• সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় নারীরা কেন পিছিয়ে?

  রেহেনা আক্তার রেখা ০৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৪৮

উচ্চশিক্ষা
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় নারীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন মনে স্বপ্ন জাগে গ্রাজুয়েশন শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেবে। কিন্তু অনেকের এই স্বপ্ন শুধুই স্বপ্নে থেকে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের। বেশিরভাগ মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে নেমে যায় সংসারে। কেউ কেউ সংসার আর চাকরি নিয়ে সময় পার করলেও কেউ কেউ একেবারে পাক্কা গৃহিণী হয়ে জীবন পার করে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে দেখা যায় হাতে গোনা কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে। অথচ যে মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বর্ষে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন, যার এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার কথা সে হয়ে যাচ্ছে পুরোদমে গৃহিণী। এছাড়া অনেকের আবার সব সুযোগ থাকার সত্ত্বেও ইচ্ছে থাকে না বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে।

বাংলাদেশ শিক্ষা গবেষণা ও পরিসংখ্যান ব্যুরো এক প্রতিবেদন বলছে, নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশ। যার মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের অংশগ্রহণ ৩৭ শতাংশ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২৬ শতাংশ।

উচ্চশিক্ষায় নারীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে বেশ কয়েকটি কারণ। মূলত সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নারীরা উচ্চ শিক্ষা নিতে বিদেশ গমনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তাহীনতা, যৌন হয়রানি, অভিভাবকের মন-মানসিকতা, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ইত্যাদি কারণে মেয়েরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

অনেক অভিভাবক মনে করেন মেয়ে যদি এখন বাইরে পড়তে যায় তাহলে তাকে বিয়ে কখন দেবো। তারা মনে করেন মেয়েকে ভলো একটি পাত্রের হাতে তুলে দিতে পারলেই বেঁচে যায়। অনেকে আবার চিন্তা করেন এত কষ্ট করে মেয়েকে বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করিয়ে শেষ পর্যন্ত উপযুক্ত পাত্র পাওয়া যাবে না। তাই অনেক অভিভাবক মেয়েকে বিদেশে পড়াতে চান না। অবার অনেক পরিবার চিন্তা করে মেয়েকে এত টাকা খরচ করে বিদেশ পাঠিয়ে লাভ কী। তারা তো বিয়ের পর শ্বশুড় বাড়ি চলে যাবে। আমাদের দেশে অনেক মেধাবী নারী শিক্ষার্থী আছেন যারা বিদেশে গিয়ে যদি উচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে প্রতিবছর শত শত বাংলাদেশি গবেষক বের হবে।

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সদ্য মাস্টার্স শেষ করা শিক্ষার্থী তারিন ফাহিমাকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে নারীর পিছিয়ে পড়ার কারণে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক অধিকারকে জানান, ‘উচ্চশিক্ষায় দেশের বাইরে মেয়েরা যেতে চায় না, তার কিছু কারণ রয়েছে। আমার মতে, এক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান কারণ হলো অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার অভাব। বাইরে যাওয়ার জন্য যে পরিমাণ খরচ প্রয়োজন, তা কোনো মেয়ের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই সে অনেকটাই পিছিয়ে যায়। এছাড়া নিরাপত্তার কারণেও অনেক বাবা-মা তাদের কন্যাকে দেশের বাইরে যেতে দিতে চান না। তারা মনে করেন, দেশের বাইরে গেলে কে তাকে নিরাপত্তা দেবে, সমাজ কী বলবে,-এসব চিন্তা করে। মেয়ের বিয়ে দেবে কিভাবে আর এই পর্যায়ে অনেক মেয়েরই বিয়ে হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তার শ্বশুরবাড়ি বা তার স্বামীও বেশিরভাগ সময়ে বাধা দিয়ে থাকে।’

তিনি আরো জানান,  ‘বাইরে যেতে না যাবার অন্য একটি কারণ হলো জ্ঞানের অভাব। যেহেতু এই বাইরে যাবার পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল, আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়েরা এই জটিল প্রক্রিয়াটি এড়িয়ে যায়। আবার যারা যেতে চায়, তারাও অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়। তাই তাদের আগ্রহও কমে যায়। আমার মনে হয় এসব কারণে দেশের মেয়েরা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে।’ 
 

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

                                             

৭০, তাজউদ্দিন আহমেদ স্মরণি, মহাখালী, ঢাকা-১২১২।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড