• বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

sonargao

নাট্যকার খান শওকতের লেখনী দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব

  সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার

০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:১৬
খান শওকত

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর গ্রামে নাট্যকার খান শওকত জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬০ সালের জানুয়ারিতে। ৩০ বছর বয়ষে ভাগ্যান্বষেণে ১৯৯০ সালে আমেরিকার নিউইয়র্কে যান। সেখানে যেয়েই নির্মাণ করেন প্রবাসী কমিউনিটির শিল্পীদের উদ্যোগে নির্মিত প্রথম ভিডিও চলচ্চিত্র “স্বপ্ন সুখের আমেরিকা”। প্রায় ৫৩ জন শিল্পী ও কলাকুশলী নিয়ে কাজ করেছিলেন। তিনি এ ছবির পরিচালক ও কেন্দ্রীয় অভিনেতা। ১৯৯৩ সালের ২৩ জুন তারিখে এ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিলো। এরপর নেশাগ্রস্থ শিল্পীর মতো ম্যাজিক শো শুরু করলেন। টানা প্রায় ৩০ বছর তার বিশ্ময়কর জাদু প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন দেশী বিদেশী কমিউনিটির লাখ লাখ মানুষ। জাদু দেখিয়ে আটবার আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে অদ্যাবধি চালু রয়েছে “অনলাইন ইন্টারন্যাশনাল ম্যাজিক কম্পিটিশন” ফেসবুক গ্রুপে প্রতিমাসে বিশ্ব জাদু প্রতিযোগিতা। এটি বিশ্বময় বেশ জনপ্রিয়। খান শওকত এই প্রতিযোগিতা কমিটির জুরি বোর্ডের সভাপতি। “

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর এই প্রথম একই মঞ্চে দুই বাংলার নাট্যকর্মীদের অংশগ্রহণে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ভারত বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব। “ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী চিরজীবি হোক”- এই শ্লোগান সামনে রেখে আসছে ২০২২ সালের ডিসেম্বর ২১ তারিখে কলকাতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দুমতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব। ঐদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলবে এ উৎসব। এর দুই মাস পর ফেব্রুয়ারিতে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে, ঝিনাইদহে, খুলনার ডুমুরিয়ায়, যশোরের নোয়াপাড়ায়, বরিশালে, ফরিদপুরে, সিলেটে এবং কলকাতার একাধিক স্থানে খান শওকতের লেখা “বঙ্গবন্ধু নাট্যসমগ্র”-তে প্রকাশিত বাংলাদেশের জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী ও পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালী জাতির মুক্তিদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনভিত্তিক নাটকসমূহ নিয়ে দুই বাংলায় অনুষ্ঠিত হবে ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব-২০২২ এবং ২০২৩। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশে এবং ১৭ ও ১৮ তারিখে ২ দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কলকাতার রাশবাহারীর তপন থিয়েটারে এ নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এ পর্যন্ত কখনো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুই দেশের নাট্যকর্মীদের অংশগ্রহণে ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার সেই ঐতিহাসিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই উৎসবে যতগুলো নাটক মঞ্চস্থ হবে তার সবকটি নাটকের লেখক বাংলাদেশের সন্তান নিউইয়র্ক প্রবাসী নাট্যকার খান শওকত। তার লেখা নিয়েই এ নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে দুই বাংলায়। এ বিষয়ে নাট্যকার খান শওকতের একটি সাক্ষাৎকার দৈনিক অধিকার এর ফিচার সম্পাদক সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার।

অধিকার: সাধারণত নাটকে কোনো বিষয় (সংলাপে/নাট্যঘটনাবস্তুতে) তুলে ধরতে নাট্যকার তথ্যসূত্র দেন না। কিন্তু আপনার অধিকাংশ নাটকে তথ্যসূত্র দিয়েছেন। এর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কি?

খান শওকত: ঐতিহাসিক সত্যগুলো সবাই জানুক। আমি যে আবেগের বশে কোন সংলাপে মিথ্যা তথ্য দেই নাই, সেটা সবার কাছে পরিস্কার করার জন্যই অধিকাংশ ক্ষেত্রে তথ্যসূত্র তুলে ধরেছি।

অধিকার: বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নাটক রচনা করার ক্ষেত্রে আপনার প্রেরণা কী?

খান শওকত: দেশের একজন সাধারণ নাগরিককে হত্যা হলেও তার বিচার হয়, কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর তার বিচার বন্ধ রাখা হলো। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সময় বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের উপর সবচেয়ে বেশী নির্যাতন চালানো হলো। এসময় জয় বাংলা স্লোগান উচ্চারন করা যেতো না, বঙ্গবন্ধুর ভাষন মাইকে বাজানো যেতো না, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথাও বলা যেতো না। ১৯৯০ এর পর একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে আরো বেশী অপবাদ দেয়া শুরু হয়। এসব বিষয় আমার ভেতরে প্রশ্ন তৈরী করে এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করতে ও নাটক লিখতে আগ্রহী করে। ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু করলাম নাটক লেখার কাজ। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন আমার নাটকের হিরো।

অধিকার: বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নাটক রচনা করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু বিরোধীদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে, এ কাজটি করতে আপনি নাটককে কেন বেছে নিলেন?

খান শওকত: বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাহকে হত্যার পর প্রায় ১৫০ বছর যাবত মীরজাফরকে নির্দোষ এবং দেশপ্রেমিক বিজ্ঞ নবাব হিসেবে পরিচিতি লেখা হয়েছে ব্রিটিশদের দালালদের বইতে। কিন্তু তাতে কি বেঈমান মীরজাফর নির্দোষী হয়েছেন? একইভাবে ইতিহাসে যার যা অবস্থান আমার লেখা নাটকে তাইই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি অত্যন্ত নিরপেক্ষ ভাবে। আমার পছন্দ সংলাপ এবং নাটক। তাই নাটকই বেছে নিলাম।

অধিকার: আমাদের জানামতে বাংলা নাট্যসাহিত্যে আপনিই প্রথম নাট্যকার যিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ৩৫টা নাটক লিখে “বঙ্গবন্ধু নাট্যসমগ্র” প্রকাশ করেছেন। এক ব্যক্তিকে নিয়ে এতবেশী নাটক কেন লিখলেন?

খান শওকত: আমি নিজেও ভাবিনি যে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এতগুলো নাটক লিখবো। আমিও চেয়েছিলাম দুই-তিনটা নাটক লিখে থেমে যাবো। কিন্তু ২০১৬ সালে প্রকাশিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ইমেইলে এবং প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থটি বিভিন্নজনকে দেওয়ার পর, অনেক নাট্যগ্রুপ ছোট নাটক বা কম চরীত্রের নাটক বা একক অভিনয়ের নাটক চাইলেন। আবার কেউ কেউ বললেন, বঙ্গবন্ধুর চরীত্র করার মতো অভিনেতা তাদের নেই, তাই বঙ্গবন্ধুকে অনুপস্থিত রেখে নাটক লিখতে। আবার কেউ কেউ বললেন যে ২৫-৩০ জন শিল্পীর বড় গ্রুপ আজকাল ধরে রাখা কঠিন, তাই কম চরীত্রের নাটক লিখতে। তাদের কথা রাখতে যেয়ে এবং বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন দিককে ভাগ ভাগ করে লিখতে লিখতে মোট ৩৭ টা নাটক লেখা হয়ে গেছে। এরমধ্যে ৩৫ টা প্রকাশিত।

অধিকার: ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব নিয়ে কিছু বলুন।

খান শওকত: বাংলাদেশে বইমেলার স্বপ্ন সফল করতে ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় চটের ওপর ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। এখন তো বইমেলা দুই বাংলা এবং প্রবাসের বিভিন্ন দেশে বইমেলা এক জনপ্রিয় উৎসব। একইভাবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসবের স্বপ্ন দেখেছিলাম অনেক আগে। ১৯৯৩ সাল থেকে এ স্বপ্নটা লালন করছি ব্যাপকভাবে। অনেককেই বলেছি কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নাটক রচনা করে রাজনৈতিক ঝুঁকি নেবার আগ্রহ দেখাননী। এরপর আমি নিজেই লেখা শুরু করি। আমরা হয়তো এখন ছোট আকারে ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব শুরু করছি, কিন্তু বিশ্বাস করুন যদি মুজিব সৈনিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারি, এ আয়োজন অনেক ব্যাপক হবে একদিন। এবার আমরা দুই দেশে শুরু করছি। তবে সবার সহযোগিতা পেলে আগামীতে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশে এ উৎসব করার ইচ্ছা আছে আমাদের।

অধিকার: আপনার রচিত বঙ্গবন্ধু নাট্যসমগ্র নিয়ে যদি বলতেন-

খান শওকত: ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাঙচিল প্রকাশন থেকে প্রকাশিত আমার (নাট্যকার খান শওকত) রচিত “বঙ্গবন্ধু নাট্যসমগ্র” -তে প্রকাশিত নাটক ও চরীত্র সংখ্যা হলোঃ (১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক, ২৬ টি চরিত্র), ২. কলংকিত-৭৫ (১ দৃশ্যের নাটক, ১ টি চরীত্র). ৩. আমাদের বঙ্গবন্ধু (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক, ২৫ টি চরিত্র), ৪. স্বাধীনতার ঘোষক (১ দৃশ্যের নাটক, ৫ টি চরিত্র). ৫.বঙ্গবন্ধুর সামনে জিয়া (১ দৃশ্যের নাটক, ৫ টি চরিত্র). ৬. মহামান্য রাষ্ট্রপতি (১ দৃশ্যের নাটক, ৭ টি চরিত্র). ৭. খুনী ডালিম বলছি (১ দৃশ্যের নাটক, ৭ টি চরিত্র). ৮. আমার বাড়ি টুঙ্গীপাড়া (১ দৃশ্যের নাটক ১ টি চরিত্র). ৯. ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন (১ দৃশ্যের নাটক, ৯ টি চরিত্র). ১০. মুজিবনগর থেকে মুক্তিযুদ্ধ (১ দৃশ্যের নাটক, ৪ টি চরিত্র). ১১. হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু (১ দৃশ্যের নাটক, ৯ টি চরিত্র). ১২. বঙ্গবন্ধুর বাকশাল (১ দৃশ্যের নাটক, ৩ টি চরিত্র). ১৩. বাকশালী মোশতাক (১ দৃশ্যের নাটক, ২ টি চরিত্র). ১৪. মোশতাকের তেলেসমাতি (১ দৃশ্যের নাটক, ৪ টি চরিত্র). ১৫. খুনী মোশতাক (১ দৃশ্যের নাটক. ৪ টি চরিত্র). ১৬. বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় বিদেশী শক্তি (১ দৃশ্যের নাটক. ৬ টি চরিত্র). ১৭. মোশতাকের ষড়যন্ত্র (১ দৃশ্যের নাটক. ৭ টি চরিত্র). ১৮. মুক্তিযুদ্ধে বিদেশীদের অবদান (১ দৃশ্যের নাটক. ৫ টি চরিত্র). ১৯. স্বাধীনতা তুমি (গীতিনাট্য). ২০. জনতার সংগ্রাম (গীতিনাট্য). ২১. বাংলাদেশের মাটি (গীতিনাট্য). ২২. ৭ই মার্চের ভাষণ (১ দৃশ্যের নাটক. ৫টি চরিত্র). ২৩. বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক. ১২ টি চরিত্র). ২৪. হানাদার (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক. ৭ টি চরিত্র). ২৫. বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক. ৯ টি চরিত্র). ২৬. রক্তাক্ত ১৫ই আগষ্ট (১ দৃশ্যের নাটক. ১৪ টি চরিত্র). ২৭. মুজিব হত্যা (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক. ২০ টি চরিত্র). ২৮. মুজিব হত্যার বিচার (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক). ২৯. আসামির কাঠগরায় মেজর ডালিম. (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক, ১৮ টি চরীত্র). ৩০. আমরা তোমাদের ভুলবো না (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক, ১১ টি চরীত্র). ৩১. জেল হত্যা (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক, ১০ টি চরীত্র). ৩২. আমার নেতা শেখ মুজিব (পূর্নদৈর্ঘ্যনাটক, ৫ টি চরীত্র). ৩৩. শহীদ রাসেল (১ দৃশ্যের নাটক, ৫ টি চরীত্র). ৩৪. বাকশাল নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও জিয়া (১ দৃশ্যের নাটক, ৩ টি চরিত্র). এবং ৩৫. আমার নাম শেখ মুজিব (১ দৃশ্যের নাটক, ২ টি চরিত্র)। এছাড়া আগষ্ট ট্রাজেডির কারন এবং মুজিব বাইয়া যাওরে নামে আমি আরও দুটো নাটক রচনা করেছি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা নাটকের সংখ্যা মোট ৩৭ টা (৩৫ টা প্রকাশিত এবং ২টা অপ্রকাশিত)। ইতিমধ্যে এসব নাটক দুই বাংলায় বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

অধিকার : আপনার কাজ নিয়ে পাঠকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন -

খান শওকত: নিউইয়র্কে সমস্যাগ্রস্থ ও নবাগত প্রবাসীদের কল্যানে আমি চালু করি চাকুরী বিষয়ক বিনামূল্যে সহযোগিতামুলক প্রোগ্রাম “জব সেমিনার”। ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আয়োজিত ১৫০ টি জব সেমিনারের সহায়তায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার প্রবাসী চাকুরী পেয়ে এবং প্রায় ৪০০ টি পরিবার অতি অল্প ভাড়ায় সরকারি বাসা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষনা শুরু করি। প্রথমে নির্মান করি “কেন তিনি জাতির পিতা”। এরপর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একের পর এক নাটক লিখলাম। ২০১৫ সাল থেকে আমার লেখা নাটক আমেরিকা, কানাডা, ভারত, কাতার, দুবাই ও বাংলাদেশে মঞ্চস্থ হচ্ছে। ২০১৮ সালে আমার লেখা নাটক রাজা সরকারের পরিচালনায় “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব” মঞ্চস্থ হয় কলকাতার জ্ঞান মঞ্চে। উক্ত প্রদর্শনীতে আমি উপস্থিত ছিলাম। ভারতের মাটিতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এটি ছিলো একটি দারুন সফল আয়োজন। ইউটিউবে Bongobondhu drama written by Khan Showkat লিখে এ নাটকের ভিডিও দেখা যায়। কোন নাট্যকারের জীবদ্দশায় তার লেখনী নিয়ে দুই বাংলায় নাট্য উৎসব খুব কম দেখা যায়। এদিক দিয়ে বলা যায় আমি ভাগ্যবান। যেহেতু আমার নাটকের নায়ক হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, তাই আমার লেখা মুজিব প্রেমীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে আমার লেখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নাটকটি ঢাকার উত্তরার ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্য বিভাগে পাঠ্য করা হয়েছে। এছাড়া আমার নাটকসমূহ নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসারের লেখা গবেষনা গ্রন্থ “নাট্যকলায় বঙ্গবন্ধু” সরকারি অনুদানে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে আমার লেখা নাটকসমূহ নিয়ে দুই বাংলায় নাট্যকর্মীদের উদ্যোগে নাট্য-সেমিনার এ পাঠচক্র শুরু হয়েছে। আমার লেখার মধ্যে সবাই নিরপেক্ষ, হৃদয়গ্রাহী এবং সত্য ইতিহাস খুজে পাচ্ছেন। এজন্য প্রশংসিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এসব নাটকসমূহ একদিন অনেক সুনাম বয়ে আনবে। এ নাটকগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাসমূহ নাটকের সংলাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে সবার মাঝে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। আমি ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসবের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করছি, এবং সবাইকে এ নাট্য উৎসব উপভোগ করতে আহবান জানাচ্ছি। নাটকের জয় হোক।

অধিকার: আপনার লেখনী দিয়ে দুই বাংলার নাট্যকর্মীদের অংশগ্রহনে প্রথম ভারত বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব হতে যাচ্ছে শুনে আপনার কেমন লাগছে?

খান শওকত: দুই বাংলার শিল্পীরা এক মন্চে দাড়িয়ে বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসব করছেন এটা আনন্দের সংবাদ। কিন্তু এতবড় ঐতিহাসিক আয়োজন যে আমার লেখা নাটকসমুহ নিয়ে কোনদিন হবে এটা কল্পনাও করিনি। ১৯৯৩ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখছি, আর ২০২২ সালে এসে তা দুই দেশের নাট্যোৎসবে মূল্যায়িত হতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় নাট্যদলসমুহ কিভাবে উপস্থাপন করেন এবং দর্শক কিভাবে আমার লেখাগুলো গ্রহন করেন।

অধিকার: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

খান শওকত : আপনাকে এবং দৈনিক অধিকার পরিবারকে ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড