• সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

মিষ্টি'র মহানুভবতার দেয়াল

নাবিলা বুশরা  
১৫ আগস্ট ২০১৮, ১০:২৫

মহানুভবতার দেয়াল

দেয়ালের এক পাশে লেখা ‘তোমার যা প্রয়োজন নেই তা এখানে রেখে যাও’ 
দেয়ালের অপর পাশে লেখা ‘তোমার দরকারী জিনিস পেলে নিয়ে যাও’ 

অসাধারণ এই কথাগুলো কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার দক্ষিণ মুকসুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা। এই দেয়ালে যার যা কিছু অপ্রয়োজনীয় তা রাখা আছে অন্যের জন্য। নিজের কাছে যা তুচ্ছ তা হয়ত অন্যের কাছে প্রয়োজনীয়- এমনই এক ভাবনা থেকে যাত্রা শুরু ‘মহানুভবতার দেয়াল’ এর। 

একজনের কাছে যা দরকারি তা হয়ত অন্যের কোনও প্রয়োজন নেই। সমাজে এই দুই শ্রেণির মানুষের এই দুই ধরনের সংকটকে এক জায়গায় এনে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর এক অভিনব পন্থার উদ্ভব করেছেন মুকসুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাজনীন মিষ্টি। 

এই উদ্যোগে দুর্দান্ত সাড়াও মিলেছে। ‘মহানুভবতার দেয়াল’ জুড়ে শোভা পাচ্ছে পুরোনো পোশাক থেকে শুরু করে নিজেদের ব্যবহৃত নানা ধরনের পণ্য। শিক্ষার্থীরাও অসাধারণ এই কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে দারুণ আনন্দ পাচ্ছে। তারা নিজেদের  অব্যবহৃত/অপ্রয়োজনীয় জামা ও অন্যান্য জিনিসপত্র বারান্দায় রেখে যাচ্ছে। যাদের সেসব পণ্য দরকার তারা তা নিজের মনে করে নিয়ে যাচ্ছে। 

অসাধারণ এই উদ্যোগের শুরুটা কীভাবে হল সেই প্রশ্ন ছিল ‘মহানুভবতার দেয়াল’র উদ্যোক্তা নাজনীন মিষ্টির কাছে। তিনি বলেন, গত ১৪-২৮ জুলাই ময়মনসিংহে ন্যাপ এর ট্রেনিং করার সময় এক শিক্ষিকার কাছ থেকে এই আইডিয়া পান তিনি। তখনই ভেবে নেন এই উদ্যোগ তিনি শুরু করবেন তাঁর নিজের স্কুলে। ভাবনা মতই কাজ শুরু করলেন। শুরুতেই স্কুলের সব বাচ্চা এবং শিক্ষকদের তার এই আইডিয়া সম্পর্কে জানান তিনি। সবাই সাদরে গ্রহণ করেন এই উদ্যোগ। চলতি মাসের ৭ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে এখন স্কুলের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা যুক্ত হয়েছে।’

এতটা সাড়া পাবেন শুরুতে কি ভেবেছিলেন? এ প্রশ্নের জবাবে নাজনীন জানান, শুরুতে আমি একদম ভাবিনি এতটা সাড়া মিলবে। সবাইকে একসাথে করে বুঝানোটাও সহজ হবে এটাও ভাবিনি। সবাই এখন নিজেদের সাধ্যমত সাহায্য করছে। নিজেদের যা কিছু অপ্রয়োজনীয় সব নিয়ে এসে রাখছে এখানে। যার যা দরকার নিয়ে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখতেও দারুণ লাগছে। 

এই উদ্যোগকে কীভাবে সামনে নিয়ে যেতে চান জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনও আমাদের স্কুলের মূল ভবন তৈরি হয়নি। সেটি হয়ে গেলে আরও বড় পরিসরে করার ইচ্ছা আছে। এখন শুধু স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে করছি কিন্তু পরবর্তীতে এলাকার সবাইকে নিয়ে করার ইচ্ছা আছে। আমি চাই এলাকার সকলে এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হোক। ক্ষুদ্র একটা সমাজে যদি কিছুটা ভেদাভেদ কমাতে পারি নিজের চেষ্টায় তাহলে সেটা আমার কাছে অনেক বড় একটা পাওয়া হয়ে থাকবে।

স্কুলের শিশুরা তাদের বাসায় জানাচ্ছে, জিনিস নিয়ে আসছে, এখানে সাজিয়ে রাখছে এমন একটা দৃশ্য দেখাটাই আনন্দের। সবার মাঝে ভালোবাসা ছড়াচ্ছে এমন একটা ভাবনা ভেবে সেটাকে বাস্তবে নিয়ে আসা অনেক কঠিন। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব হয়েছে সবাইকে নিয়েই। এই সাফল্যকে শুধু নিজের বলতে নারাজ নাজনীন। এই উদ্যোগে সবাইকে সাথে না পেলে কখনোই এমনটা সম্ভব ছিল না বলে জানান তিনি। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা করছেন বেশ অনেকদিন ধরেই। কলেজ এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিসিএসের। বিসিএস নন ক্যাডার প্রাপ্ত হয়ে কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার দক্ষিণ মুকসুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। 

নাজনীনের এই উদ্যোগ বেশ সুনাম কুড়াচ্ছে সবার মাঝে। সমাজের সকলেই তার প্রশংসা করছেন। নাজনীন জানান সবার এমন ভালোবাসা নিয়েই তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। 
   

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

                                             

৭০, তাজউদ্দিন আহমেদ স্মরণি, মহাখালী, ঢাকা-১২১২।

ই-মেইল: info@odhikar.news

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড