• সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

এই স্থানগুলোতে গেলে আটক হবেন আপনি!

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪৯

ছবি : সম্পাদিত

পৃথিবীতে ঘুরতে যাওয়ার মতো সুন্দর অনেক স্থান আছে। তবে এখন যে স্থানগুলোর কথা আপনাকে বলবো, সেখানে যেতে পারলেও ফিরে আসতে পারবেন কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। পৃথিবীর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা এই স্থানগুলো জীবনের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকটা নিষিদ্ধই বলা চলে জায়গাগুলোকে। গেলেই আটক করা হবে আপনাকে। কোন সেই স্থানগুলো? দেখে নেয়া যাক চলুন- 

পভেগলিয়া আইল্যান্ড, ভেনিস- 

পভেগলিয়া আইল্যান্ডে না যাওয়ার জন্য এই ইতিহাসই যথেষ্ট। ১৭৯৩ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ প্লেগে আক্রান্ত মানুষকে পোড়ানো হয়েছে এখানে। ১৯২২ সালে এখানে একটি মানসিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। যেখানে চিকিৎসকেরা রোগীদের নির্মমভাবে খুন করেন বলে জানা যায়। 

১৯৬৮ সালে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়। মনে করা হয়, এই দ্বীপের প্রায় অর্ধেক অংশের মাটিই মানুষের শরীরের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। এখন হাসপাতাল বা প্লেগ রোগী না থাকলেও আছে হাসপাতালের দালান আর প্লেগ রোগীদের পোড়ানোর জায়গা। 

ভূত আছে কি না সেটা পরের ব্যাপার। তবে এই দ্বীপে কাউকে দেখা গেলে সাথে সাথে আটক করে ফেলার নির্দেশ আছে।

নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড, আন্দামান আইল্যান্ড-

নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ডের আদিবাসীরা মূলত প্রি-নিওলিথিকদের মধ্যে সর্বশেষ অংশ। আর নিজেদের হিংস্রতার মাধ্যমে এই আদিমতাকে ধরে রাখার পুরো চেষ্টা করে তারা। দ্বীপের ধারে কাছে অন্য কাউকে দেখলেই তীর মারতে শুরু করে এই দ্বীপের মানুষেরা। 

বর্তমানে দ্বীপে মোট ২০০ জন বাসিন্দা বাস করছে। দ্বীপে পা রাখা তো দূরের কথা, দ্বীপের আকাশে কোনো হেলিকপ্টার দেখলেও প্রচন্ড হিংস্র হয়ে যায় তারা। ২০০৬ সালেই এখানে বাইরে থেকে আসা কিছু মানুষের মৃত্যু হয়।

বোহেমিয়ান গ্রোভ, ক্যালিফোর্নিয়া- 

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি স্থান এটি। যেখানে যদি কোনো বাইরের মানুষ প্রবেশ করে ফেলে তাহলে তাকে আটক করা হবে তক্ষুনি। প্রতি জুলাই মাসে মোট তিন সপ্তাহের জন্য বোহেমিয়ান ক্লাবের সমস্ত সদস্য এই স্থানে জড়ো হন। নানারকম অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করেন তারা। 

২০০৮ সালে অ্যালেক্স নামের এক ছেলে এখানে প্রবেশ করে আর নানারকম অদ্ভুত কার্যকলাপ দেখতে পায়। পরবর্তীতে একজন প্রহরী তাকে ধরে ফেললে আটক হয় অ্যালেক্স।

নিহাউ, হাওয়াই-

সবার কাছে নিহাউ দ্বীপটি নিষিদ্ধ বলে পরিচিত। ১৮৬৪ সালে নিহাউয়ের মালিক একে সবার জন্য নিষিদ্ধ করে দেয়। রবিনসন পরিবার এবং হাতেগোনা মাত্র ১৩০টি বাসিন্দা আছে এই দ্বীপে বর্তমানে। 

দ্বীপটির মালিকপক্ষের উত্তরসূরি জানান যে, এই দ্বীপ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল যখন হাওয়াইয়ের অন্যান্য দ্বীপে পোলিওর উপদ্রব শুরু হয়। পোলিওর সমস্যা থেকে বাঁচতেই এমনটা করা হয়েছিল। 

ইহা দা কোয়েমাদা গ্রান্দে, ব্রাজিল- 

গোল্ডেন পিট ভাইপারকে সমস্ত সাপের মধ্যে সবচাইতে ভয়ঙ্কর সাপ বলে মনে করা হয়। এই সাপের কামড়ে ঘণ্টাখানিকের মধ্যেই একজন সুস্থ মানুষ মারা যায়। আর ব্রাজিলের এই দ্বিপটিতে গল্ডেন পিট ভাইপার আছে প্রায় ৪,০০০টি। আপনি হয়তো এমনিতেই এই কথা শুনে আর ব্রাজিলের দ্বীপটিতে যেতে চাইবেন না। 

তবে হ্যাঁ, যদি আপনি তারপরেও যেতে চান তাহলে ব্রাজিলিয়ান নেভি আপনাকে আটক করবে। গবেষক আর নেভির চাকুরেদের অবশ্য এমন কোনো বিধি নিষেধ নেই। তারা ইচ্ছে করলেই এই দ্বীপে যেতে পারেন। 

তবে প্রতি বছরই অনেকে এই দ্বীপে প্রবেশ করতে চায়। কেন? কারণ, একটি গোল্ডেন পিট ভাইপারের দাম প্রায় ৩০ হাজার ডলার। এমন লাভজনক কারণে কেউ কেন একটু ঝুঁকি নেবে না বলুন?

শুধু এই কয়েকটি স্থানই নয়, পৃথিবীর বুকে আছে এমন আরও অনেক নিষিদ্ধ স্থান। আপনার কী যাওয়ার ইচ্ছে বা সাহস আছে এই স্থানগুলোতে?

সূত্র : লিস্টভার্স
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

                                             

৭০, তাজউদ্দিন আহমেদ স্মরণি, মহাখালী, ঢাকা-১২১২।

ই-মেইল: info@odhikar.news

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড