকের। 
নাটক যাই হোক না কেন নাটকের চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারে আলী যাকের বরাবরই সিদ্ধহস্ত। সংস্কৃতিমনা এই মানুষটির জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর, চট্টগ্রামে। বাবার চাকরিসূত্রে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ওয়ার ডিউটিতে। সে সময় দেশে চলছিল দুর্ভিক্ষ। ছোট যাকেরের খাওয়ার বাতিক ছিল বলে অনেকেই তাকে বলতেন  দুর্ভিক্ষের সময় বুভুক্ষু আত্মা নিয়ে জন্মেছেন তিনি। 

চার ভাইবোনের সাথে বড় হওয়া যাকেরের বাবার চাকরি জীবনের নীলফামারি, মেহেরপুর কোনো এলাকার কথাই মনে নেই ভালো করে। তবে ফেনীতে বড় হয়ে ওঠার স্মৃতি তিনি বেশ ভালো ভাবেই মনে করতে পারেন। 

ছোটবেলায় পড়াশোনা করেছেন কুষ্টিয়ায়। এরপর চলে আসেন ঢাকার গেণ্ডারিয়ায়। স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত থেকেছেন সেখানেই। 

১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে চাকরি নেন করাচির এশিয়াটিকে। ১৯৬৭-৬৯ পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। চাকরির পাশাপাশি রেডিওতে বাংলা খবর পড়তেন। 
সেখানে থিয়েটারে নাটক দেখেছেন অনেক। কিন্তু বলার মত উল্লেখযোগ্য কোনোকিছুতে সেভাবে অভিনয় করেননি। 

ষাটের দশকের কবি-সাহিত্যিকদের মাঝে পরিচিতি ছিল শামসুর রাহমান, আল মাহমুদদের সাথে। লেখালেখি করতেন ‘কিশলয়’ নামে একটি দেয়াল পত্রিকায়। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় চলে এসেছিলেন কলকাতা। সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ইংরেজি বিভাগের অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন। 
দেশে ফিরে এসেছিলেন ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। 

১৯৭২ সালের আলী যাকের আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে মামুনুর রশীদের নির্দেশনায় মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকটিতে প্রথম অভিনয় করেন যার প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে। 

১৯৭২ সালের জুন মাসের দিকে আতাউর রহমান ও জিয়া হায়দারের আহ্বানে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে যোগ দেন। ঐ দলে তিনি আতাউর রহমানের নির্দেশনায় বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন, যার প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ওয়াপদা মিলনায়তনে । 

১৯৭৩ সালে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে তিনি প্রথম নির্দেশনা দেন বাদল সরকারের বাকি ইতিহাস নাটকে, যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর যাত্রা। 

নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের জন্য বিশ্বখ্যাত বিদেশী নাটকের বাংলা রূপান্তর আর নাটক নির্দেশনা এসব কাজে আলী যাকের ব্যস্ত ছিলেন। ১৯৭৩ সালে ঐ দলে যোগ দেন সারা যাকের যাকে শুরুতে চোখেই পড়েনি আলী যাকেরের। একটি নাটকের প্রদর্শনীর আগের দিন একজন অভিনেত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে সারা যাকেরকে দেওয়া হয় চরিত্রটিতে অভিনয় করতে। আলী যাকেরের ওপর দায়িত্ব পড়ে তাকে তৈরি করার চরিত্রটার জন্য এবং খুব দ্রুত চরিত্রটির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেন সারা যাকের। এই প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে যান আলী যাকের। ১৯৭৭ সালের এই ঘটনার রেশ ধরেই আলী যাকের আর সারা যাকেরের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই সন্তান, পুত্র অভিনেতা ইরেশ যাকের ও কন্যা স্রিয়া শারবোজোয়া।

চলচ্চিত্র: 

অভিনয় করেছেন আগামী (১৯৮৬), নদীর নাম মধুমতী (১৯৯৬), লালসালু (২০০১), রাবেয়া (২০০৮) নামের চলচ্চিত্রে। 

নাটক: 

তার অভিনীত ‘বহুব্রীহি’, ‘আজ রবিবার’ নাটক এখনও মানুষের স্মৃতিতে সমুজ্জ্বল। 

পুরস্কার: 

শিল্পকলায় অবদানের জন্য পেয়েছেন ‘একুশে পদক – ১৯৯৯’। অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন ‘দ্য ডেইলি স্টার-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সেলিব্রিটিং লাইফ – ২০১৮’। 

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড