• শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন

বেদের মেয়ে জোসনার মেকআপ ম্যান এখন ভিক্ষুক

  অধিকার ডেস্ক    ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:৫৫

কাজী হারুন
ছবি : সংগৃহীত

এক সময় যার হাতে ছিল মেকআপের ডালা আজ তার হাতে ভিক্ষার থালা। বলছিলাম চলচ্চিত্রপাড়ার এক সময়ের বিখ্যাত মেকআপ ম্যান নাম কাজী হারুনের কথা। যিনি একসময় কাজ করেছেন ‘বেদের মেয়ে জোসনার মতো ব্যবসা সফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে। এছাড়াও তিনি ‘অন্য জীবন’, ‘শঙ্খমালা’, ‘গোলাপী এখন ঢাকা’, ‘জীবন সংসারসহ শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন।

এক সময় মনের মাধুরী মিশিয়ে তিনি সাজিয়েছেন শাবানা, ববিতা, অঞ্জু, মৌসুমীর মতো নন্দিত নায়িকাদের। আজ ভিক্ষা করছেন পথে পথে। হায় জীবন!

দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে তিনি পেয়েছেন নানা স্বীকৃতি ও প্রশংসা। ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হৃদয় থেকে হৃদয়’ ছবিতে কাজের জন্য তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, স্ত্রী মহুয়া আকতারকে নিয়ে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির ফরিদাবাদ বস্তিতে থাকেন তিনি। তিনটি বাড়িতে কাজ করে ঘর ভাড়া দেন স্ত্রী মহুয়া, আর ভিক্ষা করে জীবনধারণের খরচ চালান হারুন।

শুধু দরিদ্রতাই নয়, হারুনের দারুণ এক প্রতিপক্ষ তার শারীরিক অসুস্থতা। যার সুচিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। সিনেমায় নেই অনেকদিন। তাই ভিক্ষার টাকাতেই কোনোমতে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা।

বেশ ভালোই ছিলেন তারা বিয়ের পর থেকে। অর্থের অভাব ছিল না। কিন্তু ২০০৯ সালে কাজী হারুনের ব্রেইন স্ট্রোক হবার পর থেকেই দিন বদলে যায়, আসে হতাশা আর কষ্টের দিন, জানালেন কাজী হারুনের স্ত্রী মহুয়া আকতার।

অসুস্থ হওয়ার কারণে আর কাজ করতে পারছিলেন না। স্ট্রোকের পর শরীরের ডান পাশ অকেজো হয়ে যায়। শুরু হয় অর্থকষ্ট। চলচ্চিত্রের কেউ এসে খবরও নেননি কখনো। অভিমান আর কষ্টে বাধ্য হয়েই ২০১১ সাল থেকে ভিক্ষা করতে শুরু করেন হারুন।

২০১০ সালে মেয়ের বিয়ের খরচ যোগাতে বিক্রি করে দিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার হিসেবে পাওয়া সোনার মেডেল। এক ভরি স্বর্ণ ছিল সেটাতে। তখন স্বর্ণের দাম ছিল মাত্র আট হাজার টাকা। আর অন্য যে পুরস্কারটি ছিল, সেটি বিক্রি করতে পারেনি। কারণ পিতলের কোনো দাম নেই। সেটা ফেলে দিয়েছেন হারুন। এর কোনো মূল্য বা এর প্রতি কোনো আবেগ আর কাজ করে না তার মধ্যে, জানান মহুয়া।

মহুয়া বলেন, ‘বস্তিতে দেড় হাজার টাকা দিয়ে একটা ছোট রুমে ভাড়া থাকি আমি আর সে। আমি তিনটি বাড়িতে কাজ করি। সেখানে থেকে ৫শ করে দেড় হাজার টাকা পাই, সেই টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া দিই। আর তিনি ভিক্ষা করে দিনে দু-তিনশ টাকা পান, সেই টাকা দিয়ে বাজার আর ওনার ওষুধ কিনি। খুব সমস্যা হয় আমি অসুস্থ হলে। উনাকে দেখারও কেউ নেই আমি ছাড়া, আর আয়ও বন্ধ হয়ে যায়।’

সাহায্যের আবেদন করে প্রধানমন্ত্রীকে মহুয়া বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাই। আমাদের চেনা জানা বড় কোনো লোক নেই। কে আমাদের তার কাছে নিয়ে যাবে? সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলাম, তিনি যেন আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমার স্বামী শিল্পী মানুষ। পথে পথে ভিক্ষা করে বেড়ান। এলাকার লোক এটা দেখে কষ্টও পায়, অনেকে তাচ্ছিল্যও করে। সবাই বলে প্রধানমন্ত্রীর নাকি অনেক বড় মন। তিনি নিশ্চয় আমাদের কষ্টটা বুঝবেন। তিনি তো কত শিল্পীকেই সহযোগিতা করেন।’

মহুয়ার প্রত্যাশা, যে হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিন গুণের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন, সেই হাতে এবার মমতা আর আস্থার হাতটাও তিনি রাখবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড