• সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

প্রথম বাঙালী নারী গ্র্যাজুয়েট কামিনী রায়

  অধিকার ডেস্ক    ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:১১

কবি কামিনী রায়
কবি কামিনী রায়

‘সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’  

স্কুল জীবনের পাঠ্যবইয়ে ‘সুখ’ কবিতাটি আমরা সবাই পড়েছি। কবিতাটির লেখিকা কামিনী রায়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে কবিতাটি লিখেছিলেন তিনি। অথচ তিনি যখন জন্মগ্রহণ করেছেন তখন সমাজপতীদের চোখে নারী শিক্ষা ছিল একটি জঘন্য অপরাধের সামিল। সে সময়ে নারী শিক্ষার প্রচলনই ছিল না। কিন্তু তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম বাঙালী গ্র্যাজুয়েট।

‘সুখ’ কবিতা সম্পর্কে কবি কামিনী রায় বলেন, “সকলের ভালো লাগিয়াছে বলিয়া এটা রাখিয়া দিয়াছিলাম। নতুবা বয়সের অনুচিত পাকামি হইয়াছে বলিয়া কবে ছিঁড়িয়া ফেলিতাম। সাড়ে পনের বৎসর ছিল তখন আমার বয়স।” 

কামিনী রায় শুধু কবি ছিলেন না। তিনি একাধারে ছিলেন সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকাও। তিনি ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বরিশাল জেলার বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অতি শৈশবে তার পিতামহ নিমচাঁদ সেন কামিনী রায়কে কবিতা এবং স্ত্রোত্র পাঠ করতে শেখিয়েছিলেন। 

তিনি ছয় বছর বয়সে কলকাতার কেশবচন্দ্র সেনের ‘ভারত আশ্রম মহিলা বিদ্যালয়ে’ প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। পরে তিনি মাইনর পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ‘কুমারী এফ্রয়েডের হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ে’ ভর্তি হন। এরপর পড়ালেখা করেন কলকাতার বিখ্যাত বেথুন স্কুলে। 

১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিভাগে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৮৮৩ সালে এফএ পাস করেন। এবং তিনি সংস্কৃত ভাষা সাহিত্য নিয়ে ১৮৮৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। যেটা ছিল ভারতের প্রথম নারীর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন। 

তৎকালীন সময়ে কামিনী রায় অত্যন্ত আধুনিক মনস্কতার প্রতীক ছিলেন। তিনি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়েও আন্দোলন করেন। এমনকি তিনি ব্রিটিশ শাসিত সময়ে নারীর ভোটাধিকার আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন। সেই আন্দোলনের ফলেই তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে বাঙালী নারীর ভোটাধিকার প্রদান করে।

কামিনী রায় আজীবন সাহিত্যচর্চা করে গেছেন। প্রকাশিত হয়েছে তার অনেকগুলো কাব্য গ্রন্থ। কাব্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘আলো ও ছায়া’, ‘গুঞ্জন’, ‘মাল্য নির্মাল্য’, ‘অশোক সঙ্গীত’, ‘অম্বা নাট্য কাব্য’, ‘ঠাকুমার চিঠি’, ‘দীপ ও ধূপ’, ‘জীবন পথে’ প্রভৃতি। 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবি কামিনী রায়কে তার সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২৯ সালে ‘জগত্তারিনী’ স্বর্ণপদক প্রদান করে। তিনি ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের ২৯ তম অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন। তিনি ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ৬৯ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। 

আজ এই বিদুষী বাঙালী কবির জন্মদিন। দৈনিক অধিকারের পক্ষ থেকে কবি কামিনী রায়কে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
 

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

                                             

৭০, তাজউদ্দিন আহমেদ স্মরণি, মহাখালী, ঢাকা-১২১২।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড