• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আইজ্যাক লিটন : যে গল্প পরিবারের সবাইকে নিয়ে ড্রয়িংরুমে বসে দেখা যায়

  সাজিদ সুমন

১৫ মে ২০২২, ১৯:৩২
আইজ্যাক লিটন নাটকের দৃশ্য
আইজ্যাক লিটন নাটকের দৃশ্য (সংগৃহীত)

দেশীয় ওটিটি প্লাটফরম বিঞ্জ এর আগে বেশ কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট বানিয়ে সমালোচিত হয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তারা এমন একটি কন্টেন্ট বানিয়েছেন, যে কন্টেন্টটি ড্রয়িংরুমে বসে পরিবারের সবাই মিলে দেখা যায়। নির্মাতা আগেই বলেছেন আইজ্যাক লিটন স্রোতের বিপরীতে হাঁটা মানুষের গল্প। এই ট্যাগলাইন দেখেই মূলত সিরিজটি দেখার ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছি। প্রথম দৃশ্য থেকেই মুগ্ধ হয়ে দেখেছি আইজ্যাক লিটন। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মোশাররফ করিমের কস্টিউম, গেটাপ, লোকেশন, সেট সবকিছুই ছিল চোখে পড়ার মতো।

গল্পের শুরুতেই দেখা যায় মোশাররফ করিম আইজ্যাক নিউটনের মতো পোশাক পরে আপেল গাছের নিচে বসে থাকে। কারণ তার ধারণা কোনো একদিন তার সামনেও আপেল পড়বে এবং সেও বানিয়ে ফেলবে নিউটনের মতো বড় কোনো সূত্র। এভাবে প্রায় পাঁচ বছর আপেল গাছের নিচে বসে থাকে। কিন্তু তার সামনে আপেল পড়ে না। পাঁচ বছর পর হঠাৎ একদিন আপেল পড়ে। ঠিক তখনই চন্দ্রাবতী অর্থাৎ স্পর্শীয়ার আগমন ঘটে।

গল্প মোড় নেয় অন্যদিকে, যে গল্পে রয়েছে হাসি, কান্না, আনন্দ, বেদনা। আবার রয়েছে বিবেক জাগিয়ে তোলার মতো সংলাপ। ঘুষখোর দুর্নীতিবাজের খাবারের মধ্যে ডায়রিয়া জীবাণু ঢুকিয়ে দেওয়া। সাধারণভাবে বিষয়টি রসাত্মক মনে হলেও একটু গভীরে চিন্তা করলেই বোঝা যায়, আমাদের সমাজে চলমান ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইজ্যাক লিটন একটি প্রতিবাদ। প্রতিটি পর্বের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরানোর উপায় নেই। কিছুক্ষণ পর পর রয়েছে বড় ধরনের চমক।

আইজ্যাক লিটনের একটি বড় আকর্ষণ ছিল কাস্টিং। ছোট ছোট কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বনামধন্য অভিনেতা আজিজুল হাকিম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সমু চৌধুরী। তারা সবাই নামের প্রতি সুবিচার করেছেন।

লিটন চরিত্রে মোশাররফ করিমের অভিনয় আপনাকে ভাবিয়ে তুলবে। চন্দ্রাবতী চরিত্রে স্পর্শীয়াকে প্রথমদিকে কিছুটা বেমানান মনে হলেও ধীরে ধীরে তিনি চরিত্রের সাথে মানিয়ে নিয়েছেন এবং রহস্য ছড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, মোশাররফ করিমের মতো লিজেন্ডের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। কিছু দৃশ্যে তার অভিনয় দেখে বলতেই হয়, তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে ক্যারিয়ার সেরা অভিনয় করেছেন।

আরেকজন অভিনেতার কথা না বললেই নয়, তিনি হচ্ছেন মাজনুন মিজান। হুমায়ূন আহমেদের বাইরে এই প্রথম কোনো কাজে তিনি নিজেকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে মেলে ধরতে পেরেছেন। এই সিরিজে বশির চরিত্রে তিনি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় করেছেন।

সিরিজের সবচেয়ে কঠিন এবং জটিল চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী আনিসুল হক বরুন। আনিসুল হক বরুন গ্রাম্য গল্পপ্রধান কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে এক শ্রেণির দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। নির্মাতা এখানে তাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কেন জানি তিনি প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো চরিত্রের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। কোনো দৃশ্যে চমকপ্রদ অভিনয় করেছেন, আবার কিছুক্ষণ পরেই যেন চরিত্র থেকে সরে গেছেন। অথচ, চরিত্র অনুযায়ী পরফর্ম করতে পারলে শওকত চরিত্রটি হতে পারত তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা চরিত্র।

আইজ্যাক লিটন আপনাকে চোখের এবং মনের শান্তি দিবে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক সাথে দেখার মতো একটি সিরিজ। বিনোদনের পাশাপাশি ভাবিয়ে তুলবে। তবে যে কারণে এই কন্টেন্টটি বর্তমান সময়ের অন্যসব ওটিটি কন্টেন্ট থেকে আলাদা, সেটা হচ্ছে এর সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী গল্প, সংলাপ এবং চিত্রনাট্য। গল্প বলার ক্ষেত্রেও নির্মাতা চমক দেখিয়েছেন।

সাউন্ড, মিউজিক, এডিটিং কোনো মতে চালিয়ে নেওয়ার মতো। স্ক্রিপ্ট সাবলীল হওয়ার কারণে অনেক টেকনিক্যাল দুর্বলতাই চোখ এড়িয়ে যাবে। সবচেয়ে বিরক্তিকর ছিল সাবটাইটেল।

ওডি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড