• সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

অনু গল্প

আত্মরক্ষা

সুবর্ণা রায়

  সাহিত্য ডেস্ক ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:১৬

অনু গল্প: আত্মরক্ষা

রেললাইনের ধারে বস্তির সার সার ঝুপড়ির শেষেরটাতে, ছোট্ট ডোবাটার পাশে সুখমণির মাথা গোঁজার ঠাঁই। সবুজ পানায় ঢাকা নোংরা ডোবাটা ব্যবহার করে না কেউ। জোঁকের উৎপাত সামলাতে নুন রাখে হাতের কাছে সুখমণি। তিন হাত বাই তিন হাত ঘরটায় অবশ্য হাতের কাছেই সবকিছু।
এর ওর বাড়ি কাজ করে চলে যায় কোনোরকমে, চলে না শুধু যেন সময়। ষাটোর্ধ সুখমণির তেল ফুরিয়ে আসা লণ্ঠনের নিভু নিভু আলোটার দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে একসময় মনে হয় ছেলেটা পাশে এসে বসেছে যেন। কাঁদছে বিনবিনিয়ে। থেঁতলানো মুখটা রক্তে, লালায় একাকার। হাতে, পিঠে, পায়ে - সারা গায়ে পাথরের, জুতোর, লাঠির মারের চিহ্ন। বিড়বিড় করে একটানা সুরে বলতেই থাকে জিতু, ‘মাঈ, ম্যায় চোর নেহি হুঁ’, ‘মাঈ, ম্যায় চোর নেহি হুঁ’...

বস্তির ছেলেগুলো খেলাধূলো, মারপিট, ঝগড়া শেষ হলে শেষবেলায় লাফাতে লাফাতে আসে পুরো মজাটা লুটে নেবার তাগিদে। দূর থেকে দাঁত বের করে চেঁচিয়ে বলে, ‘সুখি কা বেটা চোর হ্যায়!’

চেঁচিয়ে শাপশাপান্ত করে সুখমণি, ছুটে যায় ছেলেগুলোর দিকে। ঠান্ডা জল ছুঁড়ে দেয় কখনো, শুকনো চোখ দিয়ে হলকা বেরয় তখন তার।

জল ফুটছে ছোট্ট মাটির উনুনে। একমুঠো নুন ফেলে দেয় তাতে সুখমণি। আসুক জোঁকগুলো আজ।

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

                                             

৭০, তাজউদ্দিন আহমেদ স্মরণি, মহাখালী, ঢাকা-১২১২।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড