• সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

খেলাধুলার বিকাশে ব্যবস্থা নেবে সরকার

নারী ফুটবলাররা আগামীতে আরও এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী 

  অধিকার ডেস্ক    ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৩৫

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দেয়া সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী

দেশের নারী ফুটবলাররা আগামীতে আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি তারা এগিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।’

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

দেশে খেলাধুলার বিকাশে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে সরকার বলে আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ এক সময় খেলাধুলায় পিছিয়ে ছিল। এক্ষেত্রে অনেক বাধা ছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে সেসব বাধা দূর হয়েছে। আমরা সেসব বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। 

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণভবনে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বের ‘এফ’ গ্রুপের খেলায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানুষ খেলাধুলা ও সংস্কৃতি থেকে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে শিখে। এটি মনে রেখে আমরা দেশে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির আরও বিকাশে গুরুত্ব দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা মানুষকে নিজের দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়। এছাড়া ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মানুষ শৃঙ্খলা শিখে এবং আত্মবিশ্বাসী হয়।

এক সময়ে দেশকে পেছন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ও আমার ছোট বোনকে ছয় বছর ধরে শরণার্থী জীবনযাপন করতে হয়েছে। কারণ, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমাদেরকে দেশে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর তিনি দেশের প্রতিটি এলাকা সফর করে দেশের মানুষের সমস্যা জানার চেষ্টা করেছেন।

খেলাধুলাও সংস্কৃতির প্রতি তার পরিবারের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দাদা ও বাবা ফুটবল খেলতেন। 

তিনি বলেন, আমার পরিবারের সকল সদস্য খেলাধুলার সাথে জড়িত ছিল। আমার বড় ভাই শেখ কামাল ছিলেন আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা।

ভুটানে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৮ নারী দলের পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে পরাজিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার কাছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের মতো মনে হয়েছে এই বিজয়।

বালক ও বালিকাদের জন্য বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল চালু করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এখন এর থেকে লাভবান হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বিএফএফ) সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শিদী এমপি, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দলের সদস্যদের কিছু উপহার দেন। কাজী সালাহউদ্দিন ও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন মারিয়া মান্দা প্রধানমন্ত্রীকে দু’টি ফুটবল উপহার দেন।

উল্লেখ্য, স্বাগতিক বাংলাদেশ গত ম্যাচে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে থাকা ভিয়েতনাম দলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে অপরাজিত গ্রুপ এফ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবির্ভুত হয়। ঢাকায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ ওপেনিং ম্যাচে বাহরাইনকে ১০-০ গোলে পরাজিত করার মাধ্যমে তার বিজয়ের সূচনা করে এবং তাদের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে লেবানন দলকে ৮-০ গোলে পরাজিত করে।

দুটি গ্রুপের খেলা শেষে ৬টি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও দুটি বেস্ট রানার্স-আপ দল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়িং রাইন্ডে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের দুটি শীর্ষ দল চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হবে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে এই খেলা অনুষ্ঠিত হবে।  

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

                                             

৭০, তাজউদ্দিন আহমেদ স্মরণি, মহাখালী, ঢাকা-১২১২।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড