• সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

শুভ জন্মদিন : যৌবনের প্রতীক কবি হেলাল হাফিজ 

  আইয়ুব ভূঁইয়া ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ২০:০৭

হেলাল হাফিজ
ফাইল ছবি

রাত ১২টা ১ মিনিটে আমার বাসায় সপরিবারে প্রিয় কবি হেলাল হাফিজকে নিয়ে তাঁর ৭১তম জন্মদিনের কেক কাটলাম। শুভ জন্মদিন প্রেম,দ্রোহ,তারুণ্য ও যৌবনের প্রতীক কবি হেলাল হাফিজ। আশির দশকের শুরুতে ফেনী কলেজের দেয়ালে ‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ যখন লিখি তখন কল্পনাও করিনি এই কবির সংগে একদিন আমার দেখা হবে, তিনি আমার বাসায় আসবেন এবং তাঁর সংগে গল্প করার ও আড্ডা দেয়ার সুযোগ পাব। তার সেই অবিনাশি পংক্তি জীবনযুদ্ধে এখনো আমাকে প্রেরণা যোগায়। সময়ের বিবর্তনে হেলাল ভাই এখন আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। আমার স্ত্রীকে বৌমা এবং ছোট কন্যাকে ডল ঢাকেন। মাসে একবার হলেও আমার বাসায় পদধুলি দেন। মাঝে মাঝে আমি প্রেস ক্লাব থেকে তুলে নিয়ে আসি। আমি তুলে আনলেও আড্ডা কিন্ত আমার সংগে জমে না। জমে দুই কবির মধ্যে। আমি দর্শকের ভূমিকায় থাকি। মাঝে মাঝে খাওয়া-দাওয়া সার্ভ করা আমার দায়িত্ব। আমার বাসার কবির রান্নাও আবার হেলাল ভাইয়ের খুব পছন্দ। 

                                                       লেখক ও তার পরিবারের সঙ্গে কবি হেলাল হাফিজ

কবি হেলাল হাফিজের জন্ম ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে। তাঁর কবিতা সংকলন ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর অসংখ্য সংস্করণ হয়েছে। ওই গ্রন্থটির ৩০টি সংস্করণ প্রকাশিত হলেও এরপর গ্রন্থ প্রকাশে কবি ছিলেন নিরব। এরপর ২৬ বছরের নিরবতা ভেঙ্গে ২০১২ সালে আসে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’। 

তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’। এ কবিতার দুটি পংক্তি ‘‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’’ বাংলাদেশের কবিতামোদী ও সাধারণ পাঠকের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন গণআন্দোলনে কর্মীদের উজ্জীবিত করতে রাজনৈতিক নেতারা একে স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতেন। 

হেলাল হাফিজ সাংবাদিক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কাজ করেছেন। দেরীতে হলেও ২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

বরেণ্য কবি হেলাল হাফিজ ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম খোরশেদ আলী তালুকদার । আর মাতার নাম কোকিলা বেগম। ১৯৬৫ সালে নেত্রকোনা দত্ত হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেন। ওই বছরই কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে তিনি তৎকালীন জাতীয় সংবাদপত্র দৈনিক পূর্বদেশে সাংবাদিকতায় যোগদান করেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দৈনিক পূর্বদেশের সাহিত্য সম্পাদক। ১৯৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি দৈনিক দেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদে যোগদান করেন । সর্বশেষ তিনি দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের রাতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান হেলাল হাফিজ। সে রাতে ফজলুল হক হলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় পড়ে সেখানেই থেকে যান। রাতে নিজের হল ইকবাল হলে (বর্তমানে জহুরুল হক) থাকার কথা ছিল। সেখানে থাকলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হতেন। ২৭ মার্চ কারফিউ তুলে নেওয়ার পর ইকবাল হলে গিয়ে দেখেন চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, লাশ আর লাশ। হলের গেট দিয়ে বেরুতেই কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে দেখা। তাকে জীবিত দেখে উচ্ছ্বসিত আবেগে বুকে জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকলেন নির্মলেন্দু গুণ। ক্র্যাকডাউনে হেলাল হাফিজের কী পরিণতি ঘটেছে তা জানবার জন্য সে দিন আজিমপুর থেকে ছুটে এসেছিলেন কবি গুণ। পরে নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের দিকে আশ্রয়ের জন্য দুজনে বুড়িগঙ্গা পাড়ি দেন। 

৭১তম জন্মদিনে কবি হেলাল হাফিজের শতায়ু কামনা করছি।

লেখক : বার্তা সম্পাদক, বাসস।
 

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন inbox.odhikar@gmail.com
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

                                             

৭০, তাজউদ্দিন আহমেদ স্মরণি, মহাখালী, ঢাকা-১২১২।

ই-মেইল: info@odhikar.news

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড