• সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

ভেজাল খাদ্যে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

  তাহজীব মন্ডল নিশাত ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ১০:০৪

খাদ্য
খাদ্যে ভেজাল (ছবি : সংগৃহীত)

বাংলাদেশের কৃষি নির্ভর একটি দেশ। বহিঃবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে এ দেশেও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। নতুন নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত কৃষি ব্যবস্থায় প্রতি মৌসুমেই অধিক ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে ক্রমাগত কৃষি উৎপাদন বাড়লেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বর্তমানে দেশে উৎপাদিত বা প্রক্রিয়াকৃত বেশীরভাগ খাদ্যদ্রব্যই অতি মাত্রায় ভেজালযুক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর। প্রান্তীয় পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদনে সঠিক জ্ঞানের অভাবে আবার কখনো কখনো অসাধুতা এবং বাজারজাতকরণ ও বিপণনে দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবে খাদ্যের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। 

রাস্তার পাশে ছাতার মতো গড়ে ওঠা বিভিন্ন খাবারের দোকানে এমনকি নামিদামী ফাস্টফুড রেস্তোরাঁগুলোতে খাদ্য ভেজাকরনের এই চর্চা দিন দিন বেড়েই চলছে। একদিকে খাদ্যে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান (ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইউরিয়া, পলি অ্যালকালাইন গাইকল) এবং বিষাক্ত কৃত্রিম রং (ইথিফেন বা রাইপেন) মেশানো হচ্ছে, অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় বিক্রি করা হচ্ছে এই সব খাবার। যা বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, চর্মের সংক্রমণ, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাসহ জীবনঘাতী রোগ মেনিনজাইটিস, সেপ্টেসেমিয়া এবং হেপাটাইটিসসহ দীর্ঘস্থায়ী এবং অ-দীর্ঘস্থায়ী রোগ সৃষ্টি করে জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। আবার কীটনাশক (যেমন— ডিডিটি, পিসিবি তৈল), রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ আর শিল্পকারখানা থেকে নির্গত হওয়া বিষাক্ত বর্জ্য মাটি ও পানির মাধ্যমে শস্য, ফল ও সবজিতে প্রবেশ করছে, যা খাদ্যের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে মানবদেহে। 

এখানেই শেষ নয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সময়ের খবরে দেখা যায়, পোলট্রিফিড কারখানাগুলোয় ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে মুরগি ও মাছের খাবার তৈরি হচ্ছে। এসব খাবারে রয়েছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম, যা মুরগির মাংস, ডিম এবং মাছের মাধ্যমে মানুষের দেহে ঢুকে পড়ছে। এগুলো মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ফিড ব্যবহার করে উৎপাদিত মুরগি, ডিম এবং মাছ খেয়ে মানুষের লিভার ও কিডনির মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাছাড়া ক্যান্সার সৃষ্টি করার মতো উপাদান রয়েছে এতে।

তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির। ১) নিয়মিত বিভিন্ন কাচা বাজার মাছের আড়ত এবং হোটেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচলনা করতে হবে। ২) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে অধিকতর জনবলের মাধ্যমে আরো শক্তিশালী সংস্থায় পরিণত করে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩) খাদ্য নিরপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেয়া। ৪) নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ মেনে চলতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করতে হবে। 

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

                                             

৭০, তাজউদ্দিন আহমেদ স্মরণি, মহাখালী, ঢাকা-১২১২।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড