• সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

দেবতার আসনে বসিয়ে এমপিকে নত মস্তকে পুষ্পাঞ্জলি! (ভিডিও)

  অধিকার ডেস্ক    ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:২৩

যশোরের চৌগাছা হাকিমপুর ইউনিয়নের এবিসিডি বিদ্যালয়
(ছবি : সংগৃহীত)

ব্যাকগ্রাউন্ডে গান চলছে, ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদেরই বসুন্ধরা….এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি’। কক্ষের ভেতরে চেয়ার পেতে বসে আছেন ঝিকরগাছা-চৌমুহনী আসনের (যশোর ২) সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহজান কবির, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাস্টার সিরাজুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, সে সময় কক্ষের ভেতরে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো স্কুল ড্রেস পরা কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থী ফুলের মালা হাতে এগিয়ে আসছে। প্রথম জন মালা হাতে দাঁড়িয়ে গেল সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিরের সামনে। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যরাও বসে থাকা সব অতিথিদের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আর এর কিছু সময় পরে হাঁটু গেড়ে তারা সকলেই বসে পড়ে। এভাবেই তারা একে একে সাতবার হাঁটু গেড়ে বসেছে আর উঠে দাঁড়িয়েছে। পরে তারা অতিথিদের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিয়ে হাত জোড় করে ফিরে যায় নিজ নিজ আসনে।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) এমনই এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। আর এর পরপরই ভিডিওটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় সব স্তরে। সেখানে বলা হয়, ‘এ যেন জমিদারি প্রথা। একজন সংসদ সদস্য, যিনি কি না দেশের একজন আইনজীবীও, তিনি কী করে মধ্যযুগীয় কায়দায় এ ধরনের সম্মাননা গ্রহণ করতে পারলেন?’ একইসঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করেছেন অনেকে।

ঘটনাটি যশোরের চৌগাছা হাকিমপুর ইউনিয়নের এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় যা স্থানীয়ভাবে ‘দেবিপুর’ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধীনস্থ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঘটনার দিন বেলা ১১ টায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। মূলত সেখানেই সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান বলেন, ‘আজ এখানে আবহাওয়া অনেক খারাপ ছিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল, রুমের মধ্যে গ্যাদারিং অবস্থায়……। ওই রকম বসার কোনো পরিবেশ ছিল না, একটা ফাঁকা রুমে এমপি স্যারসহ মেহমানদের বসিয়ে অনুষ্ঠানটা চলছিল। আমার শিক্ষকরা এ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন।’

এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমপি স্যার যখন…….। ফুলের মালা দেওয়ার কথা ছিল….। এটা এ পর্যায়ে যাবে আমি সেটা ভাবিনি। তবে এর ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে অন্য শিক্ষক ছিলেন।’

সে সময় সেই শিক্ষকের মোবাইল নাম্বার চাইলে তিনি তা দিতে সম্পূর্ণ অপারগতা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের ভুল হয়েছে। নেক্সট টাইম এমন আর হবে না, জীবনে কখনও হবে না।…এটা ঠিক হয়নি, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর হবে না।’

এ বিষয়ে অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শাহজান কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ফুল-টুল নিতে চাই না। কিন্তু বোঝেন তো, রাজনীতি করি-কতো জায়গায় যাই। সবখানেই নেতা-কর্মী আর আয়োজকদের চাপ থাকে। এলাকাতে যখন এমপি সাহেব আসেন তখন সবাই চায় তাকে সম্মান জানাতে।’

সে সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের এ নেতা আরও উল্লেখ করেন, ‘এরই অংশ হিসেবে এমপি সাহেবকে তারা ফুল দেয়। তারাই চাপ সৃষ্টি করে ফুল নেওয়ার জন্য, তাই নিতে বাধ্য হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বোঝেন তো সামনে নির্বাচন, এগুলো মেইনটেইন করতেই হয়।’

এ বিষয়ে জানার জন্য সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে স্থানীয়দের মতে, সংবর্ধনার এই ভিডিওটি এমপি সাহেব নিজেই আপলোড করেছেন। তবে পরে আরেকজন সে ভিডিও শেয়ার করলে তিনি পরবর্তিতে পোস্টটি ডিলিট করে দেন। 

এ বিষয়ে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটা একটি জঘন্যতম ঘটনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সৃজনশীল স্থানে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় যারাই জড়িত তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। যারাই এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িত এবং যারা এই মালা গ্রহণ করেছে প্রত্যেককে এই ঘটনায় জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক।

এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহীদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে এই লোকদের কারণ দর্শাতে বলা হোক। কেনো এই ঘটনাকে শিশু নিপীড়ন ও বিকৃত মনন ধরা হবে না? এদেরকে আদালতে তলব করা উচিৎ।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

                                             

৭০, তাজউদ্দিন আহমেদ স্মরণি, মহাখালী, ঢাকা-১২১২।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড